shono
Advertisement

Breaking News

Vishva Bharati

বিশ্বভারতীতে ওয়াংচুকের সমর্থনে বিক্ষোভ এসএফআইয়ের, 'চিনের দালাল' বলে চড়াও এবিভিপি

এবিভিপির বোলপুর নগর সম্পাদক সুরেশ লোহারের পালটা দাবি, 'ওরা দেশদ্রোহী স্লোগান দিচ্ছিল।'
Published By: Sucheta SenguptaPosted: 06:23 PM Jul 18, 2026Updated: 06:25 PM Jul 18, 2026

দিল্লি থেকে শান্তিনিকেতন। অনশনরত পরিবেশকর্মী-শিক্ষাবিদ সোনম ওয়াংচুকের সমর্থনে আন্দোলনের আঁচ এবার বিশ্বভারতী বিশ্বভারতী বিশ্ববিদ্যালয়ে। তাঁর সমর্থনে এসএফআইয়ের অবস্থান বিক্ষোভে আচমকাই চড়াও হয়ে হামলা চালানোর অভিযোগ উঠল এবিভিপি-র বিরুদ্ধে। বাম ছাত্র সংগঠন 'চিনের দালালি' করছে বলে পালটা অভিযোগ বিজেপিপন্থী ছাত্রদের। এনিয়ে শনিবার দু'পক্ষের সংঘর্ষে ক্যাম্পাস উত্তপ্ত হয়ে উঠল।

Advertisement

নিট কেলেঙ্কারির জেরে শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ দাবি করে গত ২০ দিন ধরে দিল্লির যন্তরমন্তরে অনশন করছিলেন সোনম ওয়াংচুক। শনিবার সকালেই ওয়াংচুককে পুলিশ অনশনস্থল থেকে তুলে নিয়ে গিয়ে সফদরজং হাসপাতালে ভর্তি করেছে। জোর করে তাঁর অনশনভঙ্গের চেষ্টা করছে। দিল্লি পুলিশের এই পদক্ষেপে ক্ষোভ প্রকাশ করে তাঁর পরিবার। সেই ঘটনার প্রতিবাদ এবং সোনমের দাবির সমর্থনে এদিন শান্তিনিকেতনে ২৪ ঘণ্টার প্রতীকী অনশনে বসেন বাম ছাত্র সংগঠন-সহ কয়েকজন সাধারণ ছাত্রছাত্রী। বিশ্বভারতীর আনন্দ পাঠশালা সংলগ্ন এলাকায় শুরু হয় প্রতীকী অনশন। সেখানে গিটার বাজিয়ে রবীন্দ্রসঙ্গীত গাওয়া থেকে ছবি আঁকার মধ্যে দিয়ে নিজেদের প্রতিবাদ জানাচ্ছিলেন তাঁরা। এমনকী শিক্ষাক্ষেত্রে স্বচ্ছতার দাবিও তোলা হয়।

এসএফআইয়ের জেলা সম্পাদক সৌভিক দাস বকসির কথায়, ‘‘বিজেপি বহিরাগতদের নিয়ে এসে ক্যাম্পাসের ছাত্রছাত্রীদের উপর আক্রমণ চালিয়েছে। বাইরের সমাজবিরোধীদের জুটিয়ে এনে বিশ্বভারতীর ছাত্রীদের মারধর, গালিগালাজ, শারীরিক হেনস্থা করছে আরএসএসের সমর্থকরা। নিট দুর্নীতি থেকে বেকারত্বের বিরুদ্ধে আন্দোলনকারী সোনম ওয়াংচুকের সমর্থনে সাধারণ অনশনকারীদের উপর আক্রমণ করে ওরা প্রমাণ করল যে ওরা শিক্ষা, চাকরি ও কর্মসংস্থানের দাবির বিরোধী, দেশের ছাত্রসমাজের বিরোধী।''

