এসআইআর শুনানিতে ডাক পেয়েছিলেন এক পরিবারের তিনজন। তাতে হাজির হয়ে সমস্ত তথ্য, নথি পেশ করার পর নিষ্পত্তি হয়। চূড়ান্ত ভোটার তালিকায় নাম ওঠে এবং ছাব্বিশের নির্বাচনে নিজেদের ভোট নিজেরাই দেন তাঁরা। এসবের পরও ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ পড়ে গেল ফরাক্কার ওই তিনজনের! ফের এসআইআর ট্রাইব্যুনালে হাজিরার চিঠি পেয়ে তাজ্জব তাঁরা নিজেরাই। কেন এই ডাক? জোকার দপ্তরে গিয়ে তিনজন জানতে পারেন, ভোটার তালিকায় তাঁদের নাম 'ডিলিট' হয়ে গিয়েছে। তাই ফের ট্রাইব্যুনালে হাজিরার ডাক। কারণ হিসেবে ট্রাইবুনাল জানিয়েছে, তিন ভাইয়ের বয়সের পার্থক্যে অসঙ্গতি থাকায় তাঁদের নাগরিকত্ব নিয়ে সন্দেহ তৈরি হয়েছে। আজব কাণ্ড বটে!
ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, শুনানিতে সমস্ত নথি দেখেই নাম তোলা হয়েছিল। ভোটও দিয়েছেন তাঁরা। হঠাৎ করে নাম বাদ দেওয়ায় হয়রানির শিকার হচ্ছেন। নাগরিকত্ব প্রমাণে ফের দৌড়ঝাঁপ শুরু করতে হবে। এই ঘটনায় এলাকায় ক্ষোভ তৈরি হয়েছে। প্রশাসনের একাংশের মতে, এসআইআর প্রক্রিয়ায় তথ্য যাচাই চলছে। গরমিল পেলেই নাম বাদ যাচ্ছে। তবে ভোট দেওয়ার পর নাম বাতিলের বিষয়টি নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। পরিবারটি উচ্চ আদালতে যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে।
ঘটনাটি ঘটেছে ফরাক্কা ব্লকের বেনিয়াগ্রাম গ্রাম পঞ্চায়েতের ৫১ নম্বর বুথ আন্ধুয়া দক্ষিণ পাড়ায়। স্থানীয় বাসিন্দা মুদ্দিন শেখ। তাঁর স্ত্রী সাবেরা বিবি। শেখ দম্পতির ছয় ছেলে ও তিন মেয়ে। মুদ্দিন শেখ শিয়ালদহ রেল বিভাগে কর্মচারী ছিলেন। বছর ১২ আগে চাকরি থেকে অবসর গ্রহণ করেছেন। এসআইআর প্রক্রিয়ায় শেখ দম্পতির তিন ছেলে বাসির শেখ, কামরুল শেখ ও নাজবুল শেখের নাম এসআইআর প্রক্রিয়ায় শুনানিতে ডাকা হয়েছিল বলে পরিবারের দাবি। শুনানিতে হাজির হয়ে প্রয়োজনীয় নথিপত্র জমা দেওয়ার পর তাঁদের নাম সাপ্লিমেন্টারি ভোটার তালিকায় নথিভুক্ত হয়।
এমনকী ছাব্বিশের বিধানসভা নির্বাচনে গত ২৩ এপ্রিল ফরাক্কা বিধানসভার ৫১ নম্বর বুথে বাসির, কামরুল ও নাজমুল পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে ভোটাধিকার প্রয়োগ করেছেন। কিন্তু মঙ্গলবার দুপুরে আচমকা ফরাক্কা বিডিও দপ্তর থেকে ফোন করে ১১ নম্বর ট্রাইব্যুনালে কলকাতায় জোকায় বিচারপতি ইন্দ্রজিত চট্টোপাধ্যায়ের এজলাসে হাজির হওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়। ফোন পেয়ে হতভম্ব হয়ে পরে শেখ দম্পতির পরিবার। ৫১ নম্বর বুথের বিএলও শেখ রেজাউল জানান, ‘‘মুদ্দিন শেখের তিন ছেলে বাসির, কামরুল ও নাজমুল শেখের নাম এসআইআরের সাপ্লিমেন্টারি তালিকায় নাম ওঠায় তাঁরা ট্রাইব্যুনালে আপিল করেননি। অথচ তাঁদের ট্রাইব্যুনালে ডাকা হল বুধবার আমি বিএলও হিসাবে কোন কিছু জানিনা। বৃহস্পতিবার দেখছি ভোটার তালিকায় তিন ভাইয়ের নাম ডিলিট হিসাবে দেখান হয়েছে। ট্রাইব্যুনালেও এই হয়রানি মানুষ এখন কোথায় যাবে বুঝতে পারছি না।'' বাসির শেখ জানান, ট্রাইব্যুনালে গিয়ে আমরা তিনভাই, বাবা-মা ও ভোটার কার্ড, আধার কার্ড ও স্কুল সার্টিফিকেট জমা দিয়ে এসেছেন। বাড়ি ফিরে শোনে, তিন ভাইয়ের নাম ভোটার তালিকায় তালিকা থেকে ডিলিট করে দেওয়া হয়েছে।"
যদিও ট্রাইব্যুনালের বিচারপতি ইন্দ্রজিত চট্টোপাধ্যায় তাঁদের নাম বাতিলের কারণ হিসেবে দেখিয়েছেন শেখ দম্পতির তিন ছেলে বাসির শেখের জন্ম তারিখ ১৯৮১ সালের মার্চ মাসের ৩ তারিখ। অপর ছেলে কামরুল শেখের জন্ম ১৯৮১ সালের নভেম্বর মাসের ১১ তারিখ এবং আরেক ছেলে নাজবুল শেখের জন্ম তারিখ ১৯৮২ সালের জুন মাসের ২০ তারিখ। তিন ছেলের জন্ম সাত থেকে আট এমনকী নয় মাসের ব্যবধান থাকায় তাঁদের নাগরিকত্ব প্রমাণে সঠিক তথ্য না মেলায় ভোটার তালিকা থেকে তাদের নাম ডিলিট করা হল। ট্রাইবুনালের এই সিদ্ধান্তে বিপাকে পড়েছেন শেখ পরিবার। সন্তানদের নাগরিকত্ব ফিরে পেতে উচ্চ আদালতে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে তারা।
