বর্ধমান বিশ্ববিদ্যালয়ের দূরশিক্ষা বিভাগে বিভিন্ন বিষয়ে ২০২৬-২৭ শিক্ষাবর্ষে পঠনপাঠনের অনুমতি দিল না বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন বা ইউজিসি। শর্ত পূরণে ব্যর্থ হওয়ায় বিশ্ববিদ্যালয়ের আবেদন খারিজ হয়েছে। ফলে চলতি শিক্ষাবর্ষে উচ্চশিক্ষায় ভর্তির সুযোগ পাবেন না বহু পড়ুয়া। শুক্রবার এনিয়ে সাংবাদিক বৈঠক করে এসএফআই। তাদের অভিযোগ বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে উদাসীনতা ও গাফিলতির কারণে এই পরিস্থিতি তৈরি হল। এর আগে তৃণমূল জমানাতেও একইভাবে বর্ধমান বিশ্ববিদ্যালয়ে বন্ধ হয়েছিল দূরশিক্ষা বিভাগের পঠনপাঠন। তিনবছর বন্ধ ছিল। ফের একই পরিস্থিতির সৃষ্টি হল।
ইউজিসি নিয়মানুসারে, পঠনপাঠন চালিয়ে যেতে ন্যাকের (NAAC) স্কোর ৩.০১ থাকার কথা। কিন্তু বিশ্ববিদ্যালয়ের ন্যাক স্কোর ২০.৯১। এছাড়া কেন্দ্রীয় শিক্ষা মন্ত্রকের এনআইআরএফ তালিকায় দেশে ১০০-এর মধ্যে থাকতে হবে। কিন্তু ২০২৪ ও ২০২৫ সালে বিশ্ববিদ্যালয় প্রথম একশোর মধ্যে জায়গা পায়নি। এই দুটি শর্তর কোনও একটি পূরণ করতে পারলে তবেই দূরশিক্ষা বিভাগের পঠনপাঠন চালানোর অনুমতি দেয় ইউজিসি। কিন্তু বর্ধমান বিশ্ববিদ্যালয় একটি শর্তও পূরণ করতে পারেনি।
দূরশিক্ষা বিভাগে ২০২৬-২৭ শিক্ষাবর্ষে বিভাগের বিভিন্ন কোর্স চালানোর জন্য আবেদন জানানো হয়েছিল। ইউজিসি বুধবার বর্ধমান বিশ্ববিদ্যালয়কে চিঠি পাঠিয়ে তাদের আপত্তির কথা জানিয়ে দিয়েছে কর্তৃপক্ষ। ইউজিসি নিয়মানুসারে, পঠনপাঠন চালিয়ে যেতে ন্যাকের (NAAC) স্কোর ৩.০১ থাকার কথা। কিন্তু বিশ্ববিদ্যালয়ের ন্যাক স্কোর ২০.৯১। এছাড়া কেন্দ্রীয় শিক্ষা মন্ত্রকের এনআইআরএফ তালিকায় দেশে ১০০-এর মধ্যে থাকতে হবে। কিন্তু ২০২৪ ও ২০২৫ সালে বিশ্ববিদ্যালয় প্রথম একশোর মধ্যে জায়গা পায়নি। এই দুটি শর্তর কোনও একটি পূরণ করতে পারলে তবেই দূরশিক্ষা বিভাগের পঠনপাঠন চালানোর অনুমতি দেয় ইউজিসি। কিন্তু বর্ধমান বিশ্ববিদ্যালয় একটি শর্তও পূরণ করতে পারেনি। তাই আবেদন বাতিল করেছে ইউজিসি।
এসএফআই-এর পূর্ব বর্ধমান জেলা সম্পাদক ঊষসী রায়চৌধুরী জানান, বর্ধমান বিশ্ববিদ্যালয়ের দূরশিক্ষা বিভাগের স্বীকৃতি পাওয়া নিয়ে এর আগেও সমস্যা তৈরি হয়েছিল। দীর্ঘ ৩ বছর ভর্তি প্রক্রিয়া বন্ধ থাকার পর এসএফআই-এর ধারাবাহিক আন্দোলনের ফসল হিসেবে ২০২২ সালে পুনরায় চালু হয় ভর্তি প্রক্রিয়া। তিনি বলেন, ‘‘বর্তমানে অর্থনৈতিক সংকট দেখা দিয়েছে তার প্রভাবে বহু ছাত্রছাত্রীকে দূরশিক্ষার মাধ্যমকে বেছে নিতে হয়। যাঁরা নির্দিষ্ট সময়ে রেগুলার কোর্সে পড়তে পারেন না বা পারেননি তাঁরাও দূরশিক্ষার মাধ্যমে উচ্চশিক্ষা অব্যাহত রাখতে পারেন। বর্ধমান বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের দায়সারা মনোভাব ও অকার্যকারিতার জন্যে বিশ্ববিদ্যালয়ের লেখাপড়ার পরিকাঠামোর অবনমন ঘটেছে।"
আজ দূরশিক্ষা বিভাগের অনিশ্চয়তার দায় কর্তৃপক্ষকে নিতে হবে এবং দূরশিক্ষা বিভাগকে পুনরায় চালু করার জন্যে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ করতে হবে বলে দাবি তুলেছে এসএফআই। বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য শংকরকুমার নাথ আশ্বাস দিয়েছেন, বিষয়টি নিয়ে খোঁজ নিয়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ করা হবে।
