নির্বাচনের মুখে তৃণমূল নেতার ভাইরাল অডিও ঘিরে অস্বস্তিতে শাসকশিবির। জানা গিয়েছে, ঘটনার সূত্রপাত কাটোয়ার বিদায়ী বিধায়ক তথা তৃণমূল প্রার্থী রবীন্দ্রনাথ চট্টোপাধ্যায়ের প্রচার কর্মসূচি ও দলীয় বৈঠক ঘিরে। সেই মিটিংয়ে যোগ দিলেই নাকি চালকদের নম্বর প্লেট বিতরণ করবে তৃণমূল টোটো ইউনিয়ন। তৃণমূল নেতার এমন এক অডিও প্রকাশ্যে আসতেই তোলপাড়।
অডিওতে (সত্যতা যাচাই করেনি সংবাদ প্রতিদিন) শোনা যাচ্ছে, ১৭ টি বুথের টোটো চালকদের নম্বর প্লেট বিতরণের বার্তা দিচ্ছেন কাটোয়া ২ ব্লকের পলসোনা অঞ্চল তৃণমূল সভাপতি বীরবল মণ্ডল। অডিওতে নেতার দাবি, রাস্তায় তৃণমূল ইউনিয়নের নম্বর প্লেট লাগানো টোটো দেখলেই বুঝে যাবে পুলিশ। সুতরাং, রাস্তায় পুলিশি ঝামেলা এড়িয়ে টোটো চালাতে পারবেন চালকরা। এই অডিও প্রকাশ পেতেই কাটোয়ার তৃণমূল নেতার বিরুদ্ধে ক্ষোভপ্রকাশ বিজেপির।
রাজ্যজুড়ে টোটো দৌরাত্ম্য কমাতে গত বছরেই টোটোর রেজিস্ট্রেশন চালু করে প্রশাসন। RTO দপ্তরে সঠিক নিয়ম মেনেই টোটো রেজিস্ট্রেশনের নির্দেশ দিয়েছিলেন রাজ্যের পরিবহণ মন্ত্রী স্নেহাশিস চক্রবর্তী। বিজেপির অভিযোগ, 'একটা রাজনৈতিক দল কিভাবে টোটোচালকদের নম্বর প্লেট দিতে পারে? নির্বাচনীবিধি লাগু হয়ে যাওয়ার পর কোনও রাজনৈতিক দল এইভাবে প্রচার করতে পারে কি?' স্বভাবতই প্রশ্ন তুলেছে বিরোধীরা।
বিজেপির ৪ নম্বর মণ্ডল সভাপতি সূর্যদেব ঘোষের অভিযোগ, "তৃণমূল নেতার ওই অডিও বার্তা প্রমাণ করে আগেই পুলিশ প্রশাসনের সঙ্গে শাসকদলের কথা হয়েছে। পুলিশের তল্লাশি এড়িয়ে ভোটের সময় ওই টোটোতেই অস্ত্র বা টাকা পাচার হবে। এই আশঙ্কা থেকেই আমরা নির্বাচন কমিশনের কাছে অভিযোগ জানিয়েছি।" বিতর্কের মুখে তৃণমূল নেতা বীরবল মণ্ডল জানান, "টোটোর নম্বর প্লেট বা রেজিস্ট্রেশনের কথা বলতে চাইনি। বলতে চেয়েছিলাম দল থেকে একটা করে লোগো দেওয়া হবে। ভাষাগত ত্রুটি হয়েছিল, পরে সংশোধন করে নিয়েছি।" গোটা ঘটনায় পূর্ব বর্ধমান জেলা তৃণমূলের সাধারণ সম্পাদক বাগবুল ইসলাম বলেন, "প্রকৃত ঘটনা কি তা খতিয়ে দেখা হবে। আমাদের দলের বিধায়করা সমস্ত টোটোচালকদের রেজিস্ট্রেশন দেওয়ার জন্য প্রশাসনের কাছে সুপারিশ করেছেন।"
