সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়, দুর্গাপুর: কেরলে কাজ করতে গিয়ে এক আদিবাসী যুবকের রহস্যমৃত্যু৷ ঘটনাকে কেন্দ্র করে শোকের আবহ কাঁকসার মলানদিঘি এলাকায়৷ মৃত আদিবাসি যুবকের নাম সিপাই টুডু, বয়স ২১। মলানদিঘি অঞ্চলের হরিকি গ্রামের বাসিন্দা এই যুবক একবছর আগে কেরলে কাজের খোঁজে গিয়েছিল।
মঙ্গলবার, কেরলের পানঘাট স্টেশনে থেকে উদ্ধার করা হয়েছে মৃত যুবকের রক্তাক্ত দেহ। দেহ উদ্ধার করে কাঁকসা থানাতে খবর দেয় রেলপুলিশ। থানা থেকেই মঙ্গলবার বিকালে খবর দেওয়া হয় মৃত সিপাই টুডুর পরিবারকে৷ তাঁর ভাইকে খুন করা হয়েছে বলে মৌখিক অভিযোগ করেছেন সিপাইয়ের দাদা। যদিও পুলিশে কোনও অভিযোগ দায়ের হয়নি। মৃতের পরিবার জানাচ্ছে, সোমবার রাত ন’টার সময় বাড়িতে ফোন করেছিলেন সিপাই টুডু। ফোনে তিনি জানান, কেরলে আর কাজ করতে চান না, বাড়ি ফিরতে চান৷ এরপরে মঙ্গলবার সকাল এগারোটা নাগাদ আতঙ্কিত অবস্থায় আবার বাড়িতে ফোন করেছিলেন তিনি। ফোনে বেশ চাপা স্বরেই তাঁকে বলতে শোনা গিয়েছিল, অস্ত্র হাতে বেশকিছু লোক তাঁকে ঘিরে রয়েছে। ব্যস! এইটুকুই তারপর থেকে আর সিপাইয়ের সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারেনি তাঁর পরিবার৷
মঙ্গলবার কাঁকসা থানা থেকে সিপাইয়ের দেহ উদ্ধারের খবর যেতেই কান্নায় ভেঙে পরে তাঁর পরিবারের সদস্যরা৷ শোকের ছায়া নেমে এসেছে গোটা গ্রামজুড়ে। জানা গেছে, এক বছর আগে কেরলে গিয়েছিলেন সিপাই টুডু। তবে কাজ ছেড়ে মাস তিনেক আগে বাড়ি চলে এসেছিলেন তিনি। কিন্তু গত শনিবার ফের কেরলে কাজে যোগ দিতে চলে যান৷ সোমবার রাতে যখন পরিবারের কাছে সিপাইয়ের ঘরে ফেরার প্রথম ফোন আসে তখন তার কাছে তখন ছয়শো টাকা ছিল৷ পরিবারের লোকেরা টাকা পাঠাতে চাইলেও তিনি তা নিতে অস্বীকার করেন। এরপরেই ফোনটা কেটে দেন তিনি।
The post কেরলে কাজে গিয়ে কাঁকসার আদিবাসী যুবকের রহস্যমৃত্যু appeared first on Sangbad Pratidin.
