ইট-কাঠ-পাথরের খাঁচায় বন্দি আধুনিক নাগরিক জীবন। ফ্ল্যাটের এক চিলতে দেওয়ালে ঝুলছে ঠাকুরের ছোট্ট সিংহাসন। স্থানাভাবে দাঁড়িয়েই সারতে হচ্ছে নিত্য আরাধনা। কিন্তু এই যান্ত্রিক ব্যস্ততা কি কাঙ্ক্ষিত আধ্যাত্মিক শান্তি এনে দিতে পারছে? বাস্তুশাস্ত্র বলছে, উপাসনার পদ্ধতি যদি ত্রুটিপূর্ণ হয়, তবে লাভের চেয়ে লোকসান বেশি। দেবকৃপা লাভের পথটি কেবল ভক্তির নয়, তা সঠিক নিয়মেরও বটে। জ্ঞানত বা অজ্ঞানত আমরা অনেকেই পুজোর সময়ে কিছু ভুল করে ফেলি। যার খেসারত দিতে হয় জীবন দিয়ে।
ছবি: সংগৃহীত
আজকের দিনে দেওয়ালে ছবি বা সিংহাসন টাঙিয়ে দাঁড়িয়ে পুজো করার প্রবণতা বাড়ছে। মাটিতে বসে পুজো করলে দেব-দেবীর মুখমণ্ডল ঠিকমতো দৃশ্যমান হয় না। উপরন্তু ফুল ও নৈবেদ্য অর্পণে সমস্যা দেখা দেয়। বাস্তুবিদদের মতে, এই দাঁড়িয়ে পুজো করার অভ্যাস অত্যন্ত অশুভ। এটি আধ্যাত্মিক শক্তির স্বাভাবিক প্রবাহকে বিঘ্নিত করে। শাস্ত্রে দাঁড়িয়ে উপাসনা করার এই পদ্ধতিকে সম্পূর্ণ অনুচিত বলে ব্যাখ্যা করা হয়েছে। ভুল নিয়মে পুজো করলে পুণ্যলাভ দূর অস্ত, উলটে মানসিক অশান্তি বাড়ে।
বাস্তুশাস্ত্র জানাচ্ছে, উপাসনার প্রকৃত সুফল নিহিত রয়েছে শুদ্ধ আসনে উপবেশনের মধ্যে। আসন পেতে বসে আরাধনা করাই সনাতন ধর্মের মূল নীতি। কিন্তু কেন বসে পুজো করা শুভ? বাস্তু পরিভাষায় এর গভীর বৈজ্ঞানিক ও আধ্যাত্মিক ব্যাখ্যা রয়েছে। যখন আমরা ভূমিতে আসন পেতে বসি, তখন শরীরের অন্তর্গর্ভস্থ ইতিবাচক এনার্জি বা শক্তি পৃথিবীর চৌম্বকীয় তরঙ্গের সঙ্গে সম্পৃক্ত হয়। এই শক্তি ভূমিতে বিলীন না হয়ে মানবদেহে আবর্তিত হতে থাকে। ফলে চঞ্চল মন শান্ত ও স্থির হয়। আধ্যাত্মিক একাগ্রতা বাড়ে।
ছবি: সংগৃহীত
দিকনির্ণয়ও উপাসনার ক্ষেত্রে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। পুজোর সময় সর্বদা পূর্ব দিকে মুখ করে বসা উচিত। এটি সূর্যোদয়ের দিক। যা নতুন শক্তি ও চেতনার প্রতীক। একই সঙ্গে পুজোর উপকরণ সাজানোর ক্ষেত্রেও রয়েছে সুনির্দিষ্ট নিয়ম। ধূপ, দীপ ও ঘণ্টার মতো অগ্নি ও বায়ু উপাদানের জিনিসগুলি সর্বদা থাকবে ডান দিকে। অন্যদিকে ফুল, ফল, অর্ঘ্য জল ও পবিত্র শঙ্খের স্থান হবে বাম দিকে। এই সুসংহত নিয়ম মেনে ভক্তিভরে পুজো করলেই ইষ্টদেবতার আশীর্বাদ লাভ সম্ভব। অন্যথায় অজ্ঞাতসারে ঘটে যাওয়া ভুল ডেকে আনতে পারে নানাবিধ বিপদ-আপদ।
