সুমিত বিশ্বাস, পুরুলিয়া: স্কুল সার্ভিস কমিশনের জালিয়াতির চক্রের পর্দাফাঁস! এসএসসির গ্রুপ-ডি পদে চাকরির টোপ দিয়ে জালিয়াতি। এই জালিয়াতি করেই পাঁচ নিয়োগপ্রার্থীর থেকে ৩২ লক্ষ টাকা হাতিয়ে নেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ। তবে শেষরক্ষা হয়নি। টাকা নিয়ে চাকরি প্রার্থীদের হাতে যে নিয়োগপত্র দেওয়া হয়েছিল, সেই ভুয়ো নিয়োগপত্রই ধরিয়ে দিল এসএসসি-র প্রতারক চক্রের দুই হোতাকে। ধৃতদের নাম স্বর্ণকমল দাস ও মৌমিতা তিওয়ারি। তবে পালিয়ে গিয়েছে চক্রের চাঁই। ঘটনাটি পুরুলিয়া সদর থানা এলাকার। শনিবার ধৃতদের পুরুলিয়া আদালতে তোলা হলে বিচারক ন’দিনের পুলিশ হেফাজত দিয়েছেন। অভিযোগ, ধৃতেরা নিজেদের বিকাশ ভবনের আধিকারিক হিসেবে পরিচয় দিয়েছিল। এই পরিচয়েই এসএসসির গ্রুপ-ডি পদে চাকরির টোপ দেওয়া হয়। ধৃত স্বর্ণকমল ও মৌমিতা তিওয়ারি ভুয়ো পরিচয়ের পাশাপাশি সঠিক নামও জানায়নি। তাদের সঙ্গে থাকা আধারকার্ডও ভুয়োই ছিল। তবে পুলিশ দু’জনকে গ্রেপ্তারের পরেই বেরিয়ে আসে তাদের আসল নাম ও ঠিকানা। পুলিশ সুত্রে জানা গিয়েছে, ধৃত মৌমিতা তিওয়ারির বাড়ি কলকাতার কালীঘাট অঞ্চলের সার্কাস অ্যাভিনিউয়ে। অন্যদিকে স্বর্ণকমল দাসের বাড়ি পূর্ব মেদিনীপুরের সুতাহাটা থানার রামপুরে। তারা চাকরি প্রার্থীদের কাছে নিজেদের সুকোমল দাস ও মৌমিতা দাস নামে পরিচয় দিয়েছিল। বাড়ির ঠিকানা বাতলেছিল কলকাতা। পালিয়ে যাওয়া মূল পাণ্ডার ভুয়ো নাম সুকুমার পালুই। ঠিকানা বলেছে দক্ষিণ ২৪ পরগনার জয়নগরের বাহারু দাসপাড়া।
[এও সম্ভব! মায়ের চোখের সামনেই বাবার হাতে ধর্ষিতা নাবালিকা]
জানা গিয়েছে, ‘কলকাতার বিকাশ ভবন থেকে বলছি’ বলেই চাকরি প্রার্থীদের ফোন করা হয়। ফোনে পাঁচ চাকরি প্রার্থীর কাছে নিজেদের বিকাশ ভবনের আধিকারিক হিসেবে পরিচয় দেওয়া হয়। জানানো হয়, টাকা দিলে এসএসসি’র গ্রুপ-ডি পদের চাকরি মিলবে। এই টোপ গিলে নেন বান্দোয়ানের লতাপাড়ার জয়দেব মাহাতো, তার ভাগ্নি বান্দোয়ানের মধুবনের বাসিন্দা পুষ্প মাহাতো, লতাপাড়ারই আরেকজন মনোজ মাহাতো, বরাবাজারের ভবানীপুরের সুরেশ মাহাতো ও পুরুলিয়া মফস্বলের সিঁদুরপুরের রমজান আনসারি। এই পাঁচ চাকরি প্রার্থীর সঙ্গে ৬.৫ লক্ষ টাকায় চুক্তি করে প্রতারকরা। তারপর কখনও হাতে হাতে, কখনও বা ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টের মাধ্যমে নির্দিষ্ট অঙ্কের টাকা হাতিয়ে নেয় ওই চাকরি প্রার্থীদের থেকে। চুক্তির সময়েই ঠিক ছিল, পুরো টাকা হাতে এলেই নিয়োগপত্র পাবেন চাকরি প্রার্থীরা। সেই মতো প্রতারক চক্রের চাঁই সুকুমার পালুই ও অন্য দু’জন সদস্য গত শুক্রবার পুরুলিয়ায় আসে। বকেয়া পাওনা বুঝে নিয়ে যখন নিয়োগপত্র দিচ্ছিল, তখনই জালিয়াতির বিষয়টি ধরা পড়ে যায়। চাকরি প্রার্থীরা দেখেন, তাঁদের হাতে আসা নিয়োগপত্রে প্রচুর গরমিল রয়েছে। কোথাও ভুল কিছু হচ্ছে বুঝতে পেরেই ওই তিনজনকে পাকাড়াওয়ের চেষ্টা করেন। পরিস্থিতি বিগতিক বুঝে সেখানে থেকে চম্পট দেয় চক্রের চাঁই সুকুমার পালুই। তবে পালাতে পারেনি মৌমিতা তিওয়ারি ও স্বর্ণকমল দাস। দু’জনকে ধরে পুরুলিয়া সদর থানার পুলিশের হাতে তুলে দেন প্রতারিত পাঁচ চাকরি প্রার্থী।
[বোন বিজেপি প্রার্থী, মনোনয়ন প্রত্যাহারে ‘অপহরণ’ তৃণমূল কর্মী দাদার]
এই প্রসঙ্গে পুরুলিয়ার পুলিশ সুপার জয় বিশ্বাস বলেন, “এসএসসি’র একটি জালিয়াতির চক্রের দু’জনকে আমরা গ্রেপ্তার করেছি। মূল চক্রী পালিয়ে গিয়েছে। তার খোঁজ চলছে। সেও আসল নাম-পরিচয় গোপন রেখেই কাজ করছিল কিনা সেটা দেখা হচ্ছে।” শুক্রবার সন্ধ্যায় এদের গ্রেপ্তার করে পুলিশ। শনিবার পুরুলিয়া আদালতে তোলা হলে ধৃতদের ন’দিনের পুলিশ হেফাজত দিয়েছেন বিচারক।
ছবি: অমিত সিং দেও
The post SSC-র প্রতারণা চক্র, বিকাশ ভবনের আধিকারিক পরিচয়ে চাকরির টোপ দিয়ে ধৃত ২ appeared first on Sangbad Pratidin.
