shono
Advertisement
Mamata Banerjee

পুলিশ-আদালতের 'না', মিছিলে নাছোড় মমতার ধাক্কা মহিলা পুলিশকে! স্কুটিতে চেপে ছাড়লেন ঘটনাস্থল

মমতার সঙ্গে তীব্র বাকবিতণ্ডা বাধে পুলিশের। জমায়েতস্থল থেকে আটক করে প্রিজন ভ্যানে তোলা হয় কুণাল ঘোষ, বৈশ্বানর চট্টোপাধ্য়ায় সহ বহু মমতাপন্থী তৃণমূল নেতা-কর্মীদের।
Published By: Arpita MondalPosted: 04:45 PM Jul 25, 2026Updated: 06:11 PM Jul 25, 2026

ভোটে হেরেও ভেসে থাকার মরিয়া চেষ্টা ছাড়ছে না মমতাশিবির। দিল্লিতে নিট-প্রশ্ন ফাঁসের প্রতিবাদে 'ককরোচ' পার্টির সমর্থনে কলকাতায় মিছিলের পরিকল্পনা ছিল কালীঘাট তৃণমূলের। পুলিশের 'না' সত্ত্বেও শনিবার আদালতে ছোটেন মমতাপন্থীরা। কলকাতা হাই কোর্টেও মেলেনি অনুমতি। পুলিশ-আদালতের অনুমতি না পেয়েও আন্দোলনে নাছোড়বান্দা কালীঘাট তৃণমূল। শনিবার বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে নিজেদের নির্ধারিত সূচি মতোই পদ্মপুকুরে জমায়েত শুরু করেন তারা। পুলিশ প্রথম থেকে তাঁদের বাধা দিলেও কানে কথা তোলা হয়নি বলে অভিযোগ। বিকেল গড়াতেই পদ্মপুকুরে তৃণমূলের জমায়েতে উপস্থিত হন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee)। তারপরেই নাটকীয় মোড় নেয় গোটা পরিস্থিতি।

Advertisement

মিছিলের উদ্দেশে তৃণমূল কর্মীরা জড়ো হতে থাকেন। মমতা পৌঁছতেই শুরু হয় স্লোগান। পুলিশের তরফে বারবার তাঁদের এলাকা খালি করতে বলা হলেও, পালটা পুলিশের বিরুদ্ধে চড়াও হন তৃণমূল নেতা-কর্মীরা। এরপরই তৈরি হয় উত্তপ্ত পরিস্থিতি। জমায়েত ঠেকাতে পদ্মপুকুর থেকে আটক করা হয় তৃণমূল নেতা-কর্মীদের। কুণাল, বৈশ্বানর সহ বহু নেতাকে প্রিজন ভ্যানে তুলে লালবাজার নিয়ে যাওয়া হয়। মিছিলে পুলিশকর্মীরা বাধা দিতেই ক্ষোভ উগরে দেন মমতা। তিনি স্পষ্ট জানান, "জুলুমবাজি করে কণ্ঠরোধ করার চেষ্টা করছে বিজেপি সরকার। নিটের প্রশ্নফাঁসের প্রতিবাদে আমরা ছাত্রদের পাশি ছিলাম-ভবিষ্যতেও থাকব। কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান বাধ্য হয়েছেন ইস্তফা দিতে। ছাত্রদের আন্দোলনকে ভয় পেয়েছে। এরাজ্যেও আমাদের প্রতিবাদকে ভয় পেয়ে আটকে দেওয়া হচ্ছে। আমি চুপ করে থাকার লোক না।"

এদিন সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তর দেওয়ার সময়ে তাঁকে হস্তবন্ধন করে ঘিরে ছিলেন ডেরেক-দোলারা। তারপরেও মমতার মেজাজ সপ্তমে। আচমকাই এক মহিলাকর্মীকে ধাক্কা মারেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। কয়েকদিন আগেই কালীঘাটে বারুইপুরকাণ্ডের প্রতিবাদ-মিছিলে দলেরই এক কর্মীকে কষিয়ে চড় মারতে দেখা যায় তাঁকে। এদিন ফের মেজাজ হারিয়ে এক মহিলা পুলিশকর্মীকে ধাক্কা দেন। এরপরেই পুলিশ কর্মীদের সরিয়ে স্কুটিতে চেপে এলাকা ছাড়েন কালীঘাট তৃণমূলের নেত্রী। সঙ্গে বেশ কয়েকটি বাইক-স্কুটিতে রওনা দেন তৃণমূল কর্মীরা। প্রথমে তারা লালবাজারের উদ্দেশে যাচ্ছেন মনে করা হলেও, পরে রুট বদলে তৃণমূলের বাইক মিছিল ঘুরে যায় কালীঘাটের দিকে। অন্যদিকে কুণাল, বৈশ্বানরদের আটক করে লালবাজারে নিয়ে যেতেই সেখানে পৌঁছে যান ডেরেক ও'ব্রায়েন ও দোলা সেন। লালবাজারের গেটের বাইরে মোতায়েন করা হয় বিশাল পুলিশ বাহিনী। গেট ঠেলে তৃণমূল সাংসদ ভিতরে ঢোকার চেষ্টা করলে তাঁকে কার্যত ঠেলে সরিয়ে দেওয়া হয়।

প্রসঙ্গত, এদিন কলেজ স্ট্রিট থেকে ধর্মতলা পর্যন্ত মিছিলের পরিকল্পনা ছিল কালীঘাট তৃণমূলের। পুলিশের অনুমতি না পেয়ে আদালতের দ্বারস্থ হতে সেখানেও ধাক্কা খায় কালীঘাট তৃণমূল। কালীঘাট তৃণমূলের উদ্দেশে বিচারপতি অর্ক কুমার নাগ প্রশ্ন করেন, 'গতকাল আপনারা কেন বিক্ষোভে যোগ দেননি? আদালত পরিস্থিতিকে আর জটিল হতে দেবে না।' এরপরই বিচারপতি সাফ জানিয়ে দেন, 'বর্তমান পরিস্থিতি অনুকূল নয় এবং এই পর্যায়ে আদালত র‍্যালির অনুমতি দেবে না।' উল্লেখ্য, গতকাল কলকাতায় 'ককরোচ জনতা পার্টি' মিছিলে 'বহিরাগতদের জঙ্গিপনা'য় তুমুল বিশৃঙ্খলা পরিস্থিতি তৈরি হয়। শনিবারই বিধানসভায় দাঁড়িয়ে অভিযুক্তদের চিহ্নিত করে গুন্ডাদমন আইনে মামলা যুক্ত করে শাস্তির হুঁশিয়ারিও দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। উল্লেখযোগ্য ভাবে বলা যেতে পারে, 'ককরোচ'দের মূল দাবি মেনে শনিবার দুপুরে ইস্তফা দেন কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান। তারপরেও এরাজ্যের মমতাপন্থী বিরোধীদের আলোচনার ভেসে থাকার চেষ্টা! 'ফ্লপ শো' বলে কটাক্ষ শাসকশিবিরের।

Sangbad Pratidin News App

খবরের টাটকা আপডেট পেতে ডাউনলোড করুন সংবাদ প্রতিদিন অ্যাপ

হাইলাইটস

Highlights Heading
Advertisement