স্বামীর মৃত্যুর পর থেকে একমাত্র ছেলেকে আগলেই বেঁচে থাকা। দুর্ঘটনায় সেই ছেলেরই মৃত্যু। সন্তানের মৃত্যুশোক সহ্য করতে পারেননি একাকি মা। আর সেই যন্ত্রণায় আত্মঘাতী প্রৌঢ়া মা। বৃহস্পতিবার শ্যামনগর ৪ নম্বর বিবেকানন্দগড়ের এই ঘটনায় নেমেছে শোকের ছায়া। স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, মৃত যুবকের নাম সুশোভন টিকাদার। বছর একত্রিশের ওই যুবক একটি বহুজাতিক সংস্থার কলকাতার অফিসের কর্মী।
বাবার মৃত্যুর পর পরিবার বলতে শুধু মা মঞ্জু টিকাদারই ছিলেন। অন্যান্য দিনের মতো বুধবারও বাইকে কাজে গিয়েছিলেন সুশোভন। রাতে কল্যাণী এক্সপ্রেসওয়ে ধরে ফেরার পথে ঘটে মর্মান্তিক দুর্ঘটনা। ওয়্যারলেস মোড় সংলগ্ন এলাকায় নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে তিনি ধাক্কা মারেন সামনের একটি চার চাকার গাড়িতে। তৎক্ষণাৎ রাস্তায় ছিটকে পড়েন। গুরুতর জখম হন। উপস্থিত এলাকাবাসী ও মোহনপুর থানার পুলিশ রক্তাক্ত অবস্থায় তাঁকে উদ্ধার করে। প্রথমে একটি বেসরকারি হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। পরবর্তীতে বারাকপুর বিএন বসু মহকুমা হাসপাতালে স্থানান্তরিত করা হয়। সেখানেই চিকিৎসকরা যুবককে মৃত বলে ঘোষণা করেন। তাঁর মা এই খবর পেয়ে ছুটে যান হাসপাতালে। তখন উপস্থিত পরিচিতদের সামনেই কান্না ভেজা মঞ্জুদেবী বলেছিলেন, "তুই যা, আমিও আসছি।" সে কথায় অবশ্য কেউ গুরুত্ব দেননি।
একমাত্র সন্তানহারা মাকে অন্যান্যরা পৌঁছে দিয়েছিলেন বাড়িতে। এরপর বৃহস্পতিবার প্রতিবেশীরা বাড়ি ভিতর থেকে তালাবন্ধ দেখে সন্দেহ করেন। অনেক ডাকাডাকি করেও সাড়া পাননি। খবর দেওয়া হয় বাসুদেবপুর থানায়। পুলিশ পৌঁছে তালা ভাঙে। ভিতর থেকে বছর সাতন্নর প্রৌঢ়ার ঝুলন্ত দেহ উদ্ধার করা হয়। নিহত মহিলার পারিবারিক বন্ধু সর্বাণী রায় বলেন, "সুশোভন নাগেরবাজারে কাজ করত। রাতে বাড়ি ফেরার সময় দুর্ঘটনা ঘটে। ওঁর মা দেখে এসে ফেরার পর থেকে আর কারোর সঙ্গে কথা বলেনি। তারপর তিনিও গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেন। বাড়িতে শুধু মা ও ছেলে থাকত। ওর বাবা আগেই মারা গিয়েছেন।" এই ঘটনায় গোটা এলাকায় নেমেছে শোকের ছায়া।
