শেষমুহূর্তে ভোটের ময়দান থেকে সরে দাঁড়িয়েছেন ফলতার 'পুষ্পা' জাহাঙ্গির খান। বৃহস্পতিবার দেখা গেল ফলতার অধিকাংশ বুথে নেই তৃণমূলের এজেন্টও। এদিকে স্বাভাবিকভাবেই খোশমেজাজে বিজেপি প্রার্থী দেবাংশু পাণ্ডা। তিনি জানেন, জয় নিশ্চিত। ফলে চিন্তার লেশমাত্র নেই তাঁর চেহারায়। ভোটের সকালে ফলতা থেকে তৃণমূলের এই সরে আসা নিয়ে কটাক্ষ করতে ছাড়েননি রাজ্যের মন্ত্রী দিলীপ ঘোষ। তিনি বলেন, "অনেক শুনেছিলাম, ধুরন্ধর নাকি! সে কোথায় গেল? পুলিশ ছাড়া লড়তে ক্ষমতা লাগে।"
ফলতায় চলছে ভোট। ছবি-ব্রতীন কুণ্ডু
গত এপ্রিলে বাংলায় বিধানসভা নির্বাচন হয়েছে। সেই সময় দেখা গিয়েছে বহু বুথে বিরোধীদের এজেন্ট নেই। অভিযোগ উঠেছে, শাসকদলের কর্মী-সমর্থকরা তাঁদের বসতে দেয়নি। তারপর পেরিয়েছে প্রায় ১ মাস। এখন রাজ্যের শাসনভার বিজেপির হাতে। এই পরিস্থিতিতে আজ, বৃহস্পতিবার পুনর্নির্বাচন হচ্ছে ফলতা আসনে। এদিনের ছবিটা একেবারে উলটো। দেখা যাচ্ছে, ২৮৫ টি বুথের সব জায়গায় বিজেপির এজেন্ট রয়েছে। তবে অধিকাংশ জায়গাই তৃণমূলের এজেন্ট নেই। এদিকে সকাল থেকেই খোশমেজাজে বিজেপির প্রার্থী। ঘুগনি-মুড়ি খেয়ে এলাকায় ঘুরে বেড়াচ্ছেন দেবাংশু পাণ্ডা। এদিকে উৎসবের মেজাজে ভোট দিচ্ছেন স্থানীয়রা। কারও চোখে মুখে কোনও শঙ্কার ছাপ নেই।
ফলতায় তৃণমূলের টিকিটে লড়ার কথা ছিল জাহাঙ্গির খান। নির্বাচনের সময় অন্য মেজাজে দেখা গিয়েছিল তাঁকে। সেই সময় তাঁকে বাগে রাখতে ময়দানে নেমেছিলেন 'সিংঘম' অজয়পাল শর্মা। তাঁকে পালটা চ্যালেঞ্জ ছুঁড়েছিলেন 'পুষ্পা' জাহাঙ্গির। কিন্তু বিজেপি ক্ষমতায় আসার পর আর দেখা যায়নি তাঁকে। দিন দুয়েক আগে সংবাদ মাধ্যমের সামনে তিনি জানান, পুনর্নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ানোর কথা। তা নিয়েই এদিন জাহাঙ্গিরকে নিশানা করেছেন দিলীপ। তিনি বলেন, "পুলিশকে সঙ্গে নিয়ে অনেকেই অনেক কিছু করতে পারে। কিন্তু পুলিশের সহযোগিতা ছাড়া আমরা লড়েছি। জিতে এসেছি। এটা সকলের কাজ নয়।" উল্লেখ্য, ফলতা বিধানসভা কেন্দ্রের মোট ভোটার সংখ্যা ২ লক্ষ ৩৬ হাজার ৪৪৪ জন। তার মধ্যে পুরুষ ভোটার রয়েছেন ১ লক্ষ ২১ হাজার ৩০০ জন। মহিলা ভোটারের সংখ্যা ১ লক্ষ ১৫ হাজার ১৩৫ জন। এছাড়াও তৃতীয় লিঙ্গের ভোটার রয়েছেন ৯ জন।
