অরিজিৎ গুপ্ত, হাওড়া: অভিজাত আবাসনে এক মহিলাকে গুলি! ঘটনাটি ঘটেছে হাওড়ার শিবপুরে। আক্রান্ত ওই মহিলার নাম পুনম যাদব। তাঁকে উদ্ধার করে কলকাতার হাসপাতালে ভর্তি করানোর জন্য নিয়ে যাওয়া হয়েছে। স্বামী গোপাল যাদব নিজের আগ্নেয়াস্ত্র পরিষ্কার করছিলেন। সেসময় বন্দুক থেকে ওই গুলি বেরিয়ে গিয়েছে বলে অভিযোগ। যদিও সেই বক্তব্য কতটা সত্য? স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে কি বিবাদ চলছিল? সেসময়ই কি স্বামী স্ত্রীকে গুলি করেছেন? সেই প্রশ্ন উঠেছে। শিবপুর থানার পুলিশ ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, হাওড়ার শিবপুর থানার কাছেই ওই অভিজাত আবাসন রয়েছে। ওই আবাসনে ছটি পৃথক বহুতল আছে। ১৫/ডি ব্লকের ৩৮৭ নম্বর ফ্ল্যাটে থাকেন যাদব পরিবার। স্বামী গোপাল যাদব, স্ত্রী পুনম যাদব ও তাঁদের ছোট সন্তান, এই তিনজনকে নিয়ে পরিবার। গোপাল যাদব প্রতিষ্ঠিত ব্যবসায়ী। আজ, বুধবার সাতসকালে ওই ফ্ল্যাটে ঘটে গেল হাড়হিম ঘটনা। পুনমকে লক্ষ্য করে চলল গুলি। গৃহকত্রী রক্তাক্ত অবস্থায় ফ্ল্যাটের মধ্যেই লুটিয়ে পড়েন।
ঘটনা জানাজানি হতেই এলাকায় চাঞ্চল্য ছড়ায়। শিবপুর থানা থেকে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে যায়। ওই মহিলাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। জানা গিয়েছে, তিনি কলকাতার এক বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি। গুলি তাঁর গলা ছুয়ে চলে গিয়েছে বলে প্রাথমিক খবর। কিন্তু কে চালাল গুলি? সেই নিয়ে তৈরি হয়েছে ধোঁয়াশা। কারণ, এদিন সকালে ওই ফ্ল্যাটে স্বামী গোপাল যাদবও ছিলেন। তিনিই কি স্ত্রীকে গুলি করলেন? নাকি বাইরে থেকে কোনও দুষ্কৃতী আবাসনে ঢুকে ফ্ল্যাটে এসেছিল? সেই প্রশ্ন উঠেছে।
পুলিশ পুনমের স্বামীকে প্রাথমিক জিজ্ঞসাবাদ করেছেন। তাতেই জানা গিয়েছে, এদিন বেলা ১০টা নাগাদ ফ্ল্যাটের ঘরে নিজের আগ্নেয়াস্ত্র পরিষ্কার করছিলেন। সেসময় ওই বন্দুক থেকে আচমকাই গুলি বেরিয়ে স্ত্রীর গলা ছুয়ে যায়। রক্তাক্ত হয়ে লুটিয়ে পড়েন তিনি। স্বামী কতটা সত্য বলছেন, সেই নিয়ে সন্দেহ আছে তদন্তকারীদের। গুলিভর্তি অবস্থায় কেন বন্দুক পরিষ্কার করা হচ্ছিল? সেই প্রশ্ন উঠেছে। ওই আবাসনের সেক্রেটারি পঙ্কজ শর্মা বলেন, ''গোপালবাবু বলেছেন আগ্নেয়াস্ত্রটি পরিষ্কার করার সময় গুলি আচমকা বেরিয়ে গিয়েছে। ইচ্ছাকৃতভাবে গুলি চালানো হয়নি।'' শিবপুর থানার পুলিশ গৃহবধূর স্বামীকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করছে।
