তারকাসন্তান হলেই 'নেপকিড' কটাক্ষের সম্মুখীন হওয়া প্রায় জলভাতের মতোই হয়ে দাঁড়িয়েছে! বিশেষ করে বলিউডে। আমিরকন্যা ইরা খানের ক্ষেত্রেও তার ব্যতিক্রম ঘটেনি। শিক্ষাবিদ সোনম ওয়াংচুকের নেতৃত্বে চলতি ছাত্র আন্দোলন নিয়ে 'টুঁ' শব্দটি না করায় তৃতীয় বিবাহ অভিযান বিতর্কের মাঝেই বেজায় বিপাকে পড়েছিলেন পর্দার 'র্যাঞ্চো'। শুনতে হয়েছে 'মেরুদণ্ডহীন' কটাক্ষও। এমন আবহে প্রশ্ন ওঠে, আমির খান নাহয় চুপ, কিন্তু দেশের যুবপ্রজন্ম হয়েও কেন মুখ খুললেন না তাঁর দুই সন্তান? ট্রোলের মুখে শেষমেশ জবাব দিলেন ইরা খান।
শিক্ষার্থীদের হয়ে আলিয়া ভাট, অনন্যা পাণ্ডে, সারা আলি খান, ইব্রাহিম আলি খানদের মতো সেলেব সন্তানরা যখন সরব হয়েছেন, তখন মিস্টার পারফেকশনিস্ট-এর দুই সন্তান ইরা কিংবা জুইনেদ কেন চুপ? বাবার পদাঙ্ক অনুসরণ করেই কি 'ককরোচ'দের থেকে দূরে?
আমিরকন্যা ইরা খান।
দিল্লির যন্তর মন্তরে বিক্ষোভরত শিক্ষার্থীদের হয়ে আলিয়া ভাট, অনন্যা পাণ্ডে, সারা আলি খান, ইব্রাহিম আলি খানদের মতো সেলেব সন্তানরা যখন সরব হয়েছেন, তখন মিস্টার পারফেকশনিস্ট-এর দুই সন্তান ইরা কিংবা জুনেইদ কেন চুপ? বাবার পদাঙ্ক অনুসরণ করেই কি 'ককরোচ'দের থেকে দূরে? প্রশ্ন উঠতেই এক ভিডিও বার্তায় নিন্দুক, সমালোচকদের জবাব ছোড়েন ইরা খান। তাঁর মন্তব্য, 'আমি তো খবরই দেখি না!' তবে এখানেই শেষ নয়। এরপর আমিরকন্যা যা বললেন, সেটাই বর্তমানে চর্চার শিরোনামে। ইরার জানান, "ছাত্র বিক্ষোভ নিয়ে কোনও মাথাব্যথা নেই আমার, বিষয়টা কিন্তু সেরকম নয়। আমার মনে হয়েছে, এবিষয়ে আমার এমন কিছু বলার নেই যা চলতি আলোচনায় নতুন মাত্রা যোগ করতে পারে। তাছাড়া এই ঘটনা নিয়ে আমার মনে কোনও বিশেষ আবেগও কাজ করেনি। আমি আসলে সচেতনভাবেই সব ইস্যুতেই এমনটা করে থাকি। খবর সাধারণত দেখি না। সোশাল মিডিয়ায় 'এক্সপ্লোর' পেজ ঘাঁটিও না। এমনকী হিংসা বা বিক্ষোভের কোনও ভিডিও-ও আমি দেখিনি। কী ঘটছে? তার সবটাই জানি, কিন্তু আবেগী হয়ে নিজেকে জড়াতে চাই না।" কেন? নিজেই নেপথ্যের কারণ ব্যাখ্যা করলেন।
নেটভুবনের একাংশ প্রশ্ন তুলেছেন, 'এত কৌশলী জবাব দেওয়াও কি বাবা আমির খানের কাছেই শিখলেন?'
পড়ুয়াদের বিক্ষোভে পুলিশের লাঠিচার্জ।
আমিরকন্যা ইরা খানের সংযোজন, "এসব বিষয় আসলে আমাকে খুব বিচলিত করে। আমি মানসিকভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়ি এবং নিজেকে অসহায় মনে হয়। সিস্টেমের বাইরে থেকে কীভাবে সিস্টেমকে পরিবর্তন করা যায়? এসব ভাবনা আমাকে ঘিরে ধরে। এই তো সেদিন আমার এক তুতো ভাইকে পুলিশ আটক করেছে দেখে আমি ভীষণ আতঙ্কিত হয়ে পড়েছিলাম। তবে ও নিরাপদ, জানার পরই আমি আবার কাজে ফিরে যাই। ছাত্র আন্দোলন নিয়ে আমি কোনও মন্তব্য করিনি, কারণ আমার মনে হয়নি, আমার কথায় আলাদা কোনও প্রভাব পড়বে। তাই আমার নীরবতা নিয়েও যদি কেউ প্রশ্ন তোলেন, আপাতত আমি সেগুলিকে গুরুত্ব দিচ্ছি না। হ্যাঁ এটাও ঠিক যে, চোখ ফেরানো বা এড়িয়ে যাওয়ার প্রবণতা সবথেকে সুবিধের, কিন্তু এইমুহূর্তে আমার মূল্যবোধ ঠিক রেখে আমি কী করতে পারি? সেটাই বোঝার চেষ্টা করছি।" এহেন মন্তব্যের পরও সমালোচকদের হাত থেকে রেহাই পাননি ইরা। নেটভুবনের একাংশ প্রশ্ন তুলেছেন, 'এত কৌশলী জবাব দেওয়াও কি বাবা আমির খানের কাছেই শিখলেন?'
