স্টাফ রিপোর্টার: দশ বছরেরও বেশি সময় ধরে নাবালক ছেলেকে শিকলবন্দি করে রাখতে বাধ্য হয়েছেন। সন্তানকে ওইভাবে দেখে দু’চোখের জল ফেলেছেন বাবা-মা। আর পারছেন না। তাই স্বেচ্ছামৃত্যুর ইচ্ছা প্রকাশ করে প্রশাসনের দ্বারস্থ হন হতভাগ্য বাবা-মা। শেষ পর্যন্ত প্রশাসনের উদ্যোগে ওই নাবালককে শিকল-মু্ক্তি ঘটিয়ে চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হয়েছে। পাশাপাশি, ওই পরিবারকে সরকারি প্রকল্পে ঘর করে দেওয়া থেকে অন্যান্য সুবিধারও ব্যবস্থা করেছে প্রশাসন।
[ফের স্টোনম্যানের কায়দায় খুন, চাঞ্চল্য হাওড়ায়]
কালনার নাদনঘাট থানার সমুদ্রগড়ের দক্ষিণবাটি গ্রামের সাধন বালা ও ফুলমালা বালার ছোট ছেলে অমর মানসিক প্রতিবন্ধী। শুক্রবার বছর ষোলোর ওই কিশোরকে উদ্ধার করে কালনা মহকুমা হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। তার যাবতীয় চিকিৎসার দায়িত্ব নিয়েছে প্রশাসন। মহকুমা শাসাক নীতিন সিংহানিয়া জানান, ওই দম্পতি আবেদনের পরেই তাদের পাশে দাঁড়িয়েছে প্রশাসন। চিকিৎসা থেকে সবরকম সহযোগিতা করা হচ্ছে।
গত বারো বছর ধরে মানসিক রোগে ভুগছে ওই কিশোর। মাঝে মাঝে বাড়ি থেকে বেরিয়ে দূরে চলে যেত। অনেককে মারধরও করত, কামড়ে দিত। প্রথম দিকে ছেলের চিকিৎসা করিয়েছেন। কিন্তু তাতে বিস্তর খরচ হচ্ছিল। খেতমজুর দম্পতি সেই খরচ চালাতে পারছিলেন না। চিকিৎসা বন্ধ হয়ে যায়। ছেলেকে গত দশ বছর ধরে ঘরের মধ্যে শিকল দিয়ে বেঁধে রাখতে বাধ্য হয়েছেন তাঁরা। তাই শেষ পর্যন্ত প্রশাসনের দ্বারস্থ হন বালা দম্পতি। বৃহস্পতিবার ওই দম্পতি কালনার মহকুমা শাসককে চিঠি দিয়ে জানান, ছেলেকে ওইভাবে বেঁধে রাখতে তাঁদেরও কষ্ট হয়। ছেলের মানসিক যন্ত্রণা সহ্য করতে পারছেন না তাঁরা। আবার চিকিৎসা করানোরও সামর্থ্য নেই তাঁদের। ছেলের সঙ্গে নিজেরাও স্বেচ্ছামৃত্যুর আবেদন করেন মহকুমা শাসককে।
ওই দিনই মহকুমা শাসক পূর্বস্থলী-১ ব্লকের বিডিওকে দ্রুত ব্যবস্থা নিতে নির্দেশ দেন। শুক্রবারই প্রশাসনের এক প্রতিনিধি দল বালা দম্পতির বাড়ি যায়। ওই কিশোরকে উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠানো হয়। মহকুমা শাসক নীতিন সিংহানিয়া জানান, খবর পেয়েই ওই কিশোরকে উদ্ধার করে কালনা মহকুমা হাসপাতালে পাঠানো হয়। সেখানকার চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, এই রোগ সেরে যাওয়ার জোরাল সম্ভাবনা রয়েছে। ওই কিশোরকে পরে বর্ধমানে পাঠানো হয়েছে।
[চিৎপুরে প্রেমিকের হাতে খুন বধূ, উদ্ধার গলাকাটা দেহ]
