সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক: অশান্ত মাতৃভূমি নেপাল। মুম্বইয়ে বিনিদ্র রজনী কাটাচ্ছেন ভূমিকন্যা মনীষা কৈরালা। জন্মলগ্ন থেকেই যে মেয়ে নেপালের রাজনীতির সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িত, যাঁর রক্তে রাজনীতি, সেই ভূমিকন্যে সম্প্রতি নেপালের অগ্নিগর্ভ পরিস্থিতি নিয়ে গর্জে উঠেছিলেন। এবার এক অতীত মন্তব্যের জেরে চর্চার শিরোনামে অভিনেত্রী।
ঠিক কী বলেন অভিনেত্রী? অতীতের এক ভিডিওতে মনীষা কৈরালাকে বলতে শোনা যায়, "আমাদের নেপাল হিন্দুরাষ্ট্র ছিল। এক এবং একমাত্র হিন্দু রাষ্ট্র হিসেবেই পরিচিত ছিল নেপাল। এবং আমাদের দেশে কোনওদিন ধর্ম নিয়ে মারামারি হয়নি। কখনও যুদ্ধ, খুনোখুনি দেখিনি। আমরা একটি শান্তিপূর্ণ হিন্দু রাষ্ট্র ছিলাম যেখানে কোনও সংঘাত নেই। কেন এটা নষ্ট করা হল। কেন জানি না আমার মনে হয়, ষড়যন্ত্র করে করা হয়েছে এটা। একমাত্র একতাই পারে এহেন পরিস্থিতি রুখতে।" ২০২২ সালে নেপালের ভোটের সময় ওই সাক্ষাৎকার দিয়েছিলেন মনীষা। বর্তমান অশান্ত পরিস্থিতিতে এবার অভিনেত্রীর সেই অতীত ভিডিও ভাইরাল। যেখানে নেপালকে 'হিন্দু রাষ্ট্র' বলে সম্বোধন করতে শোনা গিয়েছে তাঁকে। আর তার জেরেই বর্তমানে বিতর্ক দানা বেঁধেছে!
ভূমিকন্যের মন্তব্যে সায় দিয়ে একপক্ষের মত, 'অনেক বছর আগেই এই কথাগুলো মনীষা বলেছিলেন, যার অর্থ এখন বোঝা যাচ্ছে।' আরেকপক্ষের কটুক্তি, 'খোদ ভূমিকন্যার তরফে এহেন শব্দ জেন জি আন্দোলনকে লঘু করে দেয়!' সবমিলিয়ে নেটভুবনে চর্চার শিরোনামে মনীষা কৈরালার অতীত ভিডিও।
উল্লেখ্য, কাঠমান্ডুতে জন্মগ্রহণকারী মনীষা নেপালি রাজনীতিবিদ প্রকাশ কৈরালার কন্যা। তাঁর দাদা বিশ্বেশ্বর প্রসাদ কৈরালা ১৯৫৯ থেকে ১৯৬০ সাল পর্যন্ত নেপালের প্রধানমন্ত্রী ছিলেন। স্বভাবতই রাজনীতি মনীষার রক্তে। নেপালের মানুষদের নাড়ি তাঁর ভালোই জানা। তাই তো আন্দোলনকারী তরুণদের রক্তে ঝরায় উদ্বেগ, উৎকণ্ঠায় দিন কাটছে অভিনেত্রীর। গত সোমবার রাতে সোশাল মিডিয়ায় রক্তমাখা বুটজুতোর ছবি শেয়ার করে মনীষা কৈরালা লিখেছিলেন, ‘দুর্নীতির বিরুদ্ধে ক্ষোভ এবং ন্যায়বিচারের দাবিতে সরব হওয়া জনগণকে বুলেট মারফৎ উত্তর দেওয়া হচ্ছে! আজ নেপালের জন্য ব্ল্যাক ডে।’
