চূড়ান্ত অমানবিক! মানসিক ভারসাম্যহীন রোগীকে বেদম প্রহার সরকারি হাসপাতালে

06:35 PM Aug 01, 2020 |
Advertisement

সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক: মানসিক ভারসাম্যহীন রোগীর সঙ্গে চূড়ান্ত অমানবিক ব্যবহারের নজির মুর্শিদাবাদ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে। বাবা, মায়ের সামনেই তাঁকে ব্যাপক মারধর করার অভিযোগ হাসপাতালের চার নিরাপত্তারক্ষীর (Security Guards) বিরুদ্ধে। তার জেরে গুরুতর অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন যুবক। অবশ্য কর্তৃপক্ষের কানে এই খবর পৌঁছতেই নেওয়া হয়েছে কড়া পদক্ষেপ। অভিযুক্ত চার নিরাপত্তারক্ষীকে চিহ্নিত সঙ্গে সঙ্গে সরিয়ে দেওয়া হয়। কিন্তু সরকারি হাসপাতালের ভিতরে এমন অমানবিক ঘটনায় সমালোচনা শুরু হয়েছে নানা মহলে।

Advertisement

মানসিক ভারসাম্যহীন ছেলে সপ্তর্ষিকে নিয়ে মুর্শিদাবাদ মেডিক্যাল কলেজে চিকিৎসা করাতে গিয়েছিলেন স্থানীয় বাসিন্দা, পেশায় শিক্ষক সুদীপ্ত চক্রবর্তী। সপ্তর্ষি প্রায়শয়ই অসুস্থ হওয়ায় তিনি বরাবর এখানে আসেন চিকিৎসা করাতে। কিন্তু এমন ঘটনা যে ঘটে যাবে, ভাবতেই পারেননি তাঁরা। জানা গিয়েছে, শনিবার বেলার দিকে ছেলেকে নিয়ে মেডিক্যাল কলেজে যান সুদীপ্তবাবু ও তাঁর স্ত্রী। তাকে নিয়ে যাওয়া হয় হাসপাতালের জরুরি বিভাগে। মানসিক ভারসাম্যহীন হওয়ায় না বুঝেই সপ্তর্ষি একটি কাচের টেবিলের উপর সজোরে টর্চ দিয়ে আঘাত করে। কাচ ভেঙে যায় টেবিলের।

Advertisement

Trending :

[আরও পড়ুন: বিষ্ণুপুরের মল্ল রাজবাড়িতে চলল গুলি, উদ্ধার রাজপরিবারের সদস্যের রক্তাক্ত দেহ]

কাচ ভাঙার শব্দ শুনে ছুটে আসেন হাসপাতালের নিরাপত্তারক্ষীরা। অভিযোগ, সপ্তর্ষিকে চারজন মিলে বেধড়ক মারধর করতে থাকে, তাঁর বাবা-মায়ের সামনেই। সুদীপ্তবাবু ও তাঁর স্ত্রী রীতিমত কাকুতিমিনতি করতে থাকেন ছেলের হয়ে। সপ্তর্ষি মানসিকভাবে সুস্থ নয়, এ কথা জানিয়ে তাঁরা বারবার অনুরোধ করেন যাতে তাকে রেহাই দেওয়া হয়। কিন্তু কে শোনে কার কথা? বেদম প্রহারের জেরে আরও অসুস্থ হয়ে পড়ে সপ্তর্ষি। তখন তাকে হাসপাতালে ভরতি করিয়ে চিকিৎসা শুরু হয়।

[আরও পড়ুন: ‘ওঁর উপর চাপ ছিল’, বিপ্লব মিত্রর তৃণমূলে প্রত্যাবর্তনের কারণ ব্যাখ্যা দিলীপ ঘোষের]

মানসিক ভারসাম্যহীন রোগীর সঙ্গে এমন অমানবিক আচরণ করে অবশ্য পার পায়নি ওই নিরাপত্তারক্ষীরা। সঙ্গে সঙ্গে তাদের চিহ্নিত করে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নিয়েছে মুর্শিদাবাদ মেডিক্যাল হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। তাদের কাজ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। ছেলেকে চিকিৎসা করাতে নিয়ে এসে যে ভয়াবহ অভিজ্ঞতার সাক্ষী রইলেন শিক্ষক সুদীপ্ত চক্রবর্তী ও তাঁর স্ত্রী, তাতে রীতিমত আতঙ্কিত তাঁরা। ছেলের অসুস্থতা নিয়ে চরম উদ্বিগ্ন।

এ রাজ্যের স্বাস্থ্য পরিকাঠামো ও পরিষেবা উন্নয়নে মুখ্যমন্ত্রীর মূল মন্ত্র, রোগীর প্রতি সহানুভূতিশীল হতে হবে চিকিৎসক, স্বাস্থ্যকর্মীদের। কোনও পরিস্থিতিতে কারও সঙ্গে দুর্ব্যবহার করা চলবে না। কিন্তু আজ মুর্শিদাবাদ মেডিক্যাল কলেজে মানসিক ভারসাম্যহীন রোগীর সঙ্গে যে ঘটনা ঘটল, তা পরিষেবা নিয়ে প্রশ্ন তুলে দিচ্ছে।

The post চূড়ান্ত অমানবিক! মানসিক ভারসাম্যহীন রোগীকে বেদম প্রহার সরকারি হাসপাতালে appeared first on Sangbad Pratidin.

Advertisement
Next