ধ্রুবজ্যোতি বন্দ্যোপাধ্যায়: অত্যুৎসাহীদের মনোনয়ন তুলতে প্রাণপণ বোঝাতে হয়েছে। কম সময়ের মধ্যেই তার ফলও মেলে। গ্রাম পঞ্চায়েত ও পঞ্চায়েত সমিতিতে মনোনয়ন দিয়েও অনেকেই তা প্রত্যাহার করে নেয়। কিন্তু ২৮ এপ্রিল স্ক্রুটিনি শেষে চূড়ান্ত ফল প্রকাশের পরও দেখা যায় প্রায় বিভিন্ন জেলায় বাড়তি মনোনয়নের মধ্যে কম করে ৩০ শতাংশ প্রার্থী মনোনয়ন তোলেননি। তাঁদের মুচলেকা দিয়ে ভোট থেকে সরে দাঁড়াতে নির্দেশ দিল তৃণমূল। মনোনয়ন দেওয়ার সঙ্গে সঙ্গে তাঁদের নামে দেওয়াল লিখনও শুরু হয়েছিল। জানানো হয়েছে, সেই দেওয়ালও মুছে ফেলতে হবে। পাড়ায় হ্যান্ডবিল দিয়ে জানাতে হবে, তিনি প্রার্থীপদ ফিরিয়ে নিয়েছেন। মানুষের মধ্যে বিভ্রান্তি তৈরি করা যাবে না। শৃঙ্খলার প্রশ্নে কোনও আপস না করার কথা জানিয়ে বলা হয়েছে, দলের কথা না শুনলে নেওয়া হবে চরম ব্যবস্থা।
[তৃণমূলের নাম ভাঙিয়ে প্রচারে নির্দল প্রার্থী, শোরগোল গলসিতে]
গত সাত বছর গ্রামে গ্রামে সরকারি পরিষেবা আর পাঁচ বছর ত্রিস্তরীয় পঞ্চায়েতে নিরবচ্ছিন্ন কাজের ভিত্তিতে তৃণমূল দাবি করেছিল, তাদের কোনও বিরোধী থাকবে না। উন্নয়নের নিরিখে ভোট চাইবে শাসকদল। উন্নয়নের জেরে তারা গোটা দেশে প্রশংসিত। কোনও কোনও ক্ষেত্রে পরিষেবার ভিত্তিতে প্রথম হয়েছে বাংলার সরকার। এই উন্নয়নের সামনে দাঁড়িয়ে বিরোধী কোনও দল তৃণমূলের সামনে টিকতে পারবে না বলে দাবি করেছিল নেতৃত্ব। এই পরিস্থিতিতে কার্যত অপ্রত্যাশিতভাবেই ১৩ হাজার ৭৮৬ জন বাড়তি মনোনয়ন জমা পড়ে শাসকদলের প্রার্থীদের। দলের মহাসচিব পার্থ চট্টোপাধ্যায় জানিয়ে দেন, “রাজ্য সরকার যে পরিমাণে উন্নয়নের কাজ করেছে, তার জেরে বহু উৎসাহী মানুষ-কর্মী দলের প্রার্থী হতে চাইছেন। এটা স্বাভাবিক প্রক্রিয়া। তবে কোথাও কোনও সমস্যা হলে জেলা নেতৃত্ব সর্বত্র নিজের মতো করে তা মিটিয়ে নেবে।”
[প্রতীক পায়খানার ‘প্যান’, ভোট চাইতে গিয়ে হেসে খুন প্রার্থী নিজেই]
শীর্ষ নেতৃত্ব এর পরই সব ক’টি জেলা নেতৃত্বকে নির্দেশ দিয়ে দেয়, অবিলম্বে এই সমস্যা মেটাতে হবে। তার জন্য প্রার্থীদের সঙ্গে কথা বলাটা জরুরি। প্রত্যেকে দলের অংশ। প্রত্যেককে নিয়েই তৃণমূল দল। তাদের প্রত্যেকের যোগদানেই দল এতদূর এগিয়েছে। কিন্তু অনেক সময় বিভিন্ন কারণে দলের মধ্যে মান-অভিমানের ঘটনা ঘটেছে। তাতেই উৎসাহীদের পাশাপাশি কোথাও ব্যক্তিগত মান-অভিমানের জেরে ক্ষোভ প্রকাশ্যে এসেছে। তার জেরেই বাড়তি মনোনয়ন। দলের আরেক শীর্ষ নেতা এর পরই স্পষ্ট বার্তা দিয়ে জানিয়ে দেন, “যাঁরা দলের নিয়ম-শৃঙ্খলা মানছেন, তাঁরাই ভোটে লড়ার যোগ্য। তাঁদেরই দল প্রার্থী করছে। তাঁদেরই প্রতীক দেবে দল। এর বাইরে কাউকে প্রতীক দেওয়া হবে না।” এর পরও বহু জায়গাতেই প্রার্থীরা সরে দাঁড়াননি। এই পরিস্থিতিতেই কর্মীদের তৃণমূল নির্দেশ দেয়, জনস্বার্থে ভোট থেকে সরে দাঁড়াতে হবে। তা না হলে মনে করা হবে তাঁরা রাজ্যের উন্নয়নের পরিপন্থী। তৃণমূলের রাজ্যস্তরের এক নেতার কথায়, “আমরা বহুবার বোঝানোর চেষ্টা করেছি। এর পরও যাঁরা মনোনয়ন তুলতে চাননি, তাঁদের আমরা বলে দিয়েছি দলের নির্দেশ মেনে ভোট থেকে সরে দাঁড়াতে হবে।”
[হাসিনা ও শর্মিলাকে ডি-লিট দেবে নজরুল বিশ্ববিদ্যালয়]
এর পরই তাঁদের স্থানীয়ভাবে মুচলেকা দিয়ে সরে দাঁড়ানোর কথা বলে জানানো হয়, তৃণমূলের কোনও নেতা-কর্মী নির্দল হয়ে ভোটে দাঁড়াতে পারবেন না। যদি দলের নির্দেশ মানেন, তা হলে মুচলেকা দিন। সঙ্গে হ্যান্ডবিল ছাপিয়ে পাড়ায় বিলি করে জানিয়ে দিন যে, তিনি ভোটে লড়বেন না। এতেও কাজ না হলে ‘অত্যুৎসাহী’দের রুখতে দলীয় শৃঙ্খলাভঙ্গের অপরাধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
