নন্দন দত্ত, সিউড়ি: সরকারি বাসের সঙ্গে মোটরবাইকের মুখোমুখি সংঘর্ষ। সংঘর্ষের জেরে মৃত্যু হল বাইক আরোহী গৃহবধূ ও ন’মাসের শিশুকন্যার। এই ঘটনায় গুরুতর আহত হয়ে সিউড়ি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন বাইকচালক ফিরোজ শেখ। এদিকে সংঘর্ষের জেরে মৃত্যুর ঘটনায় রণক্ষেত্রের চেহারা নেয় সিউড়ি শহরের ভিভিআইপিদের বাসভবন চত্বর। দফায় দফায় সংঘর্ষে উত্তাল হয়ে ওঠে গোটা এলাকা। ঘাতক বাসে ভাঙচুর চলে। পরে দুটি সরকারি বাসেও আগুন ধরিয়ে দেয় উত্তেজিত জনতা। বিশাল পুলিশবাহিনী গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। তবে গোটা এলাকা এখনও থমথমে। ফের উত্তেজনার আশঙ্কায় চলছে পুলিশি টহলদারি।
[তিন বছরের লড়াইয়ে সাফল্য, দেওচা পাঁচামি কয়লাখনি পেল রাজ্য]
জানা গিয়েছে, স্বামীর সঙ্গে সিউড়ি হাসপাতালে চিকিৎসা করাতে এসেছিলেন সেরিনা বিবি (৩২)। স্বামী ফিরোজ শেখ পেশায় সবজি বিক্রেতা। মোটরবাইকে তাঁদের সঙ্গে ছিল ন’মাসের শিশুকন্যা ফিরোজা খাতুন। বেলা বারোটা নাগাদ হাসপাতাল থেকে বেরিয়ে করিমপুরের বাড়িতে ফিরছিলেন তাঁরা। তিলপাড়ার দিকে যাওয়ার সময় ঘটে দুর্ঘটনা। এসপি-র বাংলোর কাছে উলটোদিক থেকে আসা সরকারি বাসের সঙ্গে মোটরবাইকের ধাক্কা লাগে। এই মুখোমুখি সংঘর্ষে ঘটনাস্থলেই মৃত্যু হয় মা ও মেয়ের। ফিরোজ শেখকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় সিউড়ি হাসপাতালে ভরতি করা হয়েছে। অন্যদিকে ঘটনাস্থল থেকে পলাতক ঘাতক বাসের চালক ও খালাসি। এদিকে দুর্ঘটনার জেরে মৃত্যুর ঘটনায় ক্ষিপ্ত হয়ে ওটেন বাসিন্দারা। এসপি বাংলোর সামনেই শুরু হয় বিক্ষোভ অবরোধ। ঘাতক বাসটিতে চলে ভাঙচুর। পরে পুলিশের মধ্যস্থতায় সেখানে থেকে অবরোধ উঠে যায়।
[টিউশন থেকে বাড়ি ফেরার পথে আক্রান্ত নাবালিকা, ধর্ষণের চেষ্টার অভিযোগ]
তবে কিছুক্ষণের মধ্যেই বিক্ষুব্ধ জনতার দলটি শহর লাগোয়া ৬০ নম্বর জাতীয় সড়কে ফের অবরোধ শুরু করে। বিআইটি কলেজের সামনে দুটি সরকারি বাসে ভাঙচুর চালিয়ে আগুন ধরিয়ে দেয় বলে অভিযোগ। এরপরেই জনতা-পুলিশ খণ্ডযুদ্ধ শুরু হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে ঘটনাস্থলে যান জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সুবিমল পাল। অবরোধকারীদের ছত্রভঙ্গ করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা হয়। এরপরেই জাতীয় সড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক হয়। এলাকায় উত্তেজনা থাকায় চলছে পুলিশি টহলদারি।
ছবি: বাসুদেব ঘোষ
The post বাস-বাইকের মুখোমুখি সংঘর্ষে মৃত্যু মা ও মেয়ের, রণক্ষেত্র সিউড়ি appeared first on Sangbad Pratidin.
