সম্প্রতি বলিউডে ধর্মীয় মেরুকরণের অভিযোগ তুলেছিলেন অস্কারজয়ী সুরকার এ আর রহমান। দাবি করেছিলেন, মুসলিম হওয়ার বিগত আট বছর তিনি কোনও কাজ পাননি। তা নিয়ে তুমুল বিতর্ক চলছে। বলিউডের একাধিক তারকা এর প্রতিবাদ-সমালোচনা করেছেন। অবশেষে এ বিষয়ে মুখ খুললেন এ আর রহমান। তিনি বললেন, "কারও যন্ত্রণার কারণ হতে চাইনি।"
রবিবার ইনস্টাগ্রামে একটি ভিডিওর মাধ্যমে নিজের অবস্থান স্পষ্ট করেন আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন এই সুরকার। সেখানে তিনি বলেন, 'বন্ধুরা, গান সবসময়ই আমার সংযোগ স্থাপন, উদযাপন এবং সম্মান প্রদর্শনের মাধ্যম। ভারত আমার অনুপ্রেরণা, আমার শিক্ষক এবং আমার বাড়ি। কখনও কখনও উদ্দেশ্য নিয়ে ভুল বোঝাবুঝি হতে পারে, কিন্তু সঙ্গীতের মাধ্যমে উন্নতিসাধন, সম্মানজ্ঞাপনই লক্ষ্য। আমি কখনও কাউকে ব্যথা দিতে চাইনি।' সেই ভিডিও বার্তায় তিনি আরও বলেন, "আমি ভারতীয় হিসেবে গর্বিত। দেশ আমার সৃজনশীল স্বাধীনতার মূল্য দিয়েছে।"
এই ভিডিওতেই কেরিয়ারের কিছু গুরুত্বপূর্ণ কাজের কথা উল্লেখ করেছেন তিনি। বলেন, ‘আমি জালা প্রকল্পে কাজ করেছি। সেটি ওয়েভস সামিটে প্রধানমন্ত্রী মোদির কাছে উপস্থাপন করা হয়েছিল। আমি নাগা সঙ্গীতশিল্পীদের সঙ্গে একটি স্ট্রিং অর্কেস্ট্রা তৈরি করেছি, সানশাইন অর্কেস্ট্রাকে পরামর্শ দিয়েছি। ভারতের প্রথম বহুসংস্কৃতির ভার্চুয়াল ব্যান্ড, সিক্রেট মাউন্টেন প্রতিষ্ঠা করেছি। আমি রামায়ণের সঙ্গীতেও হ্যান্স জিমারের সঙ্গে সহযোগিতা করেছি। এই সমস্ত অভিজ্ঞতা আমার সঙ্গীতের উদ্দেশ্যকে আরও শক্তিশালী করেছে।''
প্রসঙ্গত, সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে এ আর রহমান দাবি করেন, গত আট বছরে ক্ষমতার পালাবদলের পাল্লায় পড়ে বলিউডের বহু কাজ তাঁর হাতছাড়া হয়েছে। এর নেপথ্যে সাম্প্রদায়িক বিভাজন নীতিও হতে পারে বলে মন্তব্য করেছিলেন তিনি। বলেছিলেন, "যদিও বিষয়টি মুখের উপর আমাকে কেউ বলেননি, তবে কানাঘুষো এসব কথা আমার কাছে এসেছে।” অস্কারজয়ী সুরকার তথা গায়ক এও বলেন যে, “আন্তরিকতা দিয়েও যদি কাজ না আসে আমি আবার কারও কাছে গিয়ে নিজের তদবির করতে পারি না। কারও অফিসে গিয়ে বসে থাকতে পারব না।” তাতেই মাথাচাড়া দিয়েছিল বিতর্ক।
