ট্রেন চলছে দুরন্ত গতিতে। এদিকে সেসময় প্রসবযন্ত্রণা উঠেছিল প্রসূতি যাত্রীর। অতঃপর চলন্ত ট্রেনেই সন্তান প্রসব করলেন ওই তরুণী। ঘটনায় ট্রেনের ওই কামরার যাত্রীরা সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিয়েছেন। মহিলা যাত্রীরা কাপড় দিয়ে আড়াল করে ওই সন্তান প্রসব করান বলে খবর। ঘটনা শুনে কাটোয়া স্টেশনে অপেক্ষা করছিলেন জিআরপি কর্মীরা। মা ও সদ্যোজাতকে দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। দু'জনেই সুস্থ আছেন বলে খবর।
চলন্ত ট্রেনের মধ্যেই হয় সন্তান প্রসব। প্রসবের পরেই তড়িঘড়ি ওই প্রসূতি ও নবজাতককে উদ্ধার করে কাটোয়া হাসপাতালে ভর্তি করে জিআরপি। জানা গিয়েছে, কাটোয়া আজিমগঞ্জ লাইনের ট্রেনে কাটোয়ার দিকে আসছিলেন সুন্দরী বিবি নামে এক মহিলা যাত্রী। তাঁর বাড়ি মুর্শিদাবাদের সালার। অন্তঃসত্ত্বা ছিলেন তিনি। মা আসমাতারা বিবির সঙ্গে কাটোয়ায় চিকিৎসক দেখাতে আসছিলেন বলে জানা গিয়েছে। তাঁর স্বামী পেশায় পরিযায়ী শ্রমিক, কেরলে কর্মরত।
জানা গিয়েছে, এদিন বিকেলে ট্রেনের মধ্যেই ওই তরুণীর গর্ভযন্ত্রণা শুরু হয়। সন্তান প্রসবে খুব একটা দেরি নেই। একথা বুঝতে অসুবিধা হয়নি ট্রেনের কামরায় থাকা মহিলা যাত্রীদের। এদিকে ট্রেন তখন ছুটছে। সামনে হাসপাতালও নেই। তাহলে এখন উপায়! শেষপর্যন্ত ট্রেনের কামরাতেই সন্তান প্রসব করা হয়। কেতুগ্রামের শিবলুনের কাছে ট্রেনের মধ্যেই সন্তান প্রসব করেন। ট্রেনের মহিলা যাত্রীরাই কাপড় দিয়ে আড়াল করে প্রসবে সহযোগিতা করেন। ওই খবর পৌঁছয় জিআরপির কাছে। মহিলা পুলিশ আধিকারিক, মহিলা সিভিক ভলেন্টিয়াররা কাটোয়া স্টেশনে আগে থেকেই অপেক্ষা করছিলেন।
ট্রেন থামলেই ওই তরুণী ও সদ্যোজাতকে দ্রত নামানো হয়। স্টেশনের বাইরেই অপেক্ষা করছিল অ্যাম্বুল্যান্স। দ্রুত মা ও সন্তানকে ওই অ্যাম্বুল্যান্স করে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানেই দু'জনে ভর্তি রয়েছেন। মা ও সন্তান সুস্থ আছেন বলে খবর। ওই তরুণীর মা আসমাতারা বিবি জানিয়েছেন, "বিকেলে ট্রেনে আসার সময় মেয়ের গর্ভযন্ত্রণা শুরু হয়। দুই মেয়ের পর এদিন পুত্রসন্তান প্রসব করেছে মেয়ে।"
