রাখির দিনটা কেটেছিল হইহই করে। নাতি-নাতনিদের হাতে রাখিও পরেছিলেন। সেই রাতেই মালদহে ব্যবসায়ীর মর্মান্তিক পরিণতি। নাতির হাতেই নৃশংসভাবে খুন হতে হয়েছিল তাঁকে। মালদহের ২ নম্বর গভর্মেন্ট কলোনির ঘটনায় ১২ ঘণ্টায় খুনের রহস্যভেদ করল পুলিশ। ওই ব্যবসায়ীর নাতি ও তার বন্ধুকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
পুলিশ সূত্রে খবর, কলকাতার বাসিন্দা ব্যবসায়ী অর্ণব সেন। বিয়ে করেননি। পরিবার বলতে মালদহে বোন, ভাগ্নে ও নাতি-নাতনিরা। বৃহস্পতিবার রাখি উপলক্ষে সেখানেই গেছিলেন। জানা গিয়েছে, বৃহস্পতিবার রাতে তাঁর ঘরে যায় নাতি শুভজিৎ ও তার বন্ধু কৌশিক। দাদুর সঙ্গে গল্প করতে করতে চা-ও খেতে চান দুই যুবক। তাদের জন্য ইন্ডাকশনে চা করে খাওয়ান ওই প্রৌঢ়। এই সময়েই দাদুর থেকে টাকা চান নাতি। রাজি না হতেই দাদুর উপর চড়াও হয় দু'জনে। প্রথমে মুখে বালিশ চাপা দিয়ে শ্বাসরোধের চেষ্টা করা হয়, পরে অস্ত্র দিয়ে গলায় কোপ মেরে তাঁকে খুন করা হয়।
শুক্রবার সকালে ঘর থেকে রক্তাক্ত দেহ উদ্ধার হয় ওই ব্যবসায়ীর। গোটা ঘর লন্ডভন্ড। আলমারিও খোলা ছিল। পুলিশ ঘরে ঢুকে দেখতে পায় ইন্ডাকশন অন রয়েছে। টেবিলে রয়েছে চায়ের দাগ লেগে থাকা দুটো কাপ। এসব দেখেই পুলিশ একরকম নিশ্চিত হয় যে, খুনি নিহতের পরিচিতই কেউ।
বাড়ির লোকজন এবং পরিচিতদের জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করে পুলিশ। খতিয়ে দেখা হয় এলাকার সিসিটিভি ফুটেজও। নিহতদের মোবাইলের খোঁজ করতেই পুলিশ বুঝতে পারে সেটি উধাও। তার লোকেশন ট্র্যাক করে পুলিশ দেখে ফোনটি ঘটনাস্থল থেকে ৫ কিলোমিটার দূরে। সেই সূত্র ধরে হানা দিয়েই অভিযুক্তদের পাকড়াও করে পুলিশ। উদ্ধার হয় নিহতের মোবাইলও। মালদহ জেলার পুলিশ সুপার অনুপম সিংহ জানান, অনলাইন গেমের চক্করে বাজারে কয়েক লক্ষ টাকা ধার-দেনায় জড়িয়ে গিয়েছিল ওই দুই যুবক। টাকা শোধ দেবেন কী ভাবে, এ নিয়ে ভাবতে ভাবতে ব্যবসায়ী দাদুর থেকে টাকা হাতানোর পরিকল্পনা করা হয়। রাজি না হতেই খুনের ছক কষা হয়েছিল বলে জানা গিয়েছে।
