বৈষ্ণোদেবী তীর্থে গিয়ে একবার প্রবল দুর্ঘটনার কবলে পড়েন অক্ষয় কুমার। আচমকা ১০৪ জ্বর। অচেতন অবস্থায় কোনওমতে রক্ষা পান সেযাত্রায়। এবার নতুন সিনেমা মুক্তির প্রাক্কালে ফের বৈষ্ণোদেবীতে পুজো দিতে ছুটলেন অক্ষয় কুমার। খিলাড়ি বরাবরই ঈশ্বরে বিশ্বাসী। সময়-সুযোগ পেলেই মন্দির থেকে দরগায় ঢুঁ মারেন। এবার ফের একবার চর্চায় খিলাড়ির ধর্ম-কর্মের ঝলক।
খিলাড়ির কেরিয়ারে ফ্লপের ফাঁড়া যেন কিছুতেই কাটছে না! বিগত কয়েক বছরে একার লড়াইয়ে বক্স অফিসে নম্বর তুলতে অক্ষম অক্ষয় কুমার। গত পাঁচ বছরে হিটের মুখ পর্যন্ত দেখেননি! খিলাড়ি যে কেরিয়ারে বেশ দুঃসময়ের মধ্য দিয়ে যাচ্ছেন, সেটা তার সিনেমার ব্যবসার গ্রাফে চোখ রাখলেই বেশ বোঝা যাবে। তবে নিজের 'সিনেবাজার ফ্লপ' হলেও দমে যাননি খিলাড়ি। পরিবর্তে ফি বছর একাধিক সিনেমা উপহার দেন অভিনেতা। এবার অক্ষয়ের পাখির চোখ সফল সিনে ফ্র্যাঞ্চাইজি 'ওয়েলকাম টু দ্য জঙ্গল'- এর দিকে। আগামী ২৬ জুন মুক্তি পাচ্ছে বহু প্রতীক্ষিত এই সিনেমা। তার প্রাক্কালেই জম্মু-কাশ্মীরে গিয়ে বৈষ্ণোদেবীতে পুজো দিলেন খিলাড়ি। মন্দির চত্বর থেকে ভাইরাল হওয়া এক ভিডিওতে দেখা গেল, অভিনেতার পরনে সাদা পাঞ্জাবি-পাজামা। হাতে পুজোর সামগ্রী। কড়া নিরাপত্তাবলয় বেষ্টিত হয়ে মন্দিরের গর্ভগৃহের দিকে হাঁটতে দেখা গেল অক্ষয়কে। খিলাড়ি এহেন আধ্যাত্মিক সফরের ঝলক দেখে অনুরাগীরাও আসন্ন সিনেমার জন্য শুভেচ্ছা জানিয়েছেন।
বৈষ্ণোদেবী তীর্থে খিলাড়ি
"আচমকাই আমার শরীর খারাপ হয়ে যায়। প্রচণ্ড জ্বর আসে। প্রথমে ১০৩, তারপর সেটা বেড়ে ১০৪-এ দাঁড়ায়। গা পুডে় যাচ্ছিল জ্বরে! একটা সময়ে আমি জ্ঞান হারিয়ে ফেলি। সেসময়ে কাটরায় কর্তব্যরত এক চিকিৎসক আমাকে তড়িঘড়ি দিল্লিতে নিয়ে গিয়ে চিকিৎসা করানোর পরামর্শ দেন।..."
এপ্রসঙ্গে উল্লেখ্য, সিনেমা মুক্তি কিংবা কোনও শুভ কাজের প্রাক্কালে অক্ষয় কুমার একাধিকবার বৈষ্ণোদেবী তীর্থে গিয়েছেন। 'ভূত বাংলা' রিলিজের সময়ে এই বৈষ্ণোদেবীতে পুজো দেওয়া নিয়েই এক অনন্য অভিজ্ঞতার কথা ভাগ করে নিয়েছিলেন তিনি। অক্ষয় কুমার জানান, বৈষ্ণোদেবীর কাছে মানত করেই তাঁর মা-বাবা সন্তানলাভ করেছিলেন। খিলাড়ি কথায়, “সন্তানলাভের আশায় আমার মা-বাবা বৈষ্ণোদেবীতে গিয়ে পুজো দিয়েছিলেন। ঈশ্বরের কাছে তাঁরা প্রার্থনা করেছিলেন, আমাদের একটি সন্তান দিন, তবে সে যেন খানিক দুরন্ত প্রকৃতির হয়। তার ঠিক একবছর পরেই আমার জন্ম হল। তাই আমার মা-বাবা আবারও আমাকে নিয়ে বৈষ্ণোদেবী তীর্থে যাওয়ার মনস্থ করেন। তবে সেই আধ্যাত্মিক সফরে এক চরম অভিজ্ঞতা হয় আমার।” কীরকম? খিলাড়ির সংযোজন, “আচমকাই আমার শরীর খারাপ হয়ে যায়। প্রচণ্ড জ্বর আসে। প্রথমে ১০৩, তারপর সেটা বেড়ে ১০৪-এ দাঁড়ায়। গা পুডে় যাচ্ছিল জ্বরে! একটা সময়ে আমি জ্ঞান হারিয়ে ফেলি। সেসময়ে কাটরায় কর্তব্যরত এক চিকিৎসক আমাকে তড়িঘড়ি দিল্লিতে নিয়ে গিয়ে চিকিৎসা করানোর পরামর্শ দেন। কারণ তখনও সেখানকার চিকিৎসা পরিকাঠামো উন্নত ছিল না।” অক্ষয় জানান এই ঘটনা ১৯৬৯ সালের। সেসময়ে তিনি খুদে। কয়েক দশক বাদে র ‘ভূত বাংলা’র প্রচারে তীর্থকালীন সেই ভয়ংকর অভিজ্ঞতার কথাই ভাগ করে নেন অক্ষয় কুমার।
