দিব্যেন্দু মজুমদার, হুগলি: ২০১৮-র পঞ্চায়েত নির্বাচনে রাজ্যে প্রথম কোনও রূপান্তরকামী শিক্ষিকাকে পোলিং অফিসার হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু ভোটগ্রহণ কেন্দ্রে কোনও রূপান্তরকামী বুথ নেই, তাই ভোটকর্মীর দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি নিয়ে সরে দাঁড়ালেন রুপান্তরকামী শিক্ষিকা অত্রি কর। তিনি প্রতিবাদস্বরূপ ভোটের দায়িত্ব থেকে সরে দাঁড়ানোর কথা জানিয়ে হুগলি জেলাশাসকের কাছে আবেদন জানিয়েছিলেন। তার সেই আবেদন প্রশাসন মঞ্জুরও করেছে।
[বিরোধীদের ব্যর্থতা তুলে ধরতে দলীয় প্রার্থীদের প্রচারে গান বাঁধলেন অর্পিতা ঘোষ]
অত্রির বাড়ি ত্রিবেণীতে। তিনি কুন্তীঘাট রামনগর প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষিকা। বিদ্যালয়ের খুদে পড়ুয়াদের অত্যন্ত প্রিয় এই শিক্ষিকা এবছর আইএএস পরীক্ষায় বসছেন। সমাজের অবহেলিত বঞ্চিত মানুষদের জন্য বহু ঘাত-প্রতিঘাতের মধ্য দিয়ে লড়াই করে যাচ্ছেন অত্রি। এবছর পঞ্চায়েত ভোটে পোলিং অফিসার হিসেবে তাকে ডিউটি দেওয়া হয়। তার জন্য তিনি গত রবিবার ভোটের জন্য প্রথম ট্রেনিংয়ে যোগ দেন। অত্রি জানান, ‘ট্রেনিং সেন্টারে গিয়ে জানতে পারি ভোটগ্রহণ কেন্দ্রে কোনও ট্রান্সজেন্ডার বুথ নেই।’ তিনি বলেন, পুরুষ ও মহিলা বুথ যদি থাকতে পারে তাহলে ট্রান্সজেন্ডার বুথ কেন থাকবে না। তাঁর দাবি, ভেদাভেদ না করে জেন্ডারনিউট্রাল বুথ যদি করা হয় তবেও তিনি ভোটের ডিউটি পালন করতে রাজি। কিন্তু এখানে সেরকম কোনও ব্যবস্থা নেই। তিনি প্রতিবাদ করে বলেন, যেখানে সমাজের প্রত্যেকটা মানুষের নিজস্ব সম্মান আছে সেখানে তাঁকেই বা কেন সমাজের তৈরি করা বক্সে নিজের ব্যক্তিস্বত্তাকে বিসর্জন দিয়ে বসতে হবে। তাই তাঁর দাবি, ‘আমাকে আমার মতো করে কোনও তৃতীয় জায়গা করে দেওয়া হোক নয়তো জেন্ডার নিউট্রাল বুথ করে সেখানে ভোটের দায়িত্ব দেওয়া হোক।’
অত্রি বলেন, ট্রান্সজেন্ডার বুথ হলে সরকারি জায়গায় রুপান্তরকামীদের পরিসংখ্যান প্রকাশ্যে আসবে। তিনি মনে করেন এই পরিসংখ্যান প্রকাশ্যে আসলে তাতে সমাজের মঙ্গল হবে। তাই প্রতিবাদ জানিয়ে তিনি জেলাশাসককে ভোটের ডিউটি থেকে অব্যাহতি চেয়ে আবেদন জানিয়েছিলেন এবং সেই আবেদন মঞ্জুরও হয়েছে।
[বাগনানে তৃণমূল কংগ্রেসের প্রচারে শামিল রূপসী বৃহন্নলারা, মেলা ভিড় রাস্তায়]
The post ট্রান্সজেন্ডার বুথ নেই, ভোটকর্মীর দায়িত্ব থেকে সরে দাঁড়ালেন রুপান্তরকামী শিক্ষিকা appeared first on Sangbad Pratidin.
