shono
Advertisement
North Bengal

কামতাপুরি নাকি রাজবংশী! জনগণনা শুরু হতেই উত্তরে ভাষা বিতর্ক চরমে

কেপিপি-সহ বিভিন্ন সংগঠন যখন আদমশুমারীতে ভাষার নাম কামতাপুরি লেখার জন্য প্রচারে সরব। তখন গবেষক, অধ্যাপকদের বড় অংশ রাজবংশী ভাষা লেখার পক্ষে।
Published By: Kousik SinhaPosted: 09:52 AM Aug 13, 2026Updated: 09:52 AM Aug 13, 2026

ভাষার নাম কামতাপুরি নাকি রাজবংশী! উত্তরে বিতর্ক চরমে। কেপিপি-সহ বিভিন্ন সংগঠন যখন আদমশুমারীতে ভাষার নাম কামতাপুরি লেখার জন্য প্রচারে সরব। তখন গবেষক, অধ্যাপকদের বড় অংশ রাজবংশী ভাষা লেখার পক্ষে। সমাজমাধ্যমে ইতিমধ্যে আবেদনও জানাচ্ছেন। তাদের দাবি, ভাষার সঙ্গে জনগোষ্ঠী অথবা নৃগোষ্ঠীর সম্পর্ক থাকে। সেই দিক থেকে আদমশুমারীতে মাতৃভাষার নাম রাজবংশী লেখা উচিত।

Advertisement

যেমন, রায়গঞ্জ বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক তথা লোকভাষা গবেষক দীপক রায় বলেন, "কামতাপুরি নাম এসেছে নব্বইয়ের দশকে। রাজবংশী নাম অনেক পুরনো। ঠাকুর পঞ্চানন বর্মা নিজেও রাজবংশী ভাষার কথা বলেছেন।"

কার্যত আদমশুমারী শুরু হতে উত্তরে নতুন ভাবে ভাষার নামকরণ বিতর্ক দানা বেঁধেছে। পৃথক কামতাপুর রাজ্য গঠন ও কামতাপুরি ভাষার সাংবিধানিক স্বীকৃতির দাবিতে সরব বিভিন্ন সংগঠন মাতৃভাষা কামতাপুরি লেখার জন্য প্রচারে নেমেছে। কামতাপুর পিপলস পার্টির (ইউনাইটেড) মতো দল বিভিন্ন এলাকায় সেমিনারের আয়োজন করে সচেতনতা তৈরির কাজ শুরু করেছে। মিছিল, পথসভাও চলছে। কেপিপি-র কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি নিখিল রায় দাবি করেছেন, কামতাপুরি ভাষা চর্যাপদের সময় থেকে বহমান। ভাষা গবেষকদের মতে মাগধী প্রাকৃত থেকে মাগধী অপভ্রংশের সৃষ্টি হয়। এরপর মাগধী অপভ্রংশ থেকে এসেছে কামরূপী ভাষা। যে ভাষা এখন কামতাপুরি ভাষা নামে বেশি পরিচিত। যদিও ওই দাবি মানতে নারাজ উত্তরের ভাষা গবেষক, অধ্যাপকদের বড় অংশ। 

যেমন, রায়গঞ্জ বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক তথা লোকভাষা গবেষক দীপক রায় বলেন, "কামতাপুরি নাম এসেছে নব্বইয়ের দশকে। রাজবংশী নাম অনেক পুরনো। ঠাকুর পঞ্চানন বর্মা নিজেও রাজবংশী ভাষার কথা বলেছেন।" তিনি জানান, একটি ভাষার সঙ্গে জনগোষ্ঠীর ওতোপ্রোতো সম্পর্ক থাকে। সেই দিক থেকে রাজবংশী নামটি গ্রহণযোগ্য। ভাষাবিদ সুনীতি চট্টোপাধ্যায়, চারুচন্দ্র সান্যাল ভাষার নাম রাজবংশীকেই সমর্থন করেছেন। উত্তরবঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয়ে রাজবংশী ভাষায় প্রথম গবেষণা হয়েছে। এখন কোচবিহারের পঞ্চানন বর্মা এবং রায়গঞ্জ বিশ্ববিদ্যালয়েও রাজবংশী ভাষায় পড়াশোনা ও গবেষণার ব্যবস্থা হয়েছে। দীপকবাবুরা মনে করেন এতকিছুর পরও ভাষা রাজনীতির নামে মাতৃভাষা কামতাপুরি লেখা হলে গোটা রাজবংশীদের অস্তিত্বের সঙ্কট ঘনীভূত হবে।

লোকসংস্কৃতির গবেষক দিলীপ বর্মা জানান, ভাষার নাম রাজবংশী এটা প্রতিষ্ঠিত। ওই বিষয়ে নতুন কিছু বলার নেই। সম্প্রতি রাজ্য সরকার রাজবংশী ভাষা ও সংস্কৃতির উন্নয়নে প্রচুর অর্থ বরাদ্দ করেছে। সেখানেও কামতাপুরি নাম মান্যতা পায়নি। তিনি বলেন, "কয়েক দিনের মধ্যে মুখ্যমন্ত্রীকে চিঠি পাঠিয়ে অনুরোধ করা হবে রাজবংশী ভাষার সাংবিধানিক স্বীকৃতির জন্য রাজ্য ক্যাবিনেটে প্রস্তাব নিয়ে কেন্দ্রীয় সরকারের কাছে পাঠানো হোক।"

Sangbad Pratidin News App

খবরের টাটকা আপডেট পেতে ডাউনলোড করুন সংবাদ প্রতিদিন অ্যাপ

হাইলাইটস

Highlights Heading
Advertisement