সৌরভ মাজি, বর্ধমান: তথাকথিত সভ্যসমাজ মুখ ফিরিয়েছে। ট্রেনের কামরায় পড়ে কাতরাচ্ছিলেন বছর পঁচাত্তরের বৃদ্ধা। দুর্গন্ধও ছড়াচ্ছিল। নাকে রুমাল চেপে সকলেই টপকে যাচ্ছিলেন। হয়ত ওইভাবে পড়ে পড়েই মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়তেন। কিন্তু সমাজে এখনও যে সহৃদয় মানুষ রয়েছেন। আর্তের সেবায় এগিয়ে এসে নজির গড়লেন এক শিক্ষক। ফিরোজ আলি (কাঞ্চন)। তিনি আর পাঁচ জনের মতো বৃদ্ধার থেকে মুখ ফিরিয়ে নিতে পারেননি। তিনি ওই বৃদ্ধাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যান। তাঁর প্রচেষ্টায় শেষ পর্যন্ত ওই বৃদ্ধা প্রাণে বেঁচে গিয়েছেন। আপাতত হাসপাতালে চিকিৎসাধীন তিনি।
[কাটোয়ায় মন্দির তৈরিতে বাধা, বৃদ্ধাকে মারধর]
পূর্ব বর্ধমানের গলসির খেতুড়া গ্রামে বাড়ি কাঞ্চনবাবুর। তিনি জামালপুরের টেরাপুর পল্লিমঙ্গল হাইমাদ্রাসার শিক্ষক। সোমবার ছুটির পর প্রতিদিনের মতোই বর্ধমান থেকে আসানসোলগামী লোকাল ট্রেন ধরেন। সেখানে তিনি দেখেন, ওই বৃদ্ধা পড়ে কাতরাচ্ছেন। কেউ সাহায্যে এগিয়ে আসেনি। কাঞ্চনবাবু এগিয়ে যান। বৃদ্ধার সঙ্গে কথা বলে জানতে পারেন, বর্ধমান শহরের কালনা রোড এলাকায় থাকেন ওই বৃদ্ধা। ভবঘুরে। নাম আরতি কর্মকার। খুবই অসুস্থ। কোনওভাবে ট্রেনে উঠে পড়েছিলেন। কিন্তু নামার মতো সামর্থ্য নেই তাঁর।
কাঞ্চনবাবু বলেন, “ওই মহিলার সঙ্গে কথা বলে বুঝতে পারি কিছু করার প্রয়োজন। না হলে এইভাবে পড়ে থেকে হয়তো মারা যাবেন উনি।” গলসি স্টেশনে ট্রেন ঢুকলে বৃদ্ধাকে নামিয়ে গাড়ি ভাড়া করে পুরষায় গলসি-১ ব্লক হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানকার চিকিৎসক তাঁকে বর্ধমান মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে রেফার করেন। কাঞ্চনবাবু ফের গাড়ি করে ওই বৃদ্ধাকে বর্ধমান মেডিক্যালে নিয়ে আসেন। রাতে বাড়ি ফেরেন। মঙ্গলবার সকালেও তিনি বর্ধমানে ওই বৃদ্ধাকে দেখতে হাসপাতালে যান। এদিন পর্যন্ত বৃদ্ধার পরিজনদের সন্ধান মেলেনি। কাঞ্চনবাবু বলেন, “ওই বৃদ্ধাকে পরিজনদের পাশে ফিরিয়ে দিতে পারলে আরও আনন্দ হবে।” নারীদিবসের প্রাক্কালে শিক্ষক হিসেবে মানবিকতার নজির করলেন ফিরোজ আলি।
[মুখ্যমন্ত্রীর মঞ্চে আচমকা উঠে পড়েছিলেন, সেই রাবেরা এখন কোথায়?]
The post নজির মানবিকতার, ট্রেনে অসুস্থ বৃদ্ধাকে হাসপাতালে নিয়ে গেলেন শিক্ষক appeared first on Sangbad Pratidin.
