shono
Advertisement

পাঁশকুড়ার পুরপ্রধান আনিসুর রহমানের ছ’বছরের শাস্তি, তৃণমূলে চাঞ্চল্য

কথা না শোনায় নির্বাচিত হয়েই সাসপেন্ড।
Posted: 10:27 AM Sep 07, 2017Updated: 07:43 AM Sep 07, 2017

নিজস্ব সংবাদদাতা: দলীয় নির্দেশ অমান্য করে বিজেপিকে সঙ্গে নিয়ে পাঁশকুড়ার পুরপ্রধান নির্বাচিত হওয়ায় ছ’বছরের জন্য সাসপেন্ড করা হল আনিসুর রহমানকে। বুধবার এই ঘটনাকে কেন্দ্রে করে তীব্র চাঞ্চল্য ছড়ায়। যদিও দলের এই হুইপের বিষয়কে অস্বীকার করেছেন আনিসুর। তৃণমূলের জেলা সভাপতি শিশির অধিকারী বলেন, “দলের বিরুদ্ধে কাজ করার জন্য পাঁশকুড়ার তৃণমূল নেতা আনিসুর রহমানকে ছ’বছরের জন্য দল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। এরপর প্রশাসনিক নিয়ম মেনেই চেয়ারম্যানের পদ থেকে সরিয়ে দেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু হবে।”

Advertisement

পূর্ব মেদিনীপুর জেলা প্রশাসনের নির্দেশ অনুযায়ী বুধবার শপথ গ্রহণের অনুষ্ঠানে উপস্থিত হন পাঁশকুড়ার নব নির্বাচিত কাউন্সিলররা। কিন্তু তার আগেই জেলা প্রশাসনিক ভবনের মিটিং হল-এই জেলা সভাপতি শিশির অধিকারীর সই করা একটি চিঠি উপস্থিত সমস্ত তৃণমূল কাউন্সিলরদের মধ্যে বিলি করতে শুরু করেন কাউন্সিলর সইদুল ইসলাম। আর তা ঘিরেই কাউন্সিলরদের মধ্যেই শুরু হয় তীব্র বাদানুবাদ। উপস্থিত কয়েকজন কাউন্সিলর এই চিঠি নিতে অস্বীকার করেন। সে সময় দলের এই হুইপ চিঠি দিতে গেলে আনিসুর রহমান তা ছুড়ে ফেলে দেন বলে অভিযোগ। এই নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যেই তীব্র বচসা শুরু হয়। মন্ত্রী সৌমেন মহাপাত্রের স্ত্রী সুমনা মহাপাত্র অবশ্য সে সময় ছিলেন না। তিনি পরে এসে এই নির্দেশ-চিঠি গ্রহণ করেন।

[ধেয়ে আসছে বজ্রবিদ্যুৎ-সহ বৃষ্টি, সতর্কতা চার জেলায়]

এরপর তমলুকের মহকুমা শাসক শুভ্রজ্যোতি ঘোষ সভাকক্ষে প্রবেশ করেন। শুরু হয় পাঁশকুড়ার কাউন্সিলরদের শপথ গ্রহণ এবং চেয়ারম্যান নির্বাচনের প্রক্রিয়া। তৃণমূলের জেলা সভাপতি শিশির অধিকারির স্বাক্ষর করা ওই হুইপ চিঠিতে বলা হয়েছিল, সর্বভারতীয় তৃণমূল কংগ্রেস কমিটির সিদ্ধান্ত ও দলের রাজ্য সভাপতি সুব্রত বক্সির নির্দেশে এই চিঠি দেওয়া হচ্ছে। পুরপ্রধান নির্বাচনের বৈঠকে সভাপতি হবেন কাউন্সিলর সইদুল ইসলাম খান এবং সভাপতির নাম প্রস্তাব করবেন কাউন্সিলর নন্দকুমার মিশ্র ও সুকুমার ভুঁইঞা। পরিশেষে স্পষ্ট ভাবে বলা হয়, পুরপ্রধান হবেন নন্দকুমার মিশ্র। কাউন্সিলার হরেন্দ্রনাথ মাইতি ও মঞ্জুরি বিবি চেয়ারম্যানের এই নাম প্রস্তাব করবেন।

দলীয় এই চিঠিতে স্পষ্ট ভাবে উল্লেখ করা হয় যে, চেয়ারম্যান নির্বাচনের ভোটে আপনার ভোট নন্দকুমার মিশ্রকে দিতে হবে। কিন্তু দলীয় এই নির্দেশ অনুযায়ী নন্দকুমার মিশ্র পুরপ্রধান নির্বাচনের বৈঠকে সভাপতি হিসেবে সইদুল ইসলাম খানের নাম প্রস্তাব করতেই বাধা দেন আনিসুরের দলবল। তাঁরা কাউন্সিলর নবকুমার ভট্টাচার্যের নাম সভাপতি হিসাবে প্রস্তাব করেন। এরপর ভোটাভুটিতে নবকুমার ভট্টচার্য ১৮টির মধ্যে ১০টি ভোট পান। একইভাবে বিরোধী অনিসুর গোষ্ঠীর কাউন্সিলররা নন্দকুমার মিশ্রের নামের পরিবর্তে আনিসুর রহমানের নাম প্রস্তাব করেন। ভোটাভুটি একইভাবে হেরে যান নন্দকুমার মিশও্র। উল্লেখ্য এই ভোটাভুটিতে বিজেপির একমাত্র কাউন্সিলার সিন্টু সেনাপতিও অংশ নেন।

ভোটে হেরে নন্দকুমার মিশ্র বলেন, “দলের হুইপ অমান্য করে বিজেপিকে সঙ্গে নিয়ে আনিসুর রহমান চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছিলেন। শুধু তাই নয়, দলের নির্দেশিত ওই চিঠিকে পায়ে মাড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। এর জন্য দল ইতিমধ্যেই উপযুক্ত ব্যবস্থা নিয়েছে। আমি দলের অনুগত সৈনিক। দলনেত্রী আমাকে চেয়ারম্যান করতে চেয়েছিলেন। তাঁর এই সিদ্ধান্তেই আমি গর্বিত। আমরা এরপর দলের অনুগত সৈনিকের মতোই সমস্ত নির্দেশ মেনে চলব।” এদিকে আনিসুর রহমান বলেন, “দলের হুইপ আমি পাইনি। নিয়ম অনুযায়ী দলীয় হুইপ-চিঠি নিয়ে আগেই মিটিং করা উচিত ছিল। গোপন ব্যালটে এদিন সবাই ভোট দিয়েছে। কে কাকে ভোট দিয়েছে, এ বিষয়ে আমার কিছু জানা নেই।” দল থেকে সাসপেন্ড সম্পর্কে আনিসুর সাহেব বলেন, “আমি মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দে্যাপাধ্যায়ের আদর্শে বিশ্বাসী। আমি তৃণমূল ছাড়ছি না।” দলীয় রাজনীতিতে আনিসুর রহমান বরাবর শুভেন্দু-শিশির অধিকারীর বিরোধী বলে পরিচিত। এদিনের হুইপ অমান্য সেই বিরোধিতারই ফসল। কিন্তু শুভেন্দু-শিশিরের বিরোধিতা করতে গিয়ে শেষ পর্যন্ত সাসপেন্ড হতে হল আনিসুরকে।

[নারদ কাণ্ডে সিবিআইয়ের মুখোমুখি সৌগত, তলব শুভেন্দুকেও]

Sangbad Pratidin News App

খবরের টাটকা আপডেট পেতে ডাউনলোড করুন সংবাদ প্রতিদিন অ্যাপ

Advertisement