নতুন জীবনের পথে পা বাড়ালেন শয়ে শয়ে তরুণ-তরুণী। স্বপ্ন, বিশ্বাস ও দৃঢ়তার করতালিতে মুখরিত হয়ে উঠল কলকাতার আইইএম (ইনস্টিটিউট অফ ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড ম্যানেজমেন্ট) চত্বর। গত ২২ আগস্ট সল্টলেকের ম্যানেজমেন্ট হাউজ ক্যাম্পাসে ঘটা করে অনুষ্ঠিত হল প্রতিষ্ঠানের ২০২৬ সালের সমাবর্তন উৎসব (ডিগ্রি কনভোকেশন সেরিমনি)। মেধা, উদ্ভাবন এবং ভবিষ্যতের স্বপ্নকে ছুঁয়ে দেখার অঙ্গীকার নিয়ে উদযাপিত হল পুরো অনুষ্ঠানটি।
জমকালো শোভাযাত্রা দিয়ে শুরু হয় মূল পর্ব। প্রদীপ জ্বালিয়ে এবং সমবেত সংগীতের মাধ্যমে অতিথিদের স্বাগত জানানো হয়। প্রতিষ্ঠানের সভানেত্রী অধ্যাপক বনানী চক্রবর্তী তাঁর সভাপতির ভাষণে আইইএম-এর লক্ষ্য ও শিক্ষার গুণগত মান ধরে রাখার বার্তা দেন। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ম্যাকাউট (MAKAUT)-এর উপাচার্য অধ্যাপক তাপস চক্রবর্তী। পড়ুয়াদের উদ্ভাবনী ক্ষমতা, শিক্ষাগত সততা এবং রাষ্ট্র গঠনে যুবসমাজের ভূমিকা নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ দিক নির্দেশ করেন তিনি। ভবিষ্যৎ চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় এই উপদেশ পড়ুয়াদের অনুপ্রাণিত করবে।
আইইএম-এর অধিকর্তা ড. সত্যজিৎ চক্রবর্তী শিক্ষক ও অভিভাবকদের অবদানকে শ্রদ্ধা জানান। বিশেষ করে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI), জেনারেটিভ এআই এবং এলএলএম (LLM)-এর এই দ্রুত পরিবর্তনশীল বিশ্বে নিজেদের প্রতিনিয়ত আপডেট রাখার পরামর্শ দেন তিনি। এরপর ড. সত্যজিৎ চক্রবর্তীর পরিচালনায় সমস্ত গ্র্যাজুয়েটরা পেশাগত জীবনে নীতি ও নিষ্ঠা বজায় রাখার শপথ নেন। অনুষ্ঠানে শিল্প ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের যোগাযোগ নিয়ে বক্তব্য রাখেন ড. রাজশ্রী পাল।
সমাবর্তনের সবচেয়ে প্রতীক্ষিত মুহূর্ত ছিল শংসাপত্র প্রদান। হাতে ডিগ্রি পেতেই হাততালিতে ফেটে পড়ে চারপাশ। পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক ড. দেবীকা ভট্টাচার্য সমস্ত প্রশাসনিক ও শিক্ষাগত প্রক্রিয়ার সফল সমাপ্তি তুলে ধরে ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন। জাতীয় সংগীতের মাধ্যমে শেষ হয় এই স্মরণীয় আয়োজন।
