প্রকৃতির রোষে শয়ে শয়ে মানুষের মৃত্যু হয়েছে নেপালে। ভেসে গিয়েছে ঘরবাড়ি। বুধবার সকালে তিব্বত সীমান্তের কাছে রাসুয়া জেলায় আছড়ে পড়ে ভয়াবহ এই বিধ্বংসী হড়পা বান। যার জেরে ভোটেকোশি নদীর গতিপথের বিস্তীর্ণ এলাকা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। নেপাল প্রশাসনের তথ্য অনুযায়ী, এখনও পর্যন্ত অন্তত ২৭০ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গিয়েছে। নিখোঁজ ১৬০০-র বেশি মানুষ। তাঁদের মধ্যে প্রায় ৩০০ জন ভারতীয় রয়েছেন বলে জানিয়েছেন নেপালের বিদেশমন্ত্রী। ভয়াবহ বিপর্যয়ে মন কাঁদছে নেপালের জাতীয় দলের ক্রিকেটার দীপেন্দ্র সিং আইরি, সন্দীপ লামিচানে। উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন টিম ইন্ডিয়ার প্রাক্তন ওপেনার শিখর ধাওয়ানও।
বন্যা ও ধসের পরিস্থিতি নিয়ে দুঃখপ্রকাশ করে ত্রিশূলী নদীর তীরবর্তী এলাকার বাসিন্দাদের সতর্ক থাকার আবেদন জানিয়েছেন তিনি। নিজের ইনস্টাগ্রাম হ্যান্ডলে দীপেন্দ্র লেখেন, 'দেশের বিভিন্ন প্রান্তে বন্যা ও ধসের খবর আমাকে অত্যন্ত ব্যথিত করেছে। এই কঠিন সময়ে আমাদের সকলকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে এগিয়ে আসতে হবে। সবাই সতর্ক ও নিরাপদে থাকুন।'
নেপালের আর এক তারকা ক্রিকেটার সন্দীপ লামিচানেও এই বিপর্যয় নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। ইনস্টাগ্রাম স্টোরিতে সাধারণ মানুষকে সতর্ক থাকার বার্তা দিয়ে তিনি পরিস্থিতির ভয়াবহতার মধ্যে সবাইকে সাবধানে থাকার আবেদন জানান। তাঁর কথায়, 'এই কঠিন সময়ে সবাই সতর্ক থাকুন। নিজের এবং প্রিয়জনদের নিরাপত্তাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিন।'
অন্যদিকে সোশাল মিডিয়ায় শিখর ধাওয়ান লেখেন, 'নেপালের ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞে গভীরভাবে শোকাহত। ক্ষতিগ্রস্ত সকলের প্রতি আমার সমবেদনা ও প্রার্থনা রইল। আশা করছি, নিখোঁজ ভারতীয়সহ সকল পর্যটক নিরাপদে দেশে ফিরে আসবেন।' ভয়াবহ বন্যা ও ধসের জেরে নেপালের বিভিন্ন এলাকায় যোগাযোগ ব্যবস্থা কার্যত বিপর্যস্ত। প্রবল জলের স্রোতে বহু বাড়িঘর ভেসে গিয়েছে। অন্তত ১৯টি সেতু এবং প্রায় ৪০ কিলোমিটার রাস্তা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। উদ্ধার ও ত্রাণকাজ জোরকদমে চললেও এখনও নিখোঁজ শত শত মানুষ। তাঁদের মধ্যে ভারতীয় নাগরিকের পাশাপাশি বিদেশি পর্যটক ও তীর্থযাত্রীরাও রয়েছেন। বিপর্যয়ের প্রকৃত ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ এখনও স্পষ্ট নয়। উদ্ধারকাজ এগোনোর সঙ্গে সঙ্গে সেই হিসাবও সামনে আসবে বলে মনে করা হচ্ছে।
