উত্তাল বঙ্গোপসাগরে মাছ ধরতে গিয়ে ফের ট্রলারডুবি! উত্তাল সমুদ্রে ঢেউয়ের সঙ্গে কার্যত যুদ্ধ করে প্রাণে বেঁচে থাকলেন ১২ জন মৎস্যজীবী। পরে তাঁদের উদ্ধার করা হয়েছে। ঘটনাটি ঘটেছে, দক্ষিণ ২৪ পরগনার বকখালি এলাকা থেকে প্রায় ১২ থেকে ১৪ কিমি দূরে। দুর্ঘটনাগ্রস্ত মৎস্যজীবীদের উদ্ধার করে ফ্রেজারগঞ্জে নিয়ে আসা হচ্ছে। তাঁদের প্রাথমিক চিকিৎসার ব্যবস্থা হয়েছে।
প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে সম্প্রতি গভীর সমুদ্রে মাছ ধরতে যাওয়ার উপর নিষেধাজ্ঞা জারি ছিল। গত ৮ তারিখ ওই নিষেধাজ্ঞা উঠে যায়। তবে সমুদ্র উত্তাল রয়েছে খারাপ আবহাওয়ার কারণে। মাছ ধরতে গভীর সমুদ্রে ফ্রেজারগঞ্জ থেকে রওনা হয়েছিলেন ১২ মৎস্যজীবী। আল ফাতেহা নামে ওই ট্রলারটি বকখালি এলাকায় যাওয়ার পরেই দুর্ঘটনার কবলে পড়েছিল। জল ঢুকতে থাকে ট্রলারে। বিপদ বুঝতে পেরে অনেকেই জলে ঝাঁপ দেন। ক্রমে ওই ট্রলারটি ডুবে যায়। প্রবল স্রোত, ঢেউয়ের মধ্যেই বাঁচার চেষ্টা চলতে থাকে।
ট্রলারডুবির অন্যান্য মৎস্যজীবীর কাছে পৌঁছয়। শেষপর্যন্ত অকুস্থলে পৌঁছয় বেশ কয়েকটি ট্রলার। ক্রমে ১২ জন মৎস্যজীবীকে উদ্ধার করে ট্রলারে তোলা হয়। ডুবে যাওয়া ট্রলারটিকেও উদ্ধার করে নিয়ে আসা হচ্ছে। ট্রলার ও মৎস্যজীবীদের ফ্রেজারগঞ্জে নিয়ে আসা হচ্ছে। কোনওক্রমে প্রাণে বেঁচেছেন তাঁরা। এমনই জানিয়েছেন উদ্ধারকারীরা। কিন্তু কীভাবে ওই দুর্ঘটনা ঘটল? প্রাথমিকভাবে জানা গিয়েছে, ট্রলারের মেশিনের সঙ্গে একটি পাইপ থাকে। ওই পাইপ দিয়ে সমুদ্রের জল ভিতর থেকে বেরিয়ে যায়। সেই পাইপটি ভেঙে যাওয়ায় ট্রলারের ভিতর জল ঢুকে যায়। জল ভরে গিয়েই ডুবে যায় ওই ট্রলারটি!
এদিকে পূর্ব মেদিনীপুরের শংকরপুর থেকে মাছ ধরতে গিয়ে ট্রলার সমেত নিখোঁজ হয়ে গিয়েছিলেন ১৫ জন মৎস্যজীবী। গত ৬ জুলাই থেকে নিখোঁজ ছিলেন। আজ, শনিবার সকালে তাঁদের অবস্থান জানা গেল। দক্ষিণ ২৪ পরগনার পাথরপ্রতিমার গোবর্ধনপুরে সমুদ্রের থেকে ১৫ কিমি দূরে বাঘেরচর এলাকায় তাঁদের খোঁজ পাওয়া গিয়েছে।
