বিশ্বকাপ জয়ী ভারতীয় ক্রিকেটার রিচা ঘোষের নাম 'বিচারাধীন'। কিন্তু কেন বিচারাধীন, তা নিয়ে চর্চা অব্যাহত। অবশেষে এই প্রসঙ্গে নিজেদের অবস্থান স্পষ্ট করল রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের দফতর। রবিবার এক্স হ্যান্ডেলে একটি পোস্টের মাধ্যমে তারা জানিয়ে দেয় যান্ত্রিক ত্রুটি ও প্রশাসনিক স্তরে মামলা নিষ্পত্তির বিলম্বের জন্যই এই ধরনের পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে।
প্রায় চারমাসের এসআইআর শেষে ২৮ ফেব্রুয়ারি, শনিবার রাজ্যে প্রকাশিত হয়েছে চূড়ান্ত ভোটার তালিকা। তালিকায় ‘বিচারাধীন’ বা ‘অমীমাংসিত’ হিসেবে এমন কারও কারও নাম চিহ্নিত করা হয়েছে, যা একেবারেই বিস্ময়কর! চূড়ান্ত ভোটার তালিকায় বিশ্বকাপজয়ী ক্রিকেটার, শিলিগুড়ির বাসিন্দা রিচা ঘোষের নামের পাশেও লেখা, ‘অমীমাংসিত’ বা ‘আন্ডার অ্যাজুডিকেশন’। এর পরেই প্রশ্ন ওঠে, যিনি দেশকে বিশ্বকাপ শিরোপা এনে দিয়েছেন, তাঁর নাগরিকত্ব নিয়ে কীভাবে সংশয় প্রকাশ করল নির্বাচন কমিশন?
সিইও দপ্তর ওই বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, ২০০২ সালের ভোটার তালিকা অনুযায়ী খসড়া তালিকায় রিচা ঘোষের তথ্য ছিল 'অ্যানম্যাপড' বা অসংলগ্ন অবস্থায়। এই ত্রুটি সংশোধনের জন্য রিচার পরিবারের পক্ষ থেকে শুনানিতে অংশ নেওয়া হয়েছিল। সেই মতো নথিও জমা পড়ে। তবে সময় মতো মামলার নিষ্পত্তি করেননি নির্বাচনী আধিকারিক। এরকম জটিলতার ক্ষেত্রে স্বয়ংক্রিয়ভাবে কোনও নাম বিচারবিভাগীয় পর্যালোচনার অধীনে চলে যায়। রিচার ক্ষেত্রেও একই ঘটনা ঘটেছে।
জানা গিয়েছে, এই মামলার দ্রুত নিষ্পত্তি কেন করা হল না, সেই বিষয়ে সংশ্লিষ্ট নির্বাচনী আধিকারিকদের (ইআরও, এইআরও) কাছে জবাবদিহি চাইবে কমিশন। এই বিষয়টি যথেষ্ট গুরুত্ব সহকারে দেখা হচ্ছে বলে জানিয়েছে সিইও দপ্তর। উল্লেখ্য, শিলিগুড়ির ১৯নং ওয়ার্ডের বাসিন্দা রিচা ঘোষ ও তাঁর পরিবার। সকলে এখানেই থাকেন। খেলার প্রয়োজনে রিচা দেশ-বিদেশে ঘুরে বেড়ালেও অন্য সময় তিনি শিলিগুড়ির এই এলাকাতেই থাকেন। তা সত্ত্বেও তিনি ভোটার কি না, এই সংশয় তৈরি হল কেন নির্বাচন কমিশনের, সেটাই বড় প্রশ্ন। শোনা যাচ্ছে, রিচার দিদি সোমশ্রী ঘোষের নামের পাশেও লেখা ‘আন্ডার অ্যাজুডিকেশন’। তবে সিইও দপ্তর থেকে এমন বিজ্ঞপ্তির পর মনে করা হচ্ছে, দ্রুত মিটে যাবে এই সমস্যা।
