রাস্তার ধারে যেন সেকেন্ড-হ্যান্ড গাড়ির 'শোরুম'। দুর্গাপুরের প্রাণকেন্দ্র সিটি সেন্টারে রাস্তার গুরুত্বপূর্ণ অংশ দখল করে চলছে পুরনো গাড়ি কেনাবেচার কারবার! রাস্তার উপর সারি দিয়ে দাঁড় করিয়ে রাখা হচ্ছে একাধিক সেকেন্ড-হ্যান্ড গাড়ি। প্রতিটিতেই লেখা - 'ফর সেল'। অভিযোগ, ব্যবসার কাজে সরকারি রাস্তার অংশ ব্যবহার করায় বাড়ছে যানজট, সমস্যায় পড়ছেন সাধারণ মানুষ। তাই এধরনের অবৈধ পার্কিং ও রাস্তা দখলের বিরুদ্ধে অভিযানে নামল দুর্গাপুর ট্রাফিক বিভাগ। এনিয়ে দুর্গাপুর পশ্চিমের বিজেপি বিধায়ক লক্ষ্ণণচন্দ্র ঘোড়ুই কটাক্ষের সুরে জানিয়েছেন, তৃণমূল জমানা থেকে সরকারি জায়গা দখল এভাবে পার্কিং হচ্ছে। এবার আর চলবে না। গাড়ি সরিয়ে রাস্তা দখলমুক্ত না করে, তাহলে কড়া ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও হুঁশিয়ারি তাঁর।
সিটি সেন্টারের কবিগুরু এলাকা থেকে ভগৎ সিং মোড় যাওয়ার ব্যস্ত রাস্তায় ডিভাইডার সংলগ্ন অংশে দীর্ঘদিন ধরেই পুরনো গাড়ি দাঁড় করিয়ে রাখার অভিযোগ উঠছিল। অভিযোগ, কয়েকজন সেকেন্ড-হ্যান্ড গাড়ি বিক্রেতা নিজেদের ব্যবসার কাজে রাস্তার ওই অংশ ব্যবহার করছিলেন। ফলে সরকারি রাস্তার একটি অংশ কার্যত গাড়ির শোরুমের মতো হয়ে উঠেছিল।
দুর্গাপুরের সিটি সেন্টারের কাছে রাস্তা ও ডিভাইডারের পাশের অংশে এমনই অবৈধভাবে গাড়ি পার্ক করানো থাকে, ছবি: সনাতন গড়াই
সিটি সেন্টারের কবিগুরু এলাকা থেকে ভগৎ সিং মোড় যাওয়ার ব্যস্ত রাস্তায় ডিভাইডার সংলগ্ন অংশে দীর্ঘদিন ধরেই পুরনো গাড়ি দাঁড় করিয়ে রাখার অভিযোগ উঠছিল। অভিযোগ, কয়েকজন সেকেন্ড-হ্যান্ড গাড়ি বিক্রেতা নিজেদের ব্যবসার কাজে রাস্তার ওই অংশ ব্যবহার করছিলেন। ফলে সরকারি রাস্তার একটি অংশ কার্যত গাড়ির শোরুমের মতো হয়ে উঠেছিল। ব্যস্ত এই রাস্তায় একসঙ্গে একাধিক গাড়ি দাঁড়িয়ে থাকায় যান চলাচলে বেশ সমস্যা হচ্ছিল। পথচারী থেকে শুরু করে নিত্যযাত্রী, সকলকেই যানজটের মুখে পড়তে হচ্ছিল।
শুধু ব্যবসার কাজে নয়, ব্যক্তিগত কাজেও অনেকে রাস্তার ওই অংশে গাড়ি রেখে চলে যাচ্ছিলেন বলে অভিযোগ। এই পরিস্থিতিতে এবার অভিযানে আসানসোল দুর্গাপুর ট্রাফিক বিভাগ। ডিভাইডার সংলগ্ন অংশে দাঁড়িয়ে থাকা গাড়িগুলি দ্রুত সরিয়ে নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়। সরকারি রাস্তা, ডিভাইডার সংলগ্ন অংশ কিংবা যান চলাচলের গুরুত্বপূর্ণ জায়গা দখল করে যাতে আর কেউ গাড়ি পার্ক না করে, তার জন্য ব্যবসায়ী ও সাধারণ মানুষকে সতর্ক করা হয়েছে।
দুর্গাপুর পশ্চিমের বিজেপি বিধায়ক লক্ষ্মণ ঘোড়ুইয়ের বক্তব্য, "তৃণমূল জামানা থেকে সরকারি জায়গা দখল সরকারি জায়গায় পার্কিং চলে এসেছে। এইবার আর এসব চলবে না। আমি পরিষ্কার বলছি, যারা সরকারি জায়গা দখল করেছেন, তারা দ্রুত এসব সরিয়ে দিন। না হলে পুলিশ কড়া ব্যবস্থা নেবে। আর যদি কেউ সরকারি নিয়ম না মানে আর যদি অঘটন ঘটে তাহলে তার দায় কিন্তু সেই পুরনো গাড়ি কেনাবেচার মালিকদের নিতে হবে।"
দুর্গাপুর ট্রাফিক বিভাগের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, আগামী দিনে একই ধরনের নিয়মভঙ্গের ঘটনা অর্থাৎ রাস্তা আটকে গাড়ি পার্ক করলে জরিমানা-সহ আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে। আসানসোল দুর্গাপুর পুলিশ কমিশনারেটের এসিপি ট্রাফিক (৩) রাজকুমার মালাকার বলেন, “অবৈধ পার্কিং এবং সরকারি জায়গা দখল করে কেন পার্কিং করা হচ্ছে, সেই নিয়ে আমাদের অভিযান চলছে। সাধারণ মানুষের যাতায়াতের ক্ষেত্রে যাতে সমস্যা না হয়, সেজন্য তৎপর ট্রাফিক বিভাগ।” দুর্গাপুর পশ্চিমের বিজেপি বিধায়ক লক্ষ্মণ ঘোড়ুইয়ের বক্তব্য, "তৃণমূল জামানা থেকে সরকারি জায়গা দখল সরকারি জায়গায় পার্কিং চলে এসেছে। এইবার আর এসব চলবে না। আমি পরিষ্কার বলছি, যারা সরকারি জায়গা দখল করেছেন, তারা দ্রুত এসব সরিয়ে দিন। না হলে পুলিশ কড়া ব্যবস্থা নেবে। আর যদি কেউ সরকারি নিয়ম না মানে আর যদি অঘটন ঘটে তাহলে তার দায় কিন্তু সেই পুরনো গাড়ি কেনাবেচার মালিকদের নিতে হবে।"
শুধু দুর্গাপুরে নয়, খাস কলকাতার অদূরে গড়িয়া-বারুইপুরের রাস্তাতেও এভাবেই ঠিক সেকেন্ড হ্যান্ড গাড়ির কার্যত মেলা বসে। লেখা থাকে - ফর সেল। রাস্তার বেশ খানিকটা অংশ এভাবে দখল হওয়ায় যানবাহন থেকে পথচারীর, সকলেই সমস্যায় পড়ে।
