এবার বিধানসভা নির্বাচনে প্রার্থী হচ্ছেন, তা কানাঘুষো শোনা যাচ্ছিল। চূড়ান্ত প্রার্থী তালিকা ঘোষণার আগেই নিজের অবস্থান স্পষ্ট করলেন গৌতম দেব। ডাবগ্রাম-ফুলবাড়ি বিধানসভায় প্রার্থী হবেন না বলে শুক্রবার নিজেই ঘোষণা করলেন তিনি। জন্মভূমি শিলিগুড়িতেই ফিরছেন। অর্থাৎ তিনি যে প্রার্থী হচ্ছেন, তা যেন স্পষ্ট করে দিলেন। আর এই ঘোষণার পরই তীব্র কটাক্ষ করলেন ডাবগ্রাম ফুলবাড়ির বিজেপি বিধায়িক শিখা চট্টোপাধ্যায়।
গত ২০২১ নির্বাচনে ডাবগ্রাম-ফুলবাড়ি বিধানসভা আসনে পরাজিত হন গৌতম দেব। পর এবার বিধানসভা নির্বাচনে গৌতম দেব কোন আসন থেকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন, তা নিয়ে আলোচনা শুরু হয়ে গিয়েছিল। তবে শেষমেষ কোনও রাখঢাক না রেখেই শিলিগুড়ি সংলগ্ন ফুলবাড়ি ২ গ্রাম পঞ্চায়েতের পশ্চিম ধনতলায় ওয়েস্ট বেঙ্গল স্টেট রুরাল ডেভেলপমেন্ট অথরিটির একটি সরকারি অনুষ্ঠানে তিনি ঘোষণা করে দিলেন, ডাবগ্রাম-ফুলবাড়ি থেকে নয়, শিলিগুড়ি থেকেই লড়ছেন তিনি। তিনি বলেন, "আমি আর ডাবগ্রাম-ফুলবাড়ি থেকে দাঁড়াচ্ছি না। প্রকাশ্যে বলে গেলাম। আমি আমার জন্মভূমি শিলিগুড়িতে ফিরে যাচ্ছি। ডাবগ্রাম-ফুলবাড়িতে আমি যা কাজ করেছি, আমাদের সরকার যা কাজ করেছে, তা এর আগে হয়নি। কিন্তু লোকসভা নির্বাচনে আমাদের দল আর তারপরে বিধানসভা নির্বাচনে আমি পরাজিত হয়েছি। এখানে কাজ করবে তৃণমূল সরকার আর ভোটে জয় পাবে বিজেপি। এটা হতে পারে না। এমন একজন সাংসদ আর বিধায়ককে জয়ী করেছে এখানকার মানুষ, যারা কোনও কাজ করে না।"
পালটা শিখা চট্টোপাধ্যায় বলেন, "ইয়ে ডর মুঝে আচ্ছা লাগা। গৌতম দেব বুঝে গিয়েছেন যে তিনি এবার দাঁড়ালে আর জয়ী হবেন না। তাই আগে থেকে সরে যাচ্ছেন। মানুষ তাঁকে বর্জন করেছে সেটা গৌতম দেব বুঝতে পেরেছেন। আর উনি কি দাঁড়াবেন, দলই ওঁনাকে টিকিট দেবে না। মানুষকে বিভ্রান্ত করা ছাড়া কিছু করেননি।" প্রসঙ্গত, গত লোকসভা নির্বাচনে ডাবগ্রাম-ফুলবাড়ি আসন থেকে ৭২ হাজার ভোটে লিড পেয়েছিল জলপাইগুড়ির সাংসদ জয়ন্ত রায়। পাশাপাশি গত বিধানসভা নির্বাচনে গৌতম দেব ওই আসনে শিখা চট্টোপাধ্যায়ের কাছে প্রায় ৩৫ হাজারের বেশি ভোটে পরাজিত হন। বিধানসভা নির্বাচনে পরাজয়ের পর শিলিগুড়ি পুরনিগমের নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন গৌতম দেব।
