হলটা কী টিম ইন্ডিয়ার! গত মার্চ পর্যন্ত যে দলটার দাপট দেখেছিল ক্রিকেটবিশ্ব, যে দলটাকে অপ্রতিরোধ্য মনে হত, তাদের তেজ এক লহমায় যেন উধাও। কে বলবে গত মার্চে প্রবল সমারোহে দলটা বিশ্বকাপ জিতেছিল? বৃহস্পতিবার ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে চতুর্থ টি-টোয়েন্টিতেও সেই ছবির বদল হল না। প্রথমে ব্যাট করে ভারত তুলল ৭ উইকেটে ১৫৮। জবাবে মাত্র ১ উইকেটে জয়ের রান তুলে নিল ইংল্যান্ড। ৯ উইকেটে হেরে পাঁচ ম্যাচের সিরিজে এক ম্যাচ বাকি থাকতেই সিরিজ নিশ্চিত করে ফেললেন হ্যারি ব্রুকরা। স্কোরলাইনই বলে দিচ্ছে, অর্শদীপ সিং, প্রসিদ্ধ কৃষ্ণরা কোনও প্রতিরোধই গড়ে তুলতে পারেননি।
আয়ারল্যান্ডের কাছে প্রথমবার টি-টোয়েন্টি সিরিজ হারাটা ওয়েক আপ কল ছিল। হয় অতীত থেকে শিক্ষা নাও, নয়তো অতলে তলিয়ে যাও। মেন ইন ব্লু-র খেলা দেখে এ কথা বলেই দেওয়া যায়, অতীত থেকে শিক্ষা নেয়নি তারা। নাহলে একই ভুল বারবার হচ্ছে কেন? এতদিন যে রিসেটের কথা গুরু গম্ভীর বলে আসছিলেন, তারও তো দেখা নেই। ফলত, বিশ্বজয়ের পর হাফ ডজন ম্যাচে হাসি না ফুটে আরও গম্ভীর ভারতীয় কোচ। তাঁর দলের বিরুদ্ধে যেন জেতাটাই অভ্যাসে পরিণত করে ফেলেছে প্রতিপক্ষ।
দীর্ঘদিন ধরেই আইপিএলের পারফরম্যান্সকে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। কিন্তু ফ্র্যাঞ্চাইজি ক্রিকেটের সাফল্য যে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে সবসময় কাজে দেয় না, সেটাই প্রমাণিত হচ্ছে।
দল নির্বাচনেও প্রশ্ন উঠবে। দীর্ঘদিন ধরেই আইপিএলের পারফরম্যান্সকে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। কিন্তু ফ্র্যাঞ্চাইজি ক্রিকেটের সাফল্য যে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে সবসময় কাজে দেয় না, সেটাই প্রমাণিত হচ্ছে। আইপিএলে পাঞ্জাব কিংসকে সফলভাবে নেতৃত্ব দেওয়ার পর শ্রেয়স আইয়ারকে ভারতের টি-টোয়েন্টি দলের অধিনায়ক করা হল। তাঁর নেতৃত্বে ছয় ম্যাচ কেটে গেলেও জয় অধরাই। আয়ারল্যান্ডের কাছে সিরিজ হারার পর এবার ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধেও সিরিজ খোয়াতে হল। বৈভব সূর্যবংশীকেও নিয়ে প্রশ্ন তৈরি হয়েছে। বয়সভিত্তিক ক্রিকেটে সাফল্যের পর তাকে সরাসরি ইংল্যান্ড সফরে সুযোগ দেওয়া হয়। অন্যদিকে, দু-একটা ম্যাচে রান না পাওয়ায় বাদ সঞ্জু স্যামসন। যা নিয়ে তিরিক্ষি মেজাজে বহু প্রাক্তন। হবে নাই বা কেন? এখনও এক ম্যাচেও ২০ রান পেরতে পারেননি বৈভব। একই ধরনের শর্ট বলে বারবার আউট হচ্ছে সে। এদিনও জফ্রা আর্চারের শর্ট বলে অযথা বড় শট খেলতে গিয়ে সহজ ক্যাচ দেয়। বৈভব ফিরল ১০ বলে ১৫ রানে। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে প্রতিটি বল আক্রমণ করা যায় না। এই সার কথা তাকে যত দ্রুত বোঝানো যাবে, ততই মঙ্গল। বোঝাতে হবে, এতদিন যে ক্রিকেটটা খেলে এসেছ, তার সঙ্গে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট উত্তর দক্ষিণ মেরুর তফাত। নয়তো তুমি এভাবেই ধরা পড়ে যাবে। বারবার।
তবে ব্যর্থতার দায় শুধু বৈভবের নয়। গোটা ব্যাটিংই ধারাবাহিকভাবে ব্যর্থ। অভিষেক শর্মা ১৬ রান করে আদিল রশিদকে উইকেট তুলে দেন। তারও আগে মাত্র ৪ রান করে ফিরে যান ঈশান কিষান। এ দিন অবশ্য ব্যাটিং অর্ডারে অযথা পরীক্ষা-নিরীক্ষার পথে হাঁটেনি ম্যানেজমেন্ট। শিবম দুবেকে উপরে তুলে আনা হয়েছিল। অধিনায়ক শ্রেয়স আইয়ারের সঙ্গে তিনি কিছুটা প্রতিরোধ গড়ে তুললেও ২২ রান করে আউট হন। তাঁর বিদায়ের পর ভারতের ইনিংস দ্রুত ভেঙে পড়ে। একমাত্র লড়েছেন শ্রেয়স। চারটি চার ও পাঁচটি ছক্কায় ৪৯ বলে অপরাজিত ৮০ রান করেন তিনি। ১৫৯ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে শুরুতেই জস বাটলারকে ৮ রানে হারিয়েছিল ইংল্যান্ড। ব্যস ওইটুকুই। এরপর আর কোনও চাপই অনুভূত হয়নি তাদের। ফিল সল্ট ও হ্যারি ব্রুক অনায়াসে ম্যাচ বের করে নেন। ৩৭ বল হাতে রেখেই জয় নিশ্চিত করে ইংল্যান্ড। সল্ট ৪২ বলে ৫৯ রানে অপরাজিত থাকেন। তাঁর ইনিংসে ছিল ৯টি চার ও একটি ছক্কা। ব্রুক ৩৫ বলে অপরাজিত ৭৯ রান করেন। মারেন ৮টি চার ও ৪টি ছক্কা। ফলস্বরূপ ১২ বছর পর ইংল্যান্ডের বিপক্ষে প্রথম টি-টোয়েন্টি সিরিজ হার ভারতের। পাশাপাশি ৭ বছর পর টানা টি-টোয়েন্টি সিরিজ হেরে প্রথমবারের মতো টানা ছ'ম্যাচে জয়শূন্য ভারত।
