সৌরভ মাজি, বর্ধমান: মাধবডিহির সুবলদহ গ্রামে যুবকের রহস্যমৃত্যুর ঘটনায় গ্রেপ্তার স্ত্রী ও তাঁর প্রেমিক। পুলিশের জালে প্রেমিকের এক সহযোগীও। অভিযোগ, মৃত প্রশান্ত ধোকের স্ত্রী ঝুমা ধোকের সঙ্গে বিবাহবহির্ভূত সম্পর্ক ছিল জামালপুর থানার জ্যোৎদক্ষিণ গ্রামের শামিমউদ্দিন শেখের। পথের কাঁটা প্রশান্তকে সরাতে তাঁকে ঘুমের ওষুধ খাইয়ে শ্বাসরোধ করে খুন করে তারা। প্রমাণ লোপাটে দেহ দাহ করে দেওয়াও হয়। কিন্তু শামিম ও ঝুমার মোবাইলের কথোপকথনের রেকর্ড প্রকাশ্যে আসতেই খুনের ষড়যন্ত্র সামনে আসে।
মঙ্গলবার রাতে প্রশান্তর দাদা তাপস ধোক মাধবডিহি থানায় খুনের অভিযোগ দায়ের করেন। পুলিশ রাতে ঝুমা, তার প্রেমিক শামিম ও এক সহযোগী শেখ মুস্তাক আলিকে গ্রেপ্তার করে। বুধবার ধৃতদের বর্ধমান আদালতে পেশ করা হয়। বিচারক ধৃতদের সাত দিনের পুলিশি হেফাজতের নির্দেশ দিয়েছেন। সোমবার রাতে প্রশান্তর মৃত্যু হয়। সকালে ঝুমা সকলকে জানায় হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যু হয়েছে তার স্বামীর। কিছুক্ষণের মধ্যে দেহ গ্রামের শ্মশানে দাহ করে দেওয়া হয়। সেই সময় মৃতের ছেলের কাছে থাকা মোবাইলে কিছু কল রেকর্ড পান স্থানীয়রা। তাতেই প্রকাশ্যে আসে ঝুমা ও শামিমের কথোপকথন।
[আরও পড়ুন: ‘২৪ ঘণ্টার মধ্যে পর্যাপ্ত বাহিনী চাইতে হবে, চাপ নিতে না পারলে দায়িত্ব ছাড়ুন’, কমিশনকে নির্দেশ হাই কোর্টের]
প্রশান্তকে খুনের ষড়যন্ত্র ও খুন করার পর দেহ লোপাটের কথা বলতে শোনা গিয়েছে দু’জনকে। বিষয়টি চাউর হতেই উত্তেজনা ছড়ায়। পুলিশ এসে আটক করে নিয়ে যায় ঝুমাকে। ওইদিন রাতে প্রশান্তর দাদা খুনের অভিযোগ দায়ের করেন মাধবডিহি থানায়। পুলিশ তার ভিত্তিতে ঝুমা ও শামিমকে গ্রেপ্তার করে। খুনের ষড়যন্ত্র, দেহ লোপাট-সহ পুরো দুষ্কর্মে শামিমের সঙ্গী ছিল মুস্তাক। তাকেও গ্রেপ্তার করে পুলিশ। তদন্তে পুলিশ জানতে পেরেছে, শামিমের সঙ্গে ঝুমার দীর্ঘদিন ধরে বিবাহ বহির্ভূত সম্পর্ক ছিল। বিষয়টি গ্রামবাসীরা জানতেও পেরেছিলেন আগে। প্রশান্তও জানতে পেরেছিলেন। পরিবারে অশান্তিও হয়েছিল আগে। কিন্তু এভাবে প্রশান্তকে খুন করা হবে তা কেউ কল্পনাও করতে পারেননি।
