৫ বছর ধরে জলেই কাটছে জীবন! কখনও একটানা ৫ দিন আবার কখনও ৭ দিন। এভাবেই এলাকার বিভিন্ন পুকুরে ভেসে বেড়ায় মুর্শিদাবাদের (Murshidabad) এক মানসিক ভারসাম্যহীন কিশোর। শুধু দিনে নয়, গভীর রাতের আঁধারেও কুড়ি-পঁচিশ ফুট গভীর পুকুরের মাঝে তাকে একইভাবে ভেসে থাকতে দেখা যায়। এই ঘটনায় দিশেহারা গোটা এলাকা। পরিবারের লোকজনও চিন্তায়। কিন্তু বেলডাঙার (Beldanga) ফরাস পাড়ার ১৭ বছরের কিশোর ইকবাল শেখকে জল থেকে তোলা দায়! জানা গিয়েছে, জল থেকে উঠলেই শরীরে তীব্র জ্বালা অনুভব করে সে। তাই এরকম অস্বাভাবিক আচরণ করেই বছরের পর বছর কাটছে। যদিও ইকবালের দাবি, তার উপর অশরীরী আত্মার প্রভাব রয়েছে।
ইকবালের পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, পাঁচ বছর আগে থেকে তার স্বভাবে বদল শুরু হয়। আগে এলাকার একাধিক পুকুরে ঘুরে ঘুরে সময় কাটাত সে। কিন্তু গত কয়েকমাস ধরে এলাকার একটি পুকুরেই টানা পড়ে থাকে ইকবাল। স্থানীয় বাসিন্দারা চিঁড়ে-বিস্কুট দিলে তা খেয়েই জলে ভেসে থাকে। জল থেকে উঠে আসতে বললে কথা কানে তোলে না। তাঁকে বাড়িতে আটকে রাখাও সম্ভব হয় না। টানা জলে পড়ে থাকায় তার হাত-পায়ের চামড়া সাদা হয়ে গিয়েছে। শরীরিক অসুস্থতার পাশাপাশি সর্দি-কাশিতেও আক্রান্ত সে। স্থানীয় বাসিন্দারা ইকবালের প্রাণ সংশয়ের আশঙ্কায় স্থানীয় বিধায়ক ভরত কুমার ঝাউ ও প্রশাসনের কাছে তার দ্রুত উন্নত চিকিৎসার উদ্যোগ নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।
এক বছর আগে ইকবালের বাবা হাসিবুর শেখের মৃত্যু হয়েছে। তার মা কামিরণ বিবি বিড়ি বেঁধে কোনওমতে সংসার চালান। ছেলেকে মানসিক হাসপাতালে দেখিয়েও কোনও লাভ হয়নি। উলটে সে মারধর করে টাকা পয়সা কেড়ে নিয়ে পালিয়ে যায়। ইকবালের আর চিকিৎসা করানোর সামর্থ্য পরিবারের নেই। তাই তার মা সরকারি সাহায্য ও ভাতার জন্য আবেদন জানিয়েছেন। বর্তমানে এই কিশোরকে দেখতে পুকুর পাড়ে ভিড় জমাচ্ছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
