চন্দ্রশেখর চট্টোপাধ্যায়, আসানসোল: বছরের শেষ দিনে বিষাদ। দামোদরে স্নান করতে নেমে মৃত্যু হল পাঁচ বন্ধুর। আসানসোলের হীরাপুরের ঢাকেশ্বরী পাম্প হাউস ঘাটে ঘটে এই ঘটনা।
[পারিবারিক অশান্তি, বাবা এবং বড় দাদার হাতে নৃশংসভাবে খুন যুবক]
আসানসোলের শ্রীপল্লির ১২ জন যুবক রবিবার পিকনিক করতে বেরিয়েছিলেন। তাদের গন্তব্য ছিল হীরাপুরের সূর্যনগর এলাকার ঢাকেশ্বরী নদী ঘাট। ওই ঘাটে পাম্প হাউস রয়েছে বলে তা ঢাকেশ্বরী পাম্প হাউস নামেও পরিচিত। সম্প্রতি সেখান বালি তোলার কাজ চলছিল বলে অভিযোগ। চোরাস্রোতের টানে পাঁচ যুবক তলিয়ে যায়। তাদের নাম শুভেন্দু কাজি, পরিচয় চট্টোপাধ্যায়, পথিক নন্দী, রাহুল দেবনাথ, ও দেবব্রত রায়। জানা গিয়েছে সৌভিক বসু নামে আরও একজন তলিয়ে গেলেও স্থানীয়দের সাহায্যে ওই যুবক প্রাণে বেঁচে যান। আসানসোল জেলা হাসপাতালে চিকিৎসাধীন সৌভিক। প্রত্যেকের বয়স আঠারো থেকে বাইশের মধ্যে। নদীতে নেমেছিলেন ৬ জন। যার মধ্যে ৫জন তলিয়ে যায় ও একজন বেঁচে যায়। শুভজিৎ চট্টোপাধ্যায় নামে এক যুবক বাকি বন্ধুদের বাঁচানোর চেষ্টা করলেও একজনকেই উদ্ধার করতে পারে।
[পাঁচিল টপকে উধাও বিচারাধীন বন্দি, চাঞ্চল্য ছড়াল রঘুনাথপুরে]
বিকেলের দিকে ঘটনাস্থলে পৌঁছায় হীরাপুর থানার পুলিশ, বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিণী ও দমকল। স্থানীয়রাও নদীতে নেমে খোঁজাখুঁজি শুরু করলেও রাত পর্যন্ত ওই পাঁচ যুবকের কোনও হদিশ পাওয়া যায়নি। সোমবার সকালে পাঁচজনের নিথর দেহ উদ্ধার হয়। ঘটনাস্থলে যান হীরাপুরের কাউন্সিলর তথা মেয়র পারিষদ লক্ষণ ঠাকুর ও আসানসোল পুরনিগমের ৫১ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর বাবন বন্দ্যোপাধ্যায়। তলিয়ে যাওয়া ওই পাঁচ যুবক ৫১ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা। উল্লেখ্য মহালয়ার দিন পিতৃতর্পণ করতে গিয়ে ওই ঘাটের কাছেই দামোদরে তলিয়ে যান মন্ত্রী মলয় ঘটকের দাদা অসীম ঘটক। তারপরেই প্রশাসন থেকে সিদ্ধান্ত হয়েছিল বালি তোলা হয় যে ঘাটে, সেখানে বিপজ্জনক নোটিস দেওয়া হবে। বিশেষ করে পুলিশ নজরদারি থাকবে মহালয়া, ছট, পিকনিকের মরসুম ও মকর সংক্রান্তির মতো উৎসবের দিনগুলিতে। কিন্তু বছরের শেষদিন ঘটে গেল অঘটন। পাঁচ তরতাজা যুবকের মৃত্যুতে শোকস্তব্ধ হীরাপুর।
The post বর্ষশেষে বিষাদ, পিকনিকের আনন্দের মাঝে দামোদরে সলিলসমাধি ৫ বন্ধুর appeared first on Sangbad Pratidin.
