গৌতম ব্রহ্ম: আর পাঁচটা শিশুর মতোই বেড়ে উঠছে সে। খাওয়া-দাওয়া থেকে শরীরী ভাষা, সবই স্বাভাবিক। কিন্তু প্রশ্ন একটাই। আর কতদিন পৃথিবীর আলো দেখার সুযোগ পাবে সে? কথা হচ্ছে, সোনারপুর চণ্ডীতলার সেই শিশুর যার ব্রহ্মতালু ফুঁড়ে বেরিয়ে এসেছে মস্তিষ্কের একটা অংশ। যার আকার প্রায় তার শরীরের সমানই।
[মুখ্যমন্ত্রীর মূল্যায়নে ‘ফেল’ ঝাড়গ্রাম জেলা প্রশাসন, ভর্ৎসনা মন্ত্রী চূড়ামণিকে]
দেখলেই বুকের ভিতরটা ছ্যাঁত করে উঠছে। ফুটফুটে বাচ্চা মাথার বাইরে বেরিয়ে রয়েছে বৃহদাকার মাংস পিণ্ড। কলকাতার ন্যাশনাল মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের ডাক্তাররা জানিয়েছিলেন, শিশুটি বিরল প্রজাতির ‘এনকেফালোসিল’ রোগে আক্রান্ত। ‘অ্যানেনকেফালি উইথ এনকেফালোসিল’ কোটিতে একজন শিশুর হয় এই রোগ। এতটাই বিরল! তাঁরা স্পষ্ট বলে দিয়েছিলেন, এই রোগের কোনও চিকিৎসা নেই। অস্ত্রোপচারই একমাত্র পথ। কিন্তু এক্ষেত্রে অপারেশন টেবিলে মৃত্যু হওয়ার সম্ভাবনাই ৯৯ শতাংশ। কিন্তু বাবা-মা সমস্ত পরিণতির জন্য প্রস্তুত। বলছেন, ‘আমরা চাই আমাদের সন্তানের অস্ত্রোপচার হোক। তার জন্য যে কোনও বন্ডে সই করতেও রাজি।’
গত ২৮ আগস্ট ডা. এস পতির অধীনে জ্যোৎস্নাকে ন্যাশনাল মেডিক্যাল কলেজে ভর্তি করা হয়। ৩১ আগস্ট এক কন্যা সন্তানের জন্ম দেন তিনি। সদ্যোজাতকে দেখার পরই চিকিৎসকরা চমকে ওঠেন। মাথার পিছন দিক থেকে বেরিয়ে মস্তিষ্কের অংশ। তবে আপাতত বাড়িতেই রয়েছে সে। নলের মাধ্যমে খাওয়ানো হয় তাকে। বুধবার ফের হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হবে তাঁকে। চিকিৎসকরা শিশুর অবস্থা পরীক্ষা করে দেখে সিদ্ধান্ত নেবেন অস্ত্রোপচারের।
শ্রুতির বয়স এখন ৪১ দিন। আর সাধারণত এই রোগে আক্রান্ত শিশু সাতদিনের বেশি জীবিত থাকে না। ঠিক সেই কারণেই আশার আলো দেখছেন ছোট্ট শ্রুতির বাবা-মা ঝন্টু দাস ও জ্যোৎস্না দাস। মিরাকলে বিশ্বাসী তাঁরা। বলছেন, “আর পাঁচজন বাচ্চার মতোই দুধ পান করছে, হাসছে, খেলছে। এত বড় রোগ নিয়ে এমনটা তো পারার কথা নয়। কিন্তু আমাদের মেয়ে পারছে। তাই আশা করছি অস্ত্রোপচার হলে ও ঠিক সুস্থ হয়ে উঠবে।”
[ব্রহ্মতালু ফুঁড়ে বেরিয়ে মস্তিষ্ক, ‘মনস্টার বেবি’ নিয়ে দিশেহারা হাসপাতাল]
ছবি: শুভময় মণ্ডল
The post বিরল রোগে আক্রান্ত হয়েও ৪১ দিন বেঁচে এই শিশু, মিরাকলের আশায় বাবা-মা appeared first on Sangbad Pratidin.
