রাত পোহালেই রাজ্যে দ্বিতীয়দফার নির্বাচন (West Bengal Assembly Election)। তার আগেই চাঞ্চল্যকর একটি অডিও তাঁর সমাজমাধ্যমে পোস্ট করলেন ভাতারের তৃণমূল প্রার্থী শান্তনু কোঁয়ার। জানা যায়, চার মিনিট ১১ সেকেন্ডের ওই কথোপকথন আসলে ভাতারের এক বিজেপি নেত্রীর সঙ্গে দলেরই এক যুবনেতার। তাতে বিজেপির ওই নেত্রী শুচিস্মিতা হাটিকে প্রচণ্ড উত্তেজিত হয়ে কথা বলতে শোনা যাচ্ছে। যেখানে তিনি জানাচ্ছেন, প্রার্থী সৌমেন কার্ফা ঘনিষ্ঠ দলেরই দুজন তাঁকে এবং তাঁর নাবালিকা মেয়েকে জড়িয়ে কীভাবে কদর্য ভাষায় হুমকি দিয়েছে। মঙ্গলবার সকালে শান্তনু কোঁয়ার ওই অডিও ক্লিপ সামাজিক মাধ্যমে পোস্ট করার পরেই ঝড়ের গতিতে ভাইরাল হয়ে যায়। অডিও ক্লিপটি পোস্ট করে তৃণমূল প্রার্থী লিখেছেন, "ভাতার বিধানসভার বিজেপি নেত্রী ও তার কন্যা যদি দলের মধ্যে আক্রান্ত হন ও সুরক্ষা না পান তাহলে ভাবুন, এরা সাধারণ মহিলাদের কোন দৃষ্টিতে দেখে থাকে..লজ্জা লজ্জা।" যদিও ভাইরাল হওয়া ভিডিওটির সত্যতা যাচাই করে দেখেনি সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল।
উল্লেখ্য, এর কয়েকদিন আগেও ভাতারের বিজেপি প্রার্থী সৌমেন কার্ফা ঘনিষ্ঠ শ্যামাশিষ হাজরা এবং বিজেপির ভাতার ৩ নম্বর মণ্ডল সভাপতি স্নেহময় কুণ্ডুর মধ্যে কথোপকথনের একটি অডিও তৃণমূল প্রার্থীর ফেসবুক প্রোফাইল থেকে ভাইরাল হয়েছিল। যা নিয়ে রাজনৈতিক মহলে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছিল। তবে সর্বশেষ এদিন মঙ্গলবার যে অডিও ভাইরাল হয়েছে তাতে যথেষ্ট বেকায়দায় গেরুয়া শিবির। যে ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে বিজেপি নেত্রী শুচিস্মিতা হাটি এবং দলেরই এক যুবনেতা প্রতাপ হাজরার মধ্যে কথোপকথন শোনা যাচ্ছে, জানা যায় ওই ঘটনাটি সপ্তাহখানেক আগে ঘটেছিল। ভাতার বাজার কদমতলায় বিজেপির যে নির্বাচনী কার্যালয় রয়েছে সেই কার্যালয়ের মধ্যে সৌমেন কার্ফা ঘনিষ্ঠ দুজন বিজেপি কর্মীর মধ্যে তুমুল ঝামেলা ও হাতাহাতি হয়। ওই ঘটনার খবর পেয়ে শুচিস্মিতা হাটি কার্যালয়ে চলে আসেন। তাঁর সঙ্গেও একপ্রস্ত ঝামেলা হয় সৌমেন ঘনিষ্ঠ একজনের। তখন শুচিস্মিতা হাটি এবং তাঁর মেয়ের উদ্দেশ্যে কটুকথা বলে হুমকি দেওয়া হয় বলে অভিযোগ।
অডিওর কথোপকথনের শুচিস্মিতা হাটিকে বলতে শোনা যায়, "এতবড় ঘটনার পরেও আমি পুলিশের কাছে যাইনি দলের মুখ তাকিয়ে। আশা করেছিলাম, যে দুজন আমাকে ও আমার মেয়েকে গালিগালাজ করেছে তাঁরা আমার কাছে ক্ষমা চাইবে। কিন্তু সেই সৌজন্য দেখায়নি। আমি পুলিশের দ্বারস্থ হব।" ওই কথোপকথন যে তাঁরই তা স্বীকার করে এদিন শুচিস্মিতা হাটি বলেন, " আমি দলের কর্মীর সঙ্গে ফোনে কথা বলেছি। এটা সম্পূর্ণ আভ্যন্তরীণ বিষয় ছিল। কিন্তু যার সঙ্গে কথা বলেছি তাঁর কাছ থেকেই এই অডিও রেকর্ডিং বাইরে ছড়িয়েছে। তৃণমূল কংগ্রেসের হাতে গিয়েছে। আমি এনিয়ে আইনের দ্বারস্থ হব।"
ওই কথোপকথন যে তাঁরই তা স্বীকার করে এদিন শুচিস্মিতা হাটি বলেন, " আমি দলের কর্মীর সঙ্গে ফোনে কথা বলেছি। এটা সম্পূর্ণ আভ্যন্তরীণ বিষয় ছিল। কিন্তু যার সঙ্গে কথা বলেছি তাঁর কাছ থেকেই এই অডিও রেকর্ডিং বাইরে ছড়িয়েছে। তৃণমূল কংগ্রেসের হাতে গিয়েছে। আমি এনিয়ে আইনের দ্বারস্থ হব।"
তবে ওই অডিও ভাইরাল হয়ে যাওয়ার পর এলাকায় তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। যদিও শান্তনুর পোষ্ট করার ঘণ্টা তিনেক পর বিজেপি প্রার্থী সৌমেন কার্ফার প্রোফাইল থেকে শুচিস্মিতা হাটির একটি ভিডিও বক্তব্য পোস্ট করতে দেখা যায়। তাতে সৌমেন কার্ফা লিখেছেন, "এআইএডিট আর তৃণমূলে ও আইপ্যাকের ষড়যন্ত্রের পর্দা ফাঁস করলেন জেলার সহ-সভাপতি মাননীয় সুচিষ্মিতা হাটি। এই ষড়যন্ত্র প্রমাণ করছে ভাতারে বিজেপির জয় নিশ্চিত,হারের আতঙ্কে তৃণমূল প্রার্থী শান্তনু কোঁয়ার নাটক শুরু করেছে।"
