উত্তরবঙ্গের সীমান্ত, বিশেষ করে চিকেনস নেকের নিরাপত্তা নিয়ে খামতি নয়। সীমান্ত নিরাপত্তা সংক্রান্ত বিষয় খতিয়ে দেখতে উত্তরবঙ্গে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। সঙ্গে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী ও অন্যান্য আধিকারিকরা। আজ, শনিবার বেলায় রাজগঞ্জ ব্লকের জুম্মা গছ সীমান্ত পরিদর্শন করেন শাহ। সীমান্তে নিচ্ছিদ্র নিরাপত্তা ও মহানন্দা নদীর উন্মুক্ত পথে অনুপ্রবেশ রুখতে কড়া পদক্ষেপের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে৷ মুখ্যমন্ত্রী ছাড়াও সঙ্গে ছিলেন বিএসএফ আধিকারিকরা। সীমান্ত এলাকায় বৃক্ষরোপন করেন শাহ। বিএসএফ আধিকারিক ও কর্মীদের সঙ্গেও কথা বলেন তিনি।
সীমান্তে নজর শাহের। ছবি সূত্র-বিএসএফ।
এদিন সকালে শিলিগুড়িতে বিএসএফ-এর ‘প্রহরী সম্মেলনে’ যোগ দেন শাহ। উত্তরবঙ্গ বিশেষ করে চিকেনস নেকের নিরাপত্তা নিয়ে ম্যারাথন বৈঠক হওয়ার কথা। এদিন সীমান্ত থেকে ফিরে উত্তরকন্যায় বৈঠকে বসেছেন শাহ। প্রসঙ্গত, এবারই প্রথম উত্তরকন্যায় এলেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। সেই বৈঠকে রয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী, সেনাবাহিনীর আধিকারিকরা। দেশের এই অংশের সীমান্ত এলাকায় চিন নজরদারি চালাচ্ছে! গত দু'বছরে প্রতিবেশী বাংলাদেশেও রাজনৈতিক অস্থিরতা ও শাসকের পালাবদল হয়েছে। সেদেশ থেকে ভারত বিদ্বেষী মন্তব্যও একাধিক সময় এসেছে! সীমান্ত এলাকাতেও বেড়েছে যথেষ্ট চাপ। উত্তরবঙ্গের চিকেনস নেক অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। দেশের ভৌগোলিক অখণ্ডতা, সার্বভৌমত্ব রক্ষায় এই চিকেনস নেক বা শিলিগুড়ি করিডোর যথেষ্ট সংবেদনশীল। রাজ্যের পালাবদলে এবার এই এলাকার নজরদারিতে জোর দিচ্ছে কেন্দ্র।
বিএসএফ আধিকারিক ও জওয়ানদের সঙ্গে ছবি তুলছেন অমিত শাহ ও শুভেন্দু অধিকারীর। ছবি সূত্র- বিএসএফ
এই অঞ্চলের সুরক্ষায় এদিন বিশেষ জোর দেওয়ার কথাও হয়েছে বলে প্রাথমিক খবর। ফুলবাড়ি এলাকার ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তের জুম্মা গছ গ্রাম যথেষ্ট সংবেদনশীল। এই অঞ্চল দিয়েই বয়ে গিয়েছে মহানন্দা। নদীপথে বাংলাদেশ থেকে অনুপ্রবেশ, চোরাচালানের ঘটনাও অতীতে হয়েছে বলে অভিযোগ। সীমান্তের কয়েক কিমি এলাকা এই মুহূর্তে বিএসএফ ও পুলিশের যৌথ নজরদারিতে রয়েছে। এদিন উত্তরবঙ্গের সীমান্ত এলাকায় ত্রিস্তরীয় ফেন্সিং নির্মাণের কাজ দ্রুত করার নির্দেশও দিয়েছেন শাহ। রাজ্যে মোট ১০টি নতুন বর্ডার আউটপোস্ট উদ্বোধনের ঘোষণাও হয়েছে। সেগুলির মধ্যে উত্তরবঙ্গ ফ্রন্টিয়ারে দুটি বিওপি তৈরি হচ্ছে বলে প্রাথমিকভাবে জানা গিয়েছে।
সন্ধ্যা ছ'টা পর্যন্ত তিনটি গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক রয়েছে। যার মধ্যে 'চিকেনস নেক'-এর নিরাপত্তা, অবৈধ অনুপ্রবেশ, কেন্দ্র-রাজ্য সমন্বয়, নতুন ফৌজদারি আইন কার্যকর করা এবং জন্ম-মৃত্যু নিবন্ধন সংক্রান্ত পর্যালোচনা অন্যতম।
