স্ত্রী অন্তঃসত্ত্বা। বুধবার হয়েছে সাধভক্ষণ অনুষ্ঠান। এসেছিলেন আত্মীয়রা। বৃহস্পতিবার সকালে ভেসেল থেকে ভাগীরথী নদিতে ঝাঁপ দিলেন ইউটিউবার স্বামী। এ দিন ভোরে ঘটনাটি ঘটেছে শান্তিপুর (Shantipur)। তাঁর খোঁজে তল্লাশি চলছে। কী কারণে গঙ্গায় ঝাপ দিলেন ইউটিউবার তা নিয়ে ধোঁয়াশা। তবে যুবকের ভাইরাভাই জানাচ্ছেন, রাত থেকেই একটি ফোন আসছিল যুবকের কাছে। মানসিকচাপে ছিলেন যুবক। কে, কেন ফোন করছিলেন? তা জানা যায়নি। পিছনে পরকীয়া বা সম্পর্কের টানাপোড়েন রয়েছে কি না, তা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। আপাতত যুবকের খোঁজ চালাচ্ছে উদ্ধারকারী দল।
যুবকের নাম সাগর বিশ্বাস। তিনি শান্তিপুর এলাকার বাসিন্দা। সাগর ইউটিউবে প্রমোশনাল বিজ্ঞাপনের কাজ করতেন। স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, বুধবার সাগরের স্ত্রীর সাধভক্ষণের অনুষ্ঠান ছিল। অনুষ্ঠান শেষে রাতে হরিপুর হালদারপাড়ার বাসিন্দা সম্পর্কে ভাইরাভাই অজয় হালদারের সঙ্গে বাইক নিয়ে ঘুরতে বেরিয়ে ছিলেন সাগর। অজয় জানিয়েছেন, রাতে তাঁরা দু’জনে মদ্যপান করেন। তারপর শান্তিপুরের বিভিন্ন এলাকায় ঘোরেন। ভোরে নৃসিংহপুর ঘাটে চা খেতে যান। সেই সময় সাগর আচমকায় ভেসেলে উঠে নদীতে ঝাঁপ দেন। তাঁকে উদ্ধারের জন্য অজয়ও জলে নামেন। তাঁর দাবি, সাঁতরে গিয়ে সাগরের জামার কলার ধরেছিলেন। কিন্তু যুবক ঝটকা দিয়ে নিজেকে ছাড়িয়ে গভীর জলে তলিয়ে যায়।
কিন্তু কেন এমনটা করলেন যুবক? সেই বিষয়ে স্পষ্ট কোনও উত্তর পাওয়া না গেলেও, অজয়ের দাবি, বুধবার রাত থেকেই একটি ফোন আসছিল সাগরের কাছে। তাতে বিরক্ত ছিলেন যুবক। ফোনে প্রায় ঘণ্টা খানেক কারও সঙ্গে সাগরের ঝামেলাও হয়। মানসিক চাপে ছিলেন যুবক। তারপরই সকালে এই কাণ্ড। তাতেই প্রশ্ন উঠছে, কোনও পরকীয়ায় জড়িয়েছিলেন সাগর। তাতেই আত্মহত্যার মতো চরম সিদ্ধান্ত নিলেন ইউটিউবার। সাগরের ফোনটি উদ্ধার হলেই সব কিছু জানা যাবে। তাঁকে উদ্ধারের জন্য তল্লাশি চালাচ্ছে পুলিশ ও উদ্ধারকারী দল।
