সদ্য প্রকাশিত চূড়ান্ত ভোটার তালিকায় ভোটারদের রঙিন ছবি নিয়ে বিতর্ক উসকে উঠল মালদহের গাজোলে। এক-দু'জনের নয়, এসআইআর (SIR in West Bengal) শেষে অনলাইনে আপলোড করা চূড়ান্ত তালিকায় অন্তত দু'লক্ষ ভোটারের রঙিন ছবি! তা দেখে 'বেআইনি' বলে সরব স্থানীয় বিজেপি নেতৃত্ব। অনলাইনে আপলোড করা চূড়ান্ত ভোটার তালিকায় কেন ঢালাও রঙিন ছবি? রহস্যটাই বা কী? এই প্রশ্ন তুলে দিল্লিতে জাতীয় নির্বাচন কমিশন এবং কলকাতার সিইও দপ্তরে চিঠি লিখেছেন স্থানীয় বিজেপি নেতা মধুসূদন কুণ্ডু। পালটা তৃণমূলের অভিযোগ, নির্বাচন কমিশন তো বিজেপির কথাতেই কাজ করে। ইআরও, এইআরও'দের চালনা করেছে নির্বাচন কমিশন। কোথা থেকে এত রঙিন ছবি এল, সেটা বিজেপিই জানবে।
ভোটার তালিকায় রঙিন ছবিতে আপত্তি তুলে কমিশনকে চিঠি মালদহের বিজেপি নেতা মধুসূদন কুণ্ডুর।
মালদহের গাজোল বিধানসভা এলাকার ভোটার তালিকায় রঙিন ছবির ঘটনাটি ঘটেছে। সেখানে ২০৬টি বুথেই সমস্ত ভোটারের রঙিন ছবি আপলোড করা হয়েছে বলে অভিযোগ। গাজোলের বিজেপি বিধায়ক চিন্ময় দেববর্মনের দাবি, ভোটার তালিকায় ভোটারদের রঙিন ছবি থাকা বেআইনি, নির্বাচন কমিশনের আইনের পরিপন্থী। তিনি জানান, বিষয়টি নিয়ে দলেরই এক নেতা মধুসূদন কুণ্ডু জাতীয় ও রাজ্য নির্বাচন কমিশনে নালিশ করেছেন। বিধায়ক জানান, গাজোল বিধানসভা এলাকায় মোট ২৭৩টি বুথ রয়েছে। তারমধ্যে ২০৬টি বুথেই অনলাইনে প্রকাশিত চূড়ান্ত ভোটার তালিকায় ভোটারদের রঙিন ছবি রয়েছে।
মালদহের গাজোল বিধানসভা এলাকার ভোটার তালিকায় রঙিন ছবির ঘটনাটি ঘটেছে। সেখানে ২০৬টি বুথেই সমস্ত ভোটারের রঙিন ছবি আপলোড করা হয়েছে বলে অভিযোগ। গাজোলের বিজেপি বিধায়ক চিন্ময় দেববর্মনের দাবি, ভোটার তালিকায় ভোটারদের রঙিন ছবি থাকা বেআইনি, নির্বাচন কমিশনের আইনের পরিপন্থী।
বিধায়ক চিন্ময় দেববর্মনের কথায়, "তালিকায় রঙিন ছবি আপলোড করার বিষয়টি নির্বাচন কমিশনের আইনের পরিপন্থী। কমিশনের নিয়ম অনুসারে ভোটার তালিকায় ভোটারদের রঙিন ছবি প্রকাশ করা যায় না। তবু কেন গাজোলে ঘটেছে এই ঘটনা? নেপথ্যে রহস্যই বা কী? জানতে হবে।" চিন্ময় দেববর্মন স্থানীয় প্রশাসনের বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলে সরব হন। বিধায়কের সন্দেহ, কোনও রাজনৈতিক স্বার্থেই স্থানীয় প্রশাসন এই নিয়মবহির্ভূত কাজটি করেছে। তাঁর নিশানায় জেলা নির্বাচনী আধিকারিক অর্থাৎ ইআরও, এইআরওরা।বিষয়টি গোচরে আসতেই সরব হয়েছেন বিজেপি নেতারা। রঙিন ছবির রহস্য জানতে চেয়ে জাতীয় নির্বাচন কমিশনের দপ্তরে চিঠি পাঠালেন বিধায়ক চিন্ময় দেববর্মনের অনুগামী, জেলার আরেক বিজেপি নেতা মধুসূদন কুণ্ডু। সেই চিঠিতে মালদহের জেলা নির্বাচন আধিকারিক তথা জেলাশাসকের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তোলা হয়েছে। রাজ্যের মুখ্য নির্বাচন কমিশনের কাছেও একই অভিযোগ জানানো হয়েছে বলে দলীয় সূত্রে খবর।
গজোলের বিজেপি বিধায়ক চিন্ময় দেববর্মন প্রথম এই অভিযোগ তোলেন। নিজস্ব ছবি
এদিকে ভোটার তালিকায় রঙিন ছবি নিয়ে জেলার রাজনৈতিক মহলে চাপানউতোর শুরু হয়েছে। তৃণমূল পরিচালিত গাজোল পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি মোজাম্মেল হোসেনের কটাক্ষ, "নির্বাচন কমিশন তো বিজেপির সদর কার্যালয়ে পরিণত হয়েছে। তবু কেন ওই দলের বিধায়ক নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলছেন? বিহারে যেভাবে কারসাজি করে ভোটে জিতেছে বিজেপি, পশ্চিমবঙ্গেও তাঁরা সেটা করার চেষ্টা করছেন। ইআরও, এইআরও'দের চালনা করছে নির্বাচন কমিশন। এই নির্বাচন কমিশন বিজেপির সঙ্গে পুরোপুরি যুক্ত। রঙিন ছবির রহস্যটা কী, সেটা বিজেপিই বলতে পারবে।"
