shono
Advertisement

চার্জ দেওয়া অবস্থায় কানে মোবাইল, বিদ্যুস্পৃষ্ট হয়ে মৃত্যু স্কুলছাত্রীর

বাবার মৃত্যুর চার বছরের মধ্যে মেয়ের প্রাণহানি মানতে পারছেন না সন্তানহারা মা। 
Posted: 08:33 PM Feb 19, 2023Updated: 08:33 PM Feb 19, 2023

বিপ্লবচন্দ্র দত্ত, কৃষ্ণনগর: চার্জ দেওয়া অবস্থায় কানে মোবাইল। কথা বলতে গিয়ে বিদ্যুস্পৃষ্ট হয়ে মৃত্যু হল অষ্টম শ্রেণির এক স্কুলছাত্রী। রবিবার বেলা সাড়ে ১১টা নাগাদ ঘটনাটি ঘটে নদিয়ার শান্তিপুর থানার ফুলিয়ার বেলঘড়িয়া শিবতলাপাড়া এলাকায়। বাবার মৃত্যুর চার বছরের মধ্যে মেয়ের প্রাণহানি মানতে পারছেন না সন্তানহারা মা। 

Advertisement

মৃত স্কুলছাত্রীর নাম তৃষা হালদার(১৪)। ফুলিয়া বেলঘড়িয়া শিবতলা পাড়ায় তৃষার মামা গোবিন্দ দাসের বাড়ি। ইদানীং তৃষা মামার বাড়িতে থেকেই বড় হচ্ছিল। তৃষা ফুলিয়া বালিকা বিদ্যালয় স্কুলের অষ্টম শ্রেণির ছাত্রী। বছর চারেক আগে তার বাবার মৃত্যু হয়। বাবা মারা যাওয়ার পর তার মা সোমা হালদার শ্বশুরবাড়ি ছেড়ে তৃষাকে নিয়ে তাঁর ভাই গোবিন্দ দাসের বাড়িতে চলে আসেন। একমাত্র মেয়ের মুখের দিকে তাকিয়ে তৃষার মা সোমা হালদার যাবতীয় কষ্ট সহ্য করে তৃষাকে বড় করার চিন্তাভাবনা করেছিলেন। কিন্তু আবারও তাঁর জীবনে ঘটে গেল অঘটন। মাত্র ১৪ বছর বয়সেই অকালে হারালেন তাঁর একমাত্র মেয়ে তৃষাকে।

[আরও পড়ুন: নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় ফের গ্রেপ্তার ২ এজেন্ট, এবার সিবিআইয়ের জালে তাপস ও নীলাদ্রি]

রবিবার সকাল সাড়ে ১১টা নাগাদ তৃষার মা-সহ তাঁর ভাইয়ের বাড়ির অনেকেই শিবরাত্রির উপোস করেন। বারান্দায় বসে গল্প করছিলেন। এসেছিলেন তৃষার পিসেমশাই রঞ্জিত সরকারও। বারান্দায় বসে গল্প করার ফাঁকে তৃষা ঘরের মধ্যে এক্সটেনশন কডের মাধ্যমে নিজের মোবাইল চার্জে বসিয়েছিল। চার্জে থাকা অবস্থাতেই তৃষার মোবাইলে একটি ফোন আসে। মোবাইল কানে দিয়ে কথা বলাও শুরু করে তৃষা। যদিও সেই ফোন কেটে গিয়েছিল। কিন্তু কথা বলার সময় তৃষা বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়। বাইরে সকলে গল্পগুজবে মত্ত থাকায় কেউ বিষয়টি খেয়াল করেননি প্রথমে। তৃষার মামির মেয়ে ঘরে ঢুকে তার দিদিকে ওই অবস্থায় দেখতে পেয়ে চিৎকার করতে শুরু করে।

তড়িঘড়ি ঘরে ঢুকে লাঠি দিয়ে তৃষাকে বিদ্যুৎমুক্ত করা হয়। এরপর তাকে ফুলিয়া হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। যদিও কর্তব্যরত চিকিৎসক তৃষাকে মৃত বলে ঘোষণা করেন। এই ঘটনায় এলাকায় নেমেছে শোকের ছায়া। মাত্র চার বছর আগে স্বামীকে হারান তৃষার মা। এবার একমাত্র মেয়েকেও অকালে হারিয়ে ফেলায় শোকে মুহ্যমান তিনি। প্রতিবেশীরাও তাঁকে সান্ত্বনা দেওয়ার ভাষা খুঁজে পাচ্ছেন না।

[আরও পড়ুন: হাই কোর্টের নির্দেশে চাকরি হারিয়েছেন গ্রুপ-ডি পদে কর্মরত স্বামী, অস্বাভাবিক মৃত্যু স্ত্রীর]

Sangbad Pratidin News App

খবরের টাটকা আপডেট পেতে ডাউনলোড করুন সংবাদ প্রতিদিন অ্যাপ

Advertisement