অরূপ বসাক, মালবাজার: নদী গিলেছে শেষ আশ্রয়৷ চোখের সামনে ভেসে গিয়েছে জমি-বাড়ি৷ তবুও জীবনের তাগিদে সেই নদীর চরে বসবাস৷ এখানে বর্ষা মানেই অভিশাপ৷ কারণ, প্রতি বছর বর্ষায় নদীতে প্রবল জলোচ্ছ্বাসের জন্য ভাঙন দেখা দেয়৷ নদীগর্ভে মিশে যায় বিঘার পর বিঘা জমি৷ অভিযোগ, ভাঙন রোধে প্রশাসন ব্যর্থ৷ বারংবার অভিযোগ জানানো হলেও কোনও কাজ হয়নি৷ আসন্ন পঞ্চায়েত নির্বাচনের আগে তাই নদী ভাঙন রোধে স্থায়ী বাঁধ তৈরি করার জোরালো দাবি জানালেন মেটেলি ব্লকের কৃষি প্রধান বিধাননগর গ্রাম পঞ্চায়েতের শুয়োরপিটা এলাকার বাসিন্দারা৷
কুর্তি নদীর ভাঙন রোধে এলাকায় পাথর, জালি-সহ স্থায়ী বাঁধ তৈরির দাবি প্রসঙ্গে স্থানীয় বাসিন্দা মালতি রায়, সুমনা বৈরাগীদের বক্তব্য, প্রতি বছর বর্ষায় ওই এলাকায় ভাঙন দেখা দেয়৷ বহু জমি ভাঙনের কবলে নদীতে চলে গিয়েছে৷ বর্ষায় ভাঙন দেখা দিলে গ্রাম পঞ্চায়েত থেকে দায়সারা ভাবে বাঁশ ও বালির বস্তা দিয়ে বাঁধ তৈরি করা হয়৷ কিন্তু তাতে কোনও কাজ হয় না৷ নদীর জলের এতটাই বেগ থাকে, ওই বাঁধও ভেঙে দিয়ে চলে যায়৷ দিনের পর দিন ওই নদীর ভাঙন শুয়োরপিটা এলাকার দিকে ধেয়ে আসছে৷ বাসিন্দারা জানান, দ্রুত ভাঙন রোধে নদীর পাশে স্থায়ী বাঁধ তৈরি না করা হলে আরও বহু কৃষি জমি চলে যাবে নদী বক্ষে৷ শুধু তাই নয়, জনবসতি এলাকাও ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে৷ বর্ষায় শুয়োরপিটা এলাকার বাসিন্দারা নদী ভাঙনের আতঙ্কে থাকেন৷ ভোটের আগে তাই ওই এলাকার বাসিন্দাদের নদী ভাঙন রোধে স্থায়ী বাঁধ তৈরির দাবি জানিয়েছেন৷
বিধাননগরের বিদায়ী প্রধান নিতেন রায় জানান, গ্রাম পঞ্চায়েত থেকে ভাঙন রোধে যেটুকু করা দরকার করা হয়৷ ওই এলাকায় স্থায়ী বাঁধ নির্মাণের জন্য সেচ বিভাগকে জানানো হয়েছে৷ আসন্ন পঞ্চায়েত নির্বাচনে ওই এলাকায় এই নদী ভাঙন কেই প্রচারের হাতিয়ার করেছে রাজনৈতিক দলগুলি৷ সকলই স্থায়ী নদী বাঁধ তৈরির আশ্বাস দিচ্ছে৷ তবে, জনগণ কার দিকে আস্থা রাখে তার দিকেই তাকিয়ে এখন রাজনৈতিক মহল৷
The post নদী গিলেছে আশ্রয়, সব হারিয়ে বাঁধ নির্মাণের দাবিতে এককাট্টা গ্রাম appeared first on Sangbad Pratidin.
