প্রবেশ পথে জলপাই পোশাক বা খাকি উর্দিতে বন্দুক হাতে সেন্ট্রিকে দেখে যেন বুক কেঁপে না যায়! কাজ নিয়ে আসা মানুষজন বা অভিযোগ করতে আসা অভিযোগকারীকে ঘণ্টার পর ঘণ্টা বসিয়ে রাখা নয়। পুলিশি আচরণ এমন হোক যাতে 'ভয় আউট, ভরসা ইন' হয়। জঙ্গলমহল পুরুলিয়ার সকল থানার ওসি-আইসিদের একেবারে বৈঠক করে পুলিশ সুপার এমনই নির্দেশ দিলেন। সাফ বলা হল, থানায় আসা সমস্ত মানুষের সঙ্গে অত্যন্ত ধৈর্য ও নম্রতার সাথে কথা বলতে হবে। কাজ নিয়ে আসা বা অভিযোগকারীকে যেন থানায় অপ্রয়োজনে বসিয়ে রাখা না হয়। সরকারি দপ্তরে মানুষকে যাতে হয়রানি না হতে হয় রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর এই বার্তার পর পুরুলিয়ায় পুলিশ সুপারের এই নয়া নির্দেশিকায় বন্ধুত্বপূর্ণ আবহও তৈরি হয়ে গিয়েছে থানায়-থানায়। শুধু গ্রীষ্মের কথা মাথায় রেখে নয়। এখন এই জঙ্গলমহলের জেলার থানায় চেয়ারে বসলেই এক গ্লাস পানীয় জল বার্তা দিতে হবে, পুলিশ তাদের বন্ধু।
পুরুলিয়ার পুলিশ সুপার বৈভব তেওয়ারি বলেন, "মুখ্যমন্ত্রী আমাদের সঙ্গে বৈঠকের পাশাপাশি সব সময় বলছেন সরকারি দপ্তরে কাজ নিয়ে আসা মানুষজনকে কখনওই কোনওরকম হয়রানি করা যাবে না। এই নির্দেশ মাথায় রেখে ওসি-আইসি এবং ইউনিট ইনচার্জদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে থানায় আসা সকল মানুষজনের সাথে ধৈর্য ও নম্রতার সঙ্গে কথা বলতে হবে। অভিযোগকারীকে অযথা বসিয়ে রেখে হয়রান করা যাবে না। থানা মানে ভয় নয়। থানায় আসা মানে একটা বন্ধুত্বপূর্ণ আবহাওয়া যাতে মেলে তা নিশ্চিত করতে
বলা হয়েছে।"
বাম আমলে জঙ্গলমহলের থানাগুলোয় একেবারে ভয়ের পরিবেশই ছিল। বিশেষ করে বনমহলে মাওবাদীদের কার্যকলাপের সময়ে থানার দরজা-ই খোলা হত না। থানার ভেতরে ঢুকতে গেলে রীতিমতো তল্লাশি চলত বলে অভিযোগ। তৃণমূলের জমানায় এমন না হলেও জঙ্গলমহলের বহু থানার বড় দরজা বরাবরের জন্য বন্ধ থাকত। ফলে মানুষ হকচকিয়ে যেতেন। ছোট দরজা দিয়ে ঢুকতে হতো। ফলত কোনও না কোনওভাবে একটা ভয়ের পরিবেশ থাকত-ই। তৃণমূল থেকে বিজেপি ক্ষমতায় আসার পালাবদলে পুরুলিয়ায় বদলে গিয়েছে ওই ছবি। ওসি-আইসিদের অফিসিয়াল সিইউজি ফোন নম্বরে সাধারণ মানুষ প্রয়োজনে ফোন করলে অনেক ক্ষেত্রেই জঙ্গলমহলের ওসি-আইসিরা আগে ফোন ধরতেন না। অথচ ওই ফোন নম্বরটি সাধারণ মানুষের কাছে একটা ভরসার জায়গা। যা পালা বদলে আক্ষরিক অর্থেই মিলছে পুরুলিয়ার থানা গুলিতে।
