শাহজাদ হোসেন, ফরাক্কা: তৃণমূল পঞ্চায়েত প্রধানের জাতিগত শংসাপত্র ‘জাল’। তাঁর শংসাপত্র বাতিল করলেন মহকুমা শাসক। ফলে পদ খোয়াতে চলেছেন ফরাক্কা ব্লকের বাহাদুরপুর গ্রাম পঞ্চায়েতের তৃণমূল প্রধান।
ফরাক্কা ব্লকের বাহাদুরপুর গ্রাম পঞ্চায়েতের তৃণমূল কংগ্রেসের প্রধান কুসুম সাহার জাতিগত শংসাপত্র ‘জাল’। তা বাতিল বলে ঘোষণা করেন জঙ্গিপুর মহকুমা শাসক একাম জে সিং। যদিও তাতে পঞ্চায়েত শাসকদলের হাতছাড়ার কোনও প্রশ্নই ওঠে না। বাহাদুরপুর গ্রামপঞ্চায়েতের মোট আসন -১৬। নির্বাচনে তৃণমূল জেতে ১৩টি আসনে। কংগ্রেস ২ ও বিজেপি একটি আসনে জয়লাভ করেছিল। তিন বিরোধী সদস্য দলত্যাগ করে মাস কয়েক আগে তৃণমূলে যোগ দিয়েছেন। জঙ্গিপুর মহকুমাশাসক প্রধানের জাল ওবিসি সার্টিফিকেটের অভিযোগ তদন্ত শেষ করে তাঁর রিপোর্ট মুর্শিদাবাদের জেলাশাসক রাজর্ষি মিত্রকে ২৯ ফেব্রুয়ারি লিখিত আকারে জানিয়েছেন।
[আরও পড়ুন: ‘নরেন্দ্র মোদি ভালো মানুষ’, গেরুয়া শিবিরে পা রেখেই দরাজ সার্টিফিকেট অভিজিতের!]
জেলা শাসককে পাঠানো চিঠিতে জানানো হয়েছে,,বাহাদুরপুর গ্রামপঞ্চায়েতের প্রধান কুসুম সাহা স্থানীয় ভবেশ সাহার নথি জাল করে তাঁর জাতিগত শংসাপত্রটি পেয়েছিলেন। ৩১ মার্চ ২০২৩ সালে ইস্যু হওয়া ওবিসি শংসাপত্রটি বাতিল করা হল। পঞ্চায়েত নির্বাচনে বাহাদুরপুর গ্রাম পঞ্চায়েতের ১৬ নম্বর সংসদ থেকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছিলেন তৃণমূল প্রার্থী হিসাবে কুসুম সাহা। সিপিএমের প্রার্থী হিমাংশু শেখর সাহাকে হারান। প্রধান পদটি ওবিসিদের জন্য সংরক্ষিত হওয়ায় কুসুম সাহা প্রধান নির্বাচিত হয়েছিলেন। প্রধানের ওবিসি সার্টিফিকেট জাল এই অভিযোগ তুলে পরাজিত সিপিএম প্রার্থী হিমাংশু শেখর সাহা হাই কোর্টে মামলা রুজু করেন।
পাশাপাশি জঙ্গিপুর মহকুমা শাসককে লিখিত আকারে হিমাংশু জানান, কুসুম সাহার পৈতৃক বাড়ি বিহার রাজ্যের কাটিহার জেলার পরাণপুর । তিনি তাঁর জাতিগত ওবিসি শংসাপত্রটি জাল করে পঞ্চায়েত ভোটে দাঁড়িয়েছিলেন। লিখিত অভিযোগ মেলার পর তদন্ত শুরু হয়। জানা যায় যে, কুসুমের বিয়ে হয়েছে ফরাক্কা ব্লকের বাহাদুরপুর গ্রামপঞ্চায়েতের বাগদাবড়ার নারায়ন সাহার সঙ্গে। নারায়নের দূর সম্পর্কের এক ভাইপো ভবেশ সাহাকে নিজের ভাই হিসাবে দেখিয়ে জাল ওবিসি শংসাপত্র তৈরি করে পঞ্চায়েত নির্বাচনে প্রার্থী হন কুসুম। শংসাপত্রটিতে ভবেশ সাহার বাবার নাম লেখা রয়েছে কালীপ্রসাদ সাহা। কিন্তু সরকারি পোর্টালে ভবেশ সাহার বাবা হিসেবে নাম রয়েছে ক্ষিতিশচন্দ্র সাহার। এই নথি সামনে আসার পর কুসুমকে ‘শোকজ’ করেছিলেন মহকুমাশাসক।
[আরও পড়ুন: বিজেপিতে যোগ দিচ্ছেন রাজন্যা? লোকসভা ভোটের আগে তুঙ্গে জল্পনা]
এ প্রসঙ্গে হিমাংশু শেখর সাহা জানান, “পঞ্চায়েত প্রধানের বিরুদ্ধে ওবিসি শংসাপত্রটি জাল করার অভিযোগ আনার পর আমাকে বহুবার খুনের হুমকি দেওয়া হয়েছে। এমনকি আমাকে একটি মিথ্যা মামলায় ফাঁসিয়ে ১১ দিন হাজতবাস করানো হয়েছে। জানতে পেরেছি, জঙ্গিপুরের মহকুমা শাসকের ওবিসি শংসাপত্রটি বাতিল বলে ঘোষণা করেছেন। প্রশাসনের এই সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানাই।” যদিও প্রধান কুসুম সাহা বলছেন, “প্রশাসনের কাছ থেকে আমি এখনও এ ধরণের কোনও চিঠি পাইনি। তবে আমার ওবিসি শংসাপত্র বাতিল করা হলে আমি প্রশাসনের সিদ্ধান্তকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে হাই কোর্টে মামলা করব।” ফরাক্কার বিধায়ক মনিরুল ইসলাম বলেন,”শুনেছি ওঁর ওবিসি শংসাপত্রটি নিয়ে একটি জটিলতা দেখা দিয়েছিল। এ ক্ষেত্রে আইন আইনের পথেই চলবে।”
