বাড়ির দরজায় কড়া নেড়েছিলেন দু'জন ব্যক্তি। কথা বলার ভঙ্গি, ব্যবহার সবেতেই ছিল বিশ্বাসযোগ্যতার ছাপ। এসবই যে আসলে 'ফাঁদ', তা বুঝতেই পারেননি গৃহকর্ত্রী। তাঁর বিশ্বাস অর্জন করে ঘরে ঢুকেই সুযোগের সদ্ব্যবহার করল ভদ্রবেশি দু'জন। দিনের আলোয় মহিলার কাছ থেকে বহুমূল্যের সোনার অলংকার হাতিয়ে নিয়ে চম্পট দেওয়ার অভিযোগ উঠল তাদের বিরুদ্ধে। ঘটনায় তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে দুর্গাপুরের সিটি সেন্টারের মাতঙ্গিনী হাজরা বিথি এলাকায়। এর নেপথ্যে কি বড় কোনও চক্র কাজ করছে? তদন্তে নেমেছে পুলিশ।
ঘটনা ঠিক কী? শনিবার সকালে কবিতা চৌধুরী নামে এক মহিলার বাড়িতে আসে দুই ব্যক্তি। আহমেদাবাদের একটি সংস্থার তৈরি বিশেষ পাউডারের কথা বলে জানান, তা ব্যবহার করে তামার সামগ্রী একেবারে নতুনের মতো চকচকে করে দেওয়া যায়। প্রথমে বাড়ির কয়েকটি তামার বাসন নিয়ে পরিষ্কার করে দেখানও তাঁরা। মুহূর্তের মধ্যে তামার সামগ্রী ঝকঝকে হয়ে উঠতে দেখে আস্থা তৈরি হয় বাড়ির সদস্যদের। অভিযোগ, এরপরই শুরু হয় আসল খেলা। ওই দুই ব্যক্তি মহিলাকে জানায়, শুধু তামাই নয়, সোনার অলংকারও পরিষ্কার করে নতুনের মতো করে দেওয়া সম্ভব। কবিতাদেবীকে তাঁরা অনুরোধ করেন, তাঁর গলার হার, হাতের বালা খুলে দিতে, পাউডারের সাহায্যে তা হয়ে উঠবে একেবারে ব্র্যান্ড নিউ।
গয়না পরিষ্কারের নামে লুট, প্রতারণার শিকার কবিতা চৌধুরী। ছবি: সনাতন গড়াই
কবিতাদেবী তখনই গয়না খুলতে দ্বিধা করলেও পরে তাঁদের কথায় বিশ্বাস করে সমস্ত সোনার অলংকার খুলে দেন। অভিযোগ, অলংকারগুলি পরিষ্কার করার নাম করে সুকৌশলে তা হাতিয়ে নকল সোনার গয়না রেখে পালিয়ে যায়। কবিতাদেবীর কথায়, ‘‘আমি প্রথমে গয়নাগুলো খুলতে চাইনি। বললাম, পরে পরিষ্কার করিয়ে নেব। তাতে ওরা বলল, 'রোজ এসব পরেন, একেবারে নতুনের মতো ঝকঝকে হয়ে উঠবে, করিয়েই দেখুন। এরপর আমি গলার চেন আর দুটো বালা খুলে দিলাম। একটা পাত্রে রেখে বলল যে ৫ মিনিট পর ওগুলো নিতে। পরিষ্কারে সময় লাগবে। আমিও ওদের কথায় বিশ্বাস করে ৫ মিনিটের জন্য উঠেছিলাম। এসে দেখি, ওরা নেই। ওই পাত্রে দুটো বালা রয়েছে ঠিকই। কিন্তু সেগুলো আমার সোনার বালা নয়, নকল বালা রেখে পালিয়েছে। ১০ বছর আগে ৭৫ হাজার টাকা দিয়ে এগুলো কিনেছিলাম।''
বিশেষ পাউডার দিয়ে এসব তামার বাসন পরিষ্কার করিয়েছিলেন কবিতা দেবী। ছবি: সনাতন গড়াই
এভাবে কৌশলে গৃহস্থের বাড়ি ঢুকে সোনার গয়না লুটের খবর ছড়িয়ে পড়তেই এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্য। আতঙ্কিত হয়ে পড়েন স্থানীয় বাসিন্দারা। কবিতা চৌধুরী জানিয়েছেন, ‘‘বুঝতেই পারিনি যে প্রতারণার শিকার হচ্ছি। আমার বহুমূল্যের সোনার অলঙ্কার ফিরিয়ে দেওয়ার জন্য পুলিশের কাছে আবেদন জানিয়েছি।" খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছয় দুর্গাপুর থানার পুলিশ। অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত শুরু হয়েছে। এলাকার বিভিন্ন সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজ সংগ্রহ করে অভিযুক্তদের শনাক্ত করার চেষ্টা চলছে। পুলিশ সূত্রে খবর, প্রতারকরা কোনও সংঘবদ্ধ চক্রের সদস্য কিনা তাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
