shono
Advertisement
Bardhaman

ভবিষ্যৎ বাতলে দেওয়ার নামে প্রেমের ফাঁদ! জ্যোতিষচর্চার আড়ালে নারীপাচারচক্র? গ্রেপ্তার 'গুণধর' জ্যোতিষী

জ্যোতিষচর্চার আড়ালে চলত নারীপাচারচক্র! তদন্তে নেমে পুলিশ তেমনই তথ্য প্রাথমিকভাবে পেয়েছে। গ্রেপ্তার করা হয়েছে ওই জ্যোতিষীকে। চাঞ্চল্যকর ঘটনাটি ঘটেছে পূর্ব বর্ধমানের মাধবডিহি এলাকায়। দিন কয়েক আগে ৩ নাবালিকা নিখোঁজ হয়ে যায়।
Published By: Suhrid DasPosted: 10:09 AM Feb 27, 2026Updated: 10:16 AM Feb 27, 2026

জ্যোতিষচর্চার আড়ালে চলত নারীপাচারচক্র! তদন্তে নেমে পুলিশ তেমনই তথ্য প্রাথমিকভাবে পেয়েছে। গ্রেপ্তার করা হয়েছে ওই জ্যোতিষীকে। চাঞ্চল্যকর ঘটনাটি ঘটেছে পূর্ব বর্ধমানের মাধবডিহি এলাকায়। দিন কয়েক আগে ৩ নাবালিকা নিখোঁজ হয়ে যায়। সেই ঘটনার তদন্তে নেমেই পুলিশ একের পর এক তথ্য পেতে থাকে। জ্যোতিষচর্চার মাধ্যমে সামাজিক মাধ্যমে মেয়েদের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা করতেন অভিযুক্ত? মেয়েদের প্রেমের জালে ফাঁসিয়ে পাচারের কোনও চক্রে পাঠিয়ে দেওয়া হত কি? সেই প্রশ্ন উঠছে। ধৃতকে জিজ্ঞাসাবাদ করে তথ্য পেতে চাইছে পুলিশ।

Advertisement

সম্প্রতি বর্ধমানের একই এলাকার ৩ নাবালিকা একসঙ্গে নিখোঁজ হয়ে যায়। শোরগোল পড়ে যায় ঘটনায়। তদন্তে নেমে পুলিশ চাঞ্চল্যকর তথ্য পায়। জানা যায়, ঝাড়গ্রামের লালগড় থানার নেপুরা গ্রামে রয়েছে। পূর্ব বর্ধমানের মাধবডিহি থানার পুলিশ সেই গ্রামে হানা দিয়ে তিন নাবালিকাকে উদ্ধার করে। গ্রেপ্তার করা হয় সুবোধচন্দ্র ভুঁই নামে এক 'জ্যোতিষী'-কে। বৃহস্পতিবার ধৃতকে বর্ধমান আদালতে পেশ করা হয়। বিচারক ধৃতকে ১০ মার্চ পর্যন্ত বিচারবিভাগীয় হেফাজতের নির্দেশ দিয়েছেন। জ্যোতিষ চর্চার আড়ালে নারীপাচারের সঙ্গে যুক্ত থাকতে পারে সুবোধ। সেই বিষয়টিও খতিয়ে দেখছে পুলিশ। সামাজিক মাধ্যমে জ্যোতিষের আড়ালে বিভিন্ন মহিলা, বিশেষত নাবালিকাদের সঙ্গে সম্পর্ক তৈরি করে চক্র চালায় বলে মনে করছেন তদন্তকারীরা। 

দিন দুয়েক আগে মাধবডিহি থানা এলাকার ১৬ বছরের এক নাবালিকা নিখোঁজ হয়ে যায়। একই সঙ্গে তার ১১ বছরের বোন আর প্রতিবেশী আরও এক ১০ বছরের নাবালিকাও নিখোঁজ হয়। ঘটনায় পুলিশ মহলেও শোরগোল পড়ে যায়।

জানা গিয়েছে, দিন দুয়েক আগে মাধবডিহি থানা এলাকার ১৬ বছরের এক নাবালিকা নিখোঁজ হয়ে যায়। একইসঙ্গে তার ১১ বছরের বোন আর প্রতিবেশী আরও এক ১০ বছরের নাবালিকাও নিখোঁজ হয়। ঘটনায় পুলিশ মহলেও শোরগোল পড়ে যায়। থানার পাশাপাশি, পুলিশ সুপার সায় দাস, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সদর অর্ক বন্দ্যোপাধ্যায়, সহ অন্য আধিকারিকরা বিনয়টি তদারকি করেন। পুলিশ জানতে পারে দিন পাঁচেক আগে ওই নাবালিকার ফেসবুকে পরিচয় হয় সুবোধের। মেসেঞ্জারে শুরু হয় চ্যাট। নানা কথায় সে নিজেকে জ্যোতিষ শাস্ত্রীর পরিচয় দেয়। একই সঙ্গে বেসরকারি সংস্থায় চাকরি করার কথাও বলে সুবোধ ওই নাবালিকাকে। তাকে বিয়েও করতে চায় বলে জানায়। দিন দুই আগে বাড়ির কাউকে না জানিয়ে তিনজন মিলে সুবোধের বাড়ির উদ্দেশ্যে রওনা দেয়। প্রথমে সেহারাবাজার থেকে ট্রেন ধরে বাঁকুড়া যায়। সেখান থেকে বাস ধরে সিমলাপাল। সিমলাপাল বাসস্ট্যান্ড থেকে বাইকে করে তিনজনকে নিয়ে সুবোধ তার বাড়িতে নিয়ে যায়।

বিএ দ্বিতীয় বর্ষের পরে পড়াশোনা বন্ধ করে দেয় সুবোধ। আগে বাঁকুড়ার ইন্দাসের সারেঙ্গা এলাকায় জোতিষচর্চার কাজ করতো পুরোদমে। বুজরুকি ধরে ফেলায় তাকে মারধর করে স্থানীয়রা। পরে পুলিশ ওখান থেকে ওকে বাড়ি ফিরে যেতে বলে। এখন বাড়িতেই এখন চাষাবাদের কাজ করে। কিন্তু জ্যোতিষচর্চার নামে সামাজিক মাধ্যমে মেয়েদের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা তৈরি করত। পুলিশ সুবোধের ফোন ও সামাজিক মাধ্যম থেকে জানতে পেরেছে, আরও ৬ জন নাবালিকার সঙ্গে তার সম্পর্কের কথা জানতে পেরেছে। এখন জ্যোতিষচর্চার আড়ালে মেয়েদের প্রেমের জালে ফাঁসিয়ে পাচারের কোনও চক্র থাকতে পারে বলে অনুমান। বিষয়টি খতিয়ে দেখছে পুলিশ। অতিরিক্ত জেলা পুলিশ সুপার অর্ক বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, "আমরা গোটা বিষয়টি খতিয়ে দেখছি। ওই ছেলেটির সোশ্যাল মিডিয়াার আইডি-সহ অনান্য বিষয়ও খতিয়ে দেখা হবে।"

Sangbad Pratidin News App

খবরের টাটকা আপডেট পেতে ডাউনলোড করুন সংবাদ প্রতিদিন অ্যাপ

হাইলাইটস

Highlights Heading
Advertisement