নন্দন দত্ত: কয়েক মাস আগেও তাঁকে লক্ষ্য করে গুলি চলেছিল৷ সেবার প্রাণে বেঁচে গিয়েছিলেন৷ কিন্তু, এবার আর হল না৷ দুর্গাপুরের একটি বেসরকারি হাসপাতালে মারা গেলেন শাসকদলের বীরভূমের খয়রাশোলে ব্লক সভাপতি দীপক ঘোষ৷ এদিকে এই ঘটনায় অভিযুক্তদের ধরতে রবিবার রাতভর খয়রাশোলে অভিযান চালাল পুলিশ৷ আটক করা হয়েছে ৫ জনকে৷ তবে এখনও পর্যন্ত থানায় অভিযোগ দায়ের করা হয়নি৷ মৃতের পরিবারের লোকেরা জানিয়েছেন, তৃণমূলের জেলা নেতৃত্বের সঙ্গে আলোচনা করেই এফআইআর করার বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে৷
[ধূপগুড়ি গণধর্ষণ কাণ্ডে ৩ দিনের মধ্যে চার্জশিট পেশের নির্দেশ]
রবিবার ভরদুপুরে খয়রাশোলের হিংলো নদীর চরে শাসকদলের ব্লক সভাপতি দীপক ঘোষকে লক্ষ্য করে গুলি চালায় দুষ্কৃতীরা৷ গ্রামের বাড়ি থেকে বাইকে চেপে খয়রাশোলে ফিরছিলেন তিনি৷ প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, দীপকবাবুর কোমর ও চোয়ালে গুলি লাগে৷ বাইক থেকে পড়ে যান তিনি৷ কিন্তু, তাতেও রেহাই মেলেনি৷ গুলিবিদ্ধ অবস্থায় ধারালো অস্ত্র দিয়ে দীপক ঘোষকে এলোপাথাড়ি কোপ মেরে চম্পট দেয় দুষ্কৃতীরা৷ তাঁকে উদ্ধার করে প্রথমে নিয়ে যাওয়া হয় স্থানীয় একটি স্বাস্থ্যকেন্দ্রে৷ পরে স্থানান্তরিত করা হয় দুর্গাপুরের একটি বেসরকারি হাসপাতালে৷ শাসকদলের নেতার শারীরিক অবস্থা আশঙ্কাজনক ছিল৷ সোমবার সকালে হাসপাতালে মারা যান তৃণমূলের খয়রাশোলের ব্লক সভাপতি দীপক ঘোষ৷
বীরভূমের খয়রাশোলে শাসকদলের দাপুটে নেতা হিসেবেই পরিচিত ছিলেন দীপক ঘোষ৷ ভরদুপুরে কারা তাঁকে গুলি করে ও কুপিয়ে খুন করল? রবিবার রাতভর অভিযান চালিয়ে স্থানীয় তৃণমূল নেতা মধু বাউড়ি-সহ ৫ জনকে আটক করেছে পুলিশ৷ তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে৷ তৃণমূলের অন্দরের খবর, দীপক ঘোষের বিরুদ্ধে গোষ্ঠীর নেতা হিসেবে পরিচিত মধু বাউড়ি৷ যদিও শাসকদলের নেতা দীপক ঘোষকে খুনের ঘটনায় থানায় এখনও পর্যন্ত কোনও অভিযোগ দায়ের করা হয়নি৷ মৃতের পরিবারের লোকেরা জানিয়েছেন, শাসকদলের জেলা নেতৃত্বের সঙ্গে আলোচনা করেই এফআইআর করা হবে৷ কয়েক মাস আগেই খয়রাশোলেই গুলিবিদ্ধ হয়েছিলেন তৃণমূল নেতা দীপক ঘোষ৷ তবে সেযাত্রায় প্রাণে বেঁচে গিয়েছিলেন তিনি৷
ছবি: উদয়ন গুহরায়
[ বর্ধমানে ঘরছাড়া নেতাকে ফেরাতে পারল না বিজেপি নেতৃত্ব]
The post খয়রাশোলে গুলিবিদ্ধ শাসকদলের ব্লক সভাপতির মৃত্যু, আটক ৫ appeared first on Sangbad Pratidin.
