ব্রিটিশ বিরোধী স্বাধীনতা যুদ্ধের অন্যতম পথিকৃৎ শহিদ ক্ষুদিরাম বসুর আত্মবলিদানের দিন বীরত্বের ইতিহাস স্মরণ করলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। মঙ্গলবার কেশপুরের মোহবনিতে ক্ষুদিরামের ভিটেতে গিয়ে তাঁকে শ্রদ্ধা জানান মুখ্যমন্ত্রী। সকালে দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়া থাকায় তাঁর কপ্টার মাঝে জরুরি অবতরণ করে। কিন্তু সেসব প্রতিকূলতা কাটিয়ে দুপুরেই মুখ্যমন্ত্রী পৌঁছে যান কেশপুরে।
ক্ষুদিরাম বসুর ভিটে সংস্কার নিয়ে একগুচ্ছ ঘোষণা করেন মুখ্যমন্ত্রী।কেশপুরের মোহবনিতে তাঁর বাসভবনে সংগ্রহশালা, গ্যালারি তৈরি হবে। থাকবে লেজার শো-র ব্যবস্থা।এছাড়া ক্ষুদিরাম বসু ও পূর্ব মেদিনীপুরের স্বাধীনতা সংগ্রাম নিয়ে যাঁরা গবেষণা করতে চান, তাঁদের থাকার ব্যবস্থাও হবে।এসব কাজের জন্য মোহবনি উন্নয়ন বোর্ডকে ৫ কোটি টাকা দান করেছেন মুখ্যমন্ত্রী।
দেশ স্বাধীনতার নেপথ্যে ক্ষুদিরাম বসুর মতো বিপ্লবীর আত্মবিসর্জনকে স্মরণ করে তাঁর ভিটে সংস্কার নিয়ে একগুচ্ছ ঘোষণা করেন।কেশপুরের মোহবনিতে তাঁর বাসভবনে সংগ্রহশালা, গ্যালারি তৈরি হবে। থাকবে লেজার শো-র ব্যবস্থা।এছাড়া ক্ষুদিরাম বসু ও পূর্ব মেদিনীপুরের স্বাধীনতা সংগ্রাম নিয়ে যাঁরা গবেষণা করতে চান, তাঁদের থাকার ব্যবস্থাও হবে।এসব কাজের জন্য মোহবনি উন্নয়ন বোর্ডকে ৫ কোটি টাকা দান করেছেন মুখ্যমন্ত্রী।
কেশপুরের মোহবনিতে ক্ষুুদিরামের মৃত্যুবার্ষিকীর স্মরণসভায় মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী
এ প্রসঙ্গে মুখ্যমন্ত্রী স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহর কথা বলেন। তাঁর কথায়, ‘‘একদিন মাননীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আমাকে ফোন করেন। বলেন, 'শুভেন্দুজি, ক্ষুদিরাম বসুর মৃত্যুদিন আসছে। তাঁর আত্মবলিদান আমাদের সকলের শিক্ষণীয়। আপনি কি তাঁকে নিয়ে কিছু ভাবছেন?' আমি তাঁকে জানাই যে এই দিনটায় কেশপুরে ক্ষুদিরামের বাড়িতে এসে শ্রদ্ধার্ঘ্য জানাব। তিনি আমার উদ্যোগকে উৎসাহিত করেন।''
রাজ্যে পালাবদলের পর এবারই প্রথম ১১ আগস্ট, শহিদ ক্ষুদিরামের মৃত্যুদিন এভাবে পালন করা হচ্ছে।মঙ্গলবার তাঁর বাসভবনে গিয়ে একগুচ্ছ সংস্কারমূলক পরিকল্পনা ঘোষণার পাশাপাশি মুখ্যমন্ত্রী মনে করিয়ে দেন, এমন মহান জীবন পাঠে আরও জোর দিয়ে উদ্বুদ্ধ করতে হবে আজকের প্রজন্মকে। মুখ্যমন্ত্রীর কথায়, ‘‘সিলেবাসের ৪ লাইনে আটকে রাখা হয়েছে ক্ষুদিরামকে। তা করলে হবে না। স্কুল থেকে বিশ্ববিদ্যালয় স্তরে তাঁর ইতিহাস ছড়িয়ে দিতে হবে। এর জন্য আমি শিক্ষাদপ্তরের কাছে আবেদন জানাচ্ছি।''
অবিভক্ত মেদিনীপুর বরাবর সংগ্রামের মাটি। বীরাঙ্গনা মাতঙ্গিনী থেকে শহিদ ক্ষুদিরাম, একের পর এক অগ্নিসন্তানদের মাতৃভূমি এই জেলা। সেই ইতিহাস স্মরণ করে এদিন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী বলেন, ‘‘ঘরে ঘরে পূজিত হবেন ক্ষুদিরাম বসু, মাতঙ্গিনী হাজরারা। এখন যাঁরা দেশকে অসম্মান করছেন, চারপাশে অরাজকতার পরিবেশ তৈরি করছেন, তাঁদের এসব কর্মকাণ্ড রুখে দিতে ক্ষুদিরামের জীবন সংগ্রাম, তাঁর দৃঢ় মনোভাব আরও ছড়িয়ে দিতে হবে।''
এ প্রসঙ্গে তিনি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহর কথা বলেন। তাঁর কথায়, ‘‘একদিন মাননীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আমাকে ফোন করেন। বলেন, 'শুভেন্দুজি, ক্ষুদিরাম বসুর মৃত্যুদিন আসছে। তাঁর আত্মবলিদান আমাদের সকলের শিক্ষণীয়। আপনি কি তাঁকে নিয়ে কিছু ভাবছেন?' আমি তাঁকে জানাই যে এই দিনটায় কেশপুরে ক্ষুদিরামের বাড়িতে এসে শ্রদ্ধার্ঘ্য জানাব। তিনি আমার উদ্যোগকে উৎসাহিত করেন।'' ক্ষুদিরামের ভিটে সংস্কার-সহ নতুন যে প্রকল্পের ঘোষণা করেছেন মুখ্যমন্ত্রী, তা বাস্তবায়নের দায়িত্ব তিনি দিয়ে গেলেন জেলা প্রশাসনকে।