বিশ্বভারতীতে সোনম ওয়াংচুকের সমর্থনে এসএফআইয়ের অবস্থান বিক্ষোভ, নিজস্ব ছবি

অভিযোগ, প্রতিবাদ যখন তুঙ্গে ঠিক সেই সময় এবিভিপির কয়েকজন ছাত্রছাত্রী ও কর্মী সেখানে পৌঁছে অনশন তুলে দেওয়ার চেষ্টা করেন। পোস্টার ছিঁড়ে ফেলা হয়। এসএফআইয়ের সদস্যদের সঙ্গে ধস্তাধস্তি হয় তাঁদের। মুহূর্তে উত্তপ্ত হয়ে ওঠে এলাকা। দুই পক্ষের পাল্টা স্লোগানে থমকে যায় পরিস্থিতি। কিছু সময়ের জন্য রাস্তার যান চলাচলও ব্যাহত হয়। যদিও হামলা বা মারধরের অভিযোগ সম্পূর্ণ অস্বীকার করেছে এবিভিপি। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছয় শান্তিনিকেতন থানার বিশাল পুলিশ বাহিনী। পুলিশ হস্তক্ষেপ করার পর পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে।

এবিভিপির বোলপুর নগর সম্পাদক সুরেশ লোহার সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, ‘‘এরা সাধারণ ছাত্র বলে নিজেদের পরিচয় দিলেও আসলে বামপন্থী। দেশদ্রোহী স্লোগান দিচ্ছিল ওরা। চিনের দালালি করছিল। আমাদের এক সদস্যকে দেখেছে। আমরা সেই ঘটনার প্রতিবাদ করেছি। রবীন্দ্রনাথের মাটিতে দেশদ্রোহীদের ঠাঁই নেই।''

এদিন অনশনকারী ছাত্র অনুরাগ নায়েক বলেন, ‘‘আমরা শান্তিপূর্ণভাবে অনশন করছিলাম। হঠাৎ এবিভিপির কর্মীরা এসে হামলা চালায়। আন্দোলন ভাঙার চেষ্টা করে।'' এসএফআইয়ের জেলা সম্পাদক সৌভিক দাস বকসির কথায়, ‘‘বিজেপি বহিরাগতদের নিয়ে এসে ক্যাম্পাসের ছাত্রছাত্রীদের উপর আক্রমণ চালিয়েছে। বাইরের সমাজবিরোধীদের জুটিয়ে এনে বিশ্বভারতীর ছাত্রীদের মারধর, গালিগালাজ, শারীরিক হেনস্থা করছে আরএসএসের সমর্থকরা। নিট দুর্নীতি থেকে বেকারত্বের বিরুদ্ধে আন্দোলনকারী সোনম ওয়াংচুকের সমর্থনে সাধারণ অনশনকারীদের উপর আক্রমণ করে ওরা প্রমাণ করল যে ওরা শিক্ষা, চাকরি ও কর্মসংস্থানের দাবির বিরোধী, দেশের ছাত্রসমাজের বিরোধী।''

অন্যদিকে, এবিভিপির বোলপুর নগর সম্পাদক সুরেশ লোহার সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, ‘‘এরা সাধারণ ছাত্র বলে নিজেদের পরিচয় দিলেও আসলে বামপন্থী। দেশদ্রোহী স্লোগান দিচ্ছিল ওরা। চিনের দালালি করছিল। আমাদের এক সদস্যকে দেখেছে। আমরা সেই ঘটনার প্রতিবাদ করেছি। রবীন্দ্রনাথের মাটিতে দেশদ্রোহীদের ঠাঁই নেই।'' তবে বাম ছাত্র সংগঠনের তোলা হামলা, মারধর ও পোস্টার ছেঁড়ার সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করেছে এবিভিপি।

Sangbad Pratidin News App

খবরের টাটকা আপডেট পেতে ডাউনলোড করুন সংবাদ প্রতিদিন অ্যাপ

হাইলাইটস

Highlights Heading
Advertisement