ফলতায় টানটান নাটক। তর্জন-গর্জনে বাজার মাতিয়ে হঠাৎই ময়দান ছেড়ে পালালেন 'পুষ্পা' জাহাঙ্গির খান। অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের 'ছত্রছায়া'য় তিনি নাকি গড়ে তুলেছিলেন ডায়মন্ড হারবারে রাজত্ব। ক্ষমতার নেশায় তিনি এতটাই বুঁদ ছিলেন যে যোগীরাজ্যের 'সিংঘম' আইপিএস অফিসার অজয়পাল শর্মাকে কার্যত দেখে নেওয়ার হুমকি দিয়েছিলেন। মঙ্গলবার দুপুরেই সেই দাপুটে জাহাঙ্গিরই হঠাৎ হয়ে গেলেন, কাগুজে বাঘ। আত্মসমর্পণের সুরে বললেন, মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী বিশেষ প্যাকেজ দিয়েছেন, আমি আর ভোটে লড়ব না। যারপরনাই মুখ পুড়েছে তৃণমূল কংগ্রেসের। তড়িঘড়ি মান বাঁচাতে বিবৃতি দিয়েছে ঘাসফুল শিবির। এবিষয়ে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী জানিয়েছেন, এটা তৃণমূলের কৌশল। ভোটের আগে ইচ্ছা করে নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ানোর কথা বলা হচ্ছে। এর পিছনে কোনও ছক থাকতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন শুভেন্দু।
বিবৃতিতে তৃণমূল জানিয়েছে, "ফলতার পুনর্নির্বাচন থেকে জাহাঙ্গির খানের সরে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত সম্পূর্ণ তাঁর ব্যক্তিগত। দল এই সিদ্ধান্ত নেয়নি। ৪ মে নির্বাচনের ফলাফল ঘোষণার পর থেকে শুধু ফলতা আসনেই তৃণমূলের শতাধিক কর্মীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। দিনের আলোয় ভয় দেখিয়ে দলের বেশ কয়েকটি কার্যালয় ভাঙচুর করা হয়েছে, বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে এবং জোর করে দখল করা হয়েছে। অথচ বারবার অভিযোগ করা সত্ত্বেও নির্বাচন কমিশন দেখেও না দেখার ভান করছে। এইসব চাপের মুখেও তৃণমূল কর্মীরা অটল রয়েছেন। বিভিন্ন সংস্থা ও প্রশাসনের মাধ্যমে বিজেপি যে ভয়ভীতির পরিবেশ তৈরি করেছে তার বিরুদ্ধে প্রতিরোধ চালিয়ে যাচ্ছেন কর্মীরা। তবে, শেষ পর্যন্ত কেউ কেউ চাপের কাছে নতি স্বীকার করে মাঠ ছেড়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।" তৃণমূল আরও লিখেছে, "আমরা এর তীব্র নিন্দা জানাই। বাংলা বিরোধী বিজেপির বিরুদ্ধে আমাদের লড়াই পশ্চিমবঙ্গ এবং দিল্লি দুই জায়গাতেই চলবে।"
যদিও ভয়ের পরিবেশ তৈরি করার অভিযোগ কার্যত উড়িয়ে দিয়েছেন শুভেন্দু অধিকারী। তিনি বলেন, "জাহাঙ্গির খানের আচমকা নির্বাচন থেকে সরে যাওয়ার ঘটনায় অনেকে ভয়ের কথা বলছেন, কেউ বলছেন চাপ। কিন্তু চাপ থাকলে আগে এই সিদ্ধান্ত নয় কেন? ভয়ের পরিবেশ থাকলে বাড়িতে কেন?"
ফলতায় নির্বাচনে মনোনয়ন প্রত্যাহারের সময়সীমা অনেকদিন আগেই পেরিয়ে গিয়েছে। এই অবস্থায় নিজেকে ভোটের ময়দান থেকে সরিয়ে নিলেও ইভিএমে জাহাঙ্গিরের নাম থাকবে। এই পরিস্থিতিতে জাহাঙ্গিরের ভোট থেকে সরে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্তে মুখ পুড়েছে তৃণমূলের। যদিও এবিষয়ে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী বলেন, "এখন তো সব ইভিএমে ওঁর নাম, ছবি, প্রতীক সব রয়েছে। সব কমপ্লিট। কমিশনের কাছে অফিসিয়াল কোনও কিছু জানিয়ে নির্দিষ্ট তারিখের মধ্যেও প্রার্থীপদ প্রত্যাহার করেননি তিনি। তাহলে নির্বাচনে জিতলে কি তিনি সার্টিফিকেট নেবেন না? নাকি এখানে অন্য কোনও ছক রয়েছে?" এর পাশাপাশি মুখ্যমন্ত্রী ফলতাতে ১০০ শতাংশ ভোটদানের আহ্বান জানিয়েছেন।
আগামী ২১ মে ফলতা বিধানসভায় পুনর্নির্বাচন। আজ, মঙ্গলবার ভোটের প্রচার শেষ হচ্ছে। কিন্তু তার আগেই সাংবাদিক বৈঠকে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর ভূয়সী প্রশংসা করে, ভোটের লড়াই থেকে সরে যাওয়ার ঘোষণা করেন ‘বাহুবলি’ জাহাঙ্গির খান। এবিষয়ে তৃণমূল বিধায়ক কুণাল ঘোষের মন্তব্য, "পুষ্পা ভয় কেন পেল, তা খতিয়ে দেখবে দল। তাঁর কথায়, নিশ্চয়ই এলাকায় ভয়ের পরিবেশ তৈরি করা হয়েছিল।"
