নন্দন দত্ত, সিউড়ি: মনোনয়ন প্রত্যাহারের শেষ দিনে প্রায় বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় বীরভূমে জয় ছিনিয়ে নিল তৃণমূল কংগ্রেস। গোটা জেলা পরিষদের সঙ্গে সঙ্গে ১৯টি পঞ্চায়েত সমিতির মধ্যে ১৭টি চলে এসেছে শাসকদলের দখলে। শেষবেলায় নির্বাচনের জন্য পড়ে থাকল ময়ূরেশ্বর-এক ও মহম্মদবাজার আসন। শনিবার মনোনয়ন প্রত্যাহারের শেষদিনে সিপিএম ও বিজেপির পক্ষ থেকে প্রায় সব আসনে প্রার্থী পদ প্রত্যাহার করে নেওয়া হয়। এই প্রার্থী পদ প্রত্যাহার প্রসঙ্গে সিপিএমের জেলা সম্পাদক মনসা হাঁসদা জানান, এখানে গণতন্ত্রকে হত্যা করা হল। মানুষ অধিকার থেকে বঞ্চিত হল। বিজেপির জেলা সভাপতি রামকৃষ্ণ রায় বলেন, ‘ক্রমাগত চাপা ও পুলিশি হুমকির ফলে আমাদের প্রার্থীরা নাম প্রত্যাহার করতে বাধ্য হয়েছে। গণতন্ত্রের সামনে এটা মস্ত বড় বিপদ।’
[মনোনয়ন প্রত্যাহারের হুমকি, ভাতারে মহিলা প্রার্থীকে দিনভর পাহারা বিজেপিকর্মীদের]
উল্লেখ্য, গোটা জেলার মধ্যে শুধু ময়ূরেশ্বর এক ও দুই, মহম্মদবাজার, রাজনগর নলহাটিতে মনোনয়ন জমা দিতে পেরেছিল বিরোধীরা। তবে শনিবার বেশিরভাগ জায়গাতেই বিরোধী প্রার্থীরা মনোনয়ন প্রত্যাহার করে নেন। এরমধ্যে নলহাটির ২১টি পঞ্চায়েত সমিতির সবকটিতেই নাম প্রত্যাহার করে নেয় বিরোধীরা। ময়ূরেশ্বর দুই ব্লকের ২১টির মধ্যে ১৮টিতেই বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় জয়ী তৃণমূল। নলহাটি গ্রাম পঞ্চায়েতের ৭৫টি আসনেই প্রার্থী দিয়েছিল বিরোধীরা। এদিন সেখানে মনোনয়ন তুলে নেওয়ার হিড়িক ছিল চোখে পড়ার মতো। দিনের শেষে দেখা গেল, মাত্র আটটি গ্রাম পঞ্চায়েতে ভোটে লড়ার জন্য টিকে রয়েছে বিরোধীরা। এদিন নাম প্রত্যাহার করতে আসা বিরোধীদের গোলাপ দিয়ে স্বাগত জানায় শাসকদলের কর্মী সমর্থকরা। সেই সঙ্গে দেওয়া হয় গুড় বাতাসা। ময়ূরেশ্বর ২ ব্লকে বিক্ষুব্ধদের সঙ্গে সমঝোতা করেই বিবাদ মিটিয়ে নিয়েছে তৃণমূল। রাজনগরেও একের পর এক বিরোধী প্রার্থী এদিন নাম প্রত্যাহার করে নেন। শেষপর্যন্ত পাওয়া খবর অনুযায়ী মহম্মদবাজার ও ময়ূরেশ্বরে পঞ্চায়েত নির্বাচন হবে। যদিও দুটি ব্লকের জেলা পরিষদেই বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় জিতে গিয়েছে শাসকদল। সবমিলিয়ে রাজনগর, ময়ূরেশ্বর দুই ও নলহাটিতে আংশিক নির্বাচন হবে।
[গ্রামীণ হাওড়ায় তৃণমূলকে হারাতে নিচুতলার বাম-কংগ্রেস এখন ভাই ভাই]
এদিকে নির্বাচনে গোটা জেলায় শাসক দলের জয় নিয়ে মুখ খুলেছেন তৃণমূলের জেলা সভাপতি অনুব্রত মণ্ডল। বিরোধীদের বক্তব্যের পরিপ্রেক্ষিতে তিনি বলেন, ‘আমরা কোথাও কাউকে কোনওরকম বাধা দিই না। বিরোধী প্রার্থীরা উন্নয়নের স্বার্থেই নিজেদের নাম প্রত্যাহার করে নিয়েছেন।’ একইভাবে মনোনয়ন প্রত্যাহারের ২৪ ঘণ্টা আগেই মুর্শিদাবাদ জেলা পরিষদের দখল নিয়ে নিয়েছে শাসক তৃণমূল। শুক্রবারেই তৃণমূলের জয়ী আসনের সংখ্যা ৪৩। সংখ্যার বিচারে নবাবি শাসনের স্মৃতিঘেরা জেলায় ৭০ আসনের জেলা পরিষদে ১৪ মে’র ভোটের অনেক আগেই একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেয়ে গিয়েছে জোড়াফুল শিবির।
The post ভোটের আগেই বীরভূম ও মুর্শিদাবাদ জেলা পরিষদ দখল তৃণমূলের appeared first on Sangbad Pratidin.
